📄 অমুসলিমদের দাওয়াত দেয়া মানবতার দাবি
মানব থেকে মানবতা। প্রতিটি মানুষের মানবতার দাবি হলো, সে অন্য মানুষের উপকার করবে। কেউ যদি কোন বিপদে পড়ে তাহলে তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবে। আমরা জানি, প্রতিটি অমুসলিম মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী জাহান্নামী। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ
অর্থ: আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ী ভাবে থাকবে। তারা সৃষ্টির অধম।
প্রিয় পাঠক! আপনার প্রতিবেশী হিন্দু বা খ্রিস্টানদের বাড়িতে যদি আগুন লেগে যায়, তাহলে আপনি কি বসে থাকবেন? না আগুন নিভাতে যাবেন? অবশ্যই আগুন নিভাতে যাবেন। আল্লাহ না করুন, যদি কোন মুসলিম মহল্লায় আগুন লেগে যায়, তাহলে প্রতিবেশী অমুসলিম ভাইয়েরা কি বসে থাকবেন? না আগুন নিভাতে যাবেন? অবশ্যই আগুন নিভাতে আসবে। দেখুন! আমরা দুনিয়াতে ক্ষণস্থায়ী আগুন থেকে উদ্ধার করার জন্য কত সুন্দর মানবতার পরিচয় দিয়ে থাকি। কিন্তু একটু কি চিন্তা করেছি যে, দুনিয়ার আগুনে জ্বলে যদি কারো ত্বক নষ্ট হয়ে যায়, বা ঘর-বাড়ি পুড়ে ছারখার হয়ে যায়, তাহলে ঔষধ দ্বারা পুনরায় ত্বক ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পুড়ে যাওয়া বাড়ি থেকে উত্তম বাড়ি বানানো সম্ভব। কিন্তু যে ভাইটি ইসলাম গ্রহণ না করে চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, যার থেকে ফেরানো বা বাঁচানোর কোন পথ নেই, সেই চিরস্থায়ী আগুন থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য কি কখনো ভেবেছি?
প্রিয় পাঠক! আমাদের অনেক অমুসলিম বন্ধু আছেন, যাদের সাথে একত্রে চলা-ফেরা করি। একই অফিসে চাকরি করি। তাদের দোকান থেকে কেনা-কাটা করি। তাদের বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়াই। আমরা একথাও জানি, ঈমান না নিয়ে মৃত্যু এই ভাইটি মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী আগুনে জ্বলবে।
প্রিয় পাঠক! আমাদের কেমন মানবতা? আমার সামনে আমার এক ভাই বা বোন জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, কিন্তু কোন দিন এই ভাইটিকে বলিনি যে, ভাই! তুমি যে পথে চলছো এটা জাহান্নামের পথ। কোন দিন তাকে জান্নাতের পথ ইসলাম দেখাইনি। কেমন জানি তাকে আগুনে জ্বলতে দেখেও আমি চুপ হয়ে আছি। এটা আমাদের কেমন মানবতা? আর কতো দিন এভাবে দেখব? বলুন! এভাবে আর কত দিন বসে বসে তাদেরকে আগুনে ঝাঁপ দিতে দেখবো? চলুন, আর সময় নেই, আমার কাছে যদি সত্যিকার মানবতা থাকে, তাহলে আমার প্রতিবেশী অমুসলিমকে আগুনে জ্বলতে দেব না। আমাদের দায়িত্ব হলো তাকে জান্নাতের পথ দেখিয়ে দেয়া। মানা না মানা তার ব্যাপার। দাওয়াত পাওয়া তাদের অধিকার। গ্রহণ করা-না করা তাদের এখতিয়ার। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তাদের আমানত 'ইসলাম' তাদের পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়ে তাদেরকে চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচানোর মাধ্যম বানিয়ে নিন এবং আমাদের ওপর তিনি খুশি হয়ে যান। আমীন।
টিকাঃ
১. সূরা-বাইয়ি্যনাহ:৬
📄 অমুসলিমদের দাওয়াত দেয়ার ইসলামের বিধান কী?
এপর্যায়ে আমরা আলোচনা করবো অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়ার শরয়ী বিধান কি? ফরজে আইন, ফরজে কেফায়া, না সুন্নাত। নিম্নের আলোচনা থেকে আশা করি বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ফরজে আইন: অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতী কাজ ঐ সময় ফরজ হবে যখন কুফর বিজয়ী থাকবে, সত্য পরাজিত থাকবে, দা'ঈর সংখ্যা হবে নিতান্তই কম, মন্দকাজ হবে ব্যাপক, মূর্খতা ও অজ্ঞতা সর্বস্তরে বিরাজ করবে। এমতাবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে সাধ্যানুযায়ী অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াত ফরজে আইন।
সুন্নাত: অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতী কাজ ঐ সময় সুন্নাত হবে, যখন দা'ঈদের সংখ্যা থাকবে পর্যাপ্ত। দাওয়াতী সংঘঠন চতুরদিকে ছড়িয়ে পরবে। হক বিজয়ী থাকবে। বাতিল থাকবে পরাজিত। রাষ্ট্র নিজেই দাওয়াতী কাজ আঞ্জাম দিবে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের উপর দাওয়াতী কাজ করা সুন্নাত।
ফরজে কেফায়া: ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, অমুসলিম ভাই-বোনদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া ফরজে কেফায়া। অনেকে বলেছেন সাধ্যানুযায়ী ফরজে আইন। আমরা ফরজে কেফায়াই ধরে নিলাম। এবার আমাদের জানতে হবে ফরজে কেফায়া কাকে বলে? ফরজে কেফায়া বলা হয় এমন হুকুম বা কাজ, যা সকল মুসলমানের উপর ফরজ। তবে সকলের পক্ষ থেকে যদি কিছু মানুষ ওই কাজ আদায় করে দেয়, তাহলে সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তিপ্রাপ্ত হবে না। যদি আদায় না করো তাহলে সকলেই গুনাহগার হবে।
সাধারণত ফরজে কেফায়া বলতে আমরা জানাজার নামাযকে বুঝি। কাফন দাফনসহ জানাজার নামায সম্পূর্ণ করতে হলে কমপক্ষে চারজন লোকের প্রয়োজন। একজন ইমাম হলে, বাকি তিনজন মুক্তাদি। দাফনের জন্য কবরের উপরে থাকবে দু'জন। আর লাশটি কবরে নামানোর জন্য কবরে থাকবে দু'জন। মোট কথা, কাফন-দাফন সম্পন্ন হতে হলে মোট চারজন লোকের প্রয়োজন। তাহলে ফরজে কেফায়া আদায় হবে। যদি ফরযে কেফায়া আদায় না হয়, তাহলে ওই মহল্লার সকলেই গুনাহগার হবে এবং সমাপ্ত করার দায়িত্ব পড়বে পার্শ্ববর্তী সকল মুসলমানের উপর। যদি তারাও আদায় না করে, তাহলে পর্যায়ক্রমে সকল মুসলমান গুনাহগার হবে। তদ্রূপ অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো হলো ফরজে কেফায়া। প্রত্যেক অমুসলিমের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য এমন কিছু লোক থাকতে হবে। যাদের মাধ্যমে তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছে যায়। যদি সকলের কাছে দাওয়াত না পৌঁছে, তাহলে সকল মুসলমান গুনাহগার হবে।
জানাজার নামাযের সাথে মিলালে বোঝা যায়, প্রত্যেক এলাকায় কমপক্ষে চার জন ব্যক্তি এমন থাকতে হবে, যারা সর্বদা অমুসলিমদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিবে। যদিও চারজন দ্বারা দাওয়াতের ফরজে কেফায়া আদায় হবে না। প্রিয় পাঠক! এবার আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, আপনি বলুন তো দেখি! আপনার এলাকায় (আপনি যে অঞ্চলেরই হোন না কেন।) এমন চারজন ব্যক্তি আছে, যারা সর্বদা অমুসলিমদের দাওয়াত দিচ্ছেন? যদি এলাকায় না থাকে তাহলে আপনার পুরো জেলায় এমন চারজন মানুষ আছে কি, যারা সর্বদা সকল মুসলমানদের পক্ষ থেকে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দিচ্ছেন? যদি উত্তর 'না' হয়, তাহলে বলুন, আমরা কি ফরজে কেফায়া আদায় করছি? যদি আদায় না করে থাকি তাহলে আমরা কি গুনাহগার হচ্ছি না? অবশ্যই হচ্ছি। আর কতদিন এই ফরজে কেফায়া ছেড়ে দেয়ার গুনাহ মাথায় নিয়ে ঘুরবো? যদি কোন ব্যক্তি এককভাবে দাওয়াত দেয়ার চেষ্টা করতে থাকে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি নিজে গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। কিন্তু সমষ্টিগতভাবে সকলেই গুনাহগার হবে।
📄 জিম্মাদারী আদায়ের পদ্ধতি
দাওয়াতী কাজ যেহেতু আমাদের উপর ফরজ। এই কাজ আমাদের করতেই হবে। এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে করবো? সবাই কি একসাথে দাওয়াত দিবে? সাধ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী একেক জনের কাজের ধরণও ভিন্ন হবে। বিষয়টি বুঝার সুবিধার্থে কুরআন থেকে তিনটি উদাহরণ পেশ করছি। আল্লাহ তা'আলা সূরা নামলের মাঝে দুইটি প্রাণীর আলোচনা করেছেন।
পিপীলিকা: সুলাইমান (আ.)- এর ঘটনায় আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, সুলাইমান যখন সৈন্যদের নিয়ে যাচ্ছিলেন, পথে এক স্থানে পিপীলিকার দল গর্ত থেকে বাইরে বের হয়ে এসেছিল। পিপীলিকার রাণী যখন বুঝতে পারলো যে তারা সুলাইমান (আ.) এর সৈন্য দলের পায়ের নিচে পরে পিষ্ট হয়ে যাবে। তখন রাণী পিপীলিকার দলকে ডাক দিয়ে বললো তোমরা তোমাদের গর্তে প্রবেশ কর। অন্যথায় তোমরা সুলাইমান (আ.) এর সৈন্যের পদদলিত হয়ে পিষ্ট হয়ে যাবে। কুরআনে করীম পিপীলিকাদের রাণীকে দা'ঈ হিসাবে পেশ করেছে। কতো ছোট একটি প্রাণী! তার অন্তরে ছোট একটি ব্যথিত হৃদয়! তার মধ্যে নিজ জাতিকে বিপদ থেকে বাঁচানোর কতো ফিকির। সে কোন মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি নিজ জাতিকে বিপদ থেকে বাঁচানোর ফিকির করেছে। কিন্তু আমরা দেখছি আমাদের জাতি ঝাপ দিচ্ছে চিরস্থায়ী জাহান্নামের দিকে। প্রতি মুহূর্ত পা ফেলছে ধ্বংসের দিকে। এ ব্যাপারে আমাদের কোন ফিকির নেই।
হুদহুদ পাখি: আল্লাহ তা'আলা সূরা নামলে হুদহুদ পাখির ঘটনা আলোচনা করেছেন। হুদহুদ পাখি মুলকে সাবায় গেল। গিয়ে দেখল ওই দেশের রাণী বিলকিস এবং তার পুরো জাতি আল্লাহ তা'আলাকে ছেড়ে সূর্যের পূজা করছে। পাখি অস্থির হয়ে গেল। সে সরাসরি ওখানে লোকদের বুঝাতে পারলো না। কারণ তার ভাষা ভিন্ন, আর ওই দেশের ভাষাই ভিন্ন। পাখির ভাষা তারা বুঝতে পারতো না। সুলাইমান (আ.) পাখিদের ভাষা জানতেন। তাদের কথা বুঝতেন। তাই পাখি সুলাইমান (আ.) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে প্রতিবেশী দেশের খবর দিলো। বলল সেখানে শিরক হচ্ছে। ফলে আপনি দ্রুত কোন পদক্ষেপ নিন। সুলাইমান (আ.) হুদহুদের কথা শুনে খবরটি যাচাই-বাছাই করলেন। এরপর রাণী বিলকিসের কাছে দাওয়াতী পত্র পাঠালেন। এর ফলে রাণী বিলকিস ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়। একটি সাধারণ পাখির চেষ্টায় একটি দেশের রাণী ইসলাম কবুল করেছে। এর দ্বারা আমরা শিক্ষা অর্জন করতে পারি, আমরা যদি নিজে কোন কারণে দাওয়াতী কাজ না করতে পারি, তাহলে এমন লোককে এই কাজে নিয়োগ দেব, যে এই কাজ আঞ্জাম দিতে পারবে। আমরা যদি মাদ'উর ভাষা না বুঝি তাহলে মাদ'উর ভাষায় ইসলামী পুস্তিকা বই এবং কুরআন ইত্যাদি প্রকাশ করে বিতরণ করতে পারি।
আমাদের দেশে খ্রিস্টানরা বিভিন্ন বই পুস্তক বিতরণ করে। যেখানে সেখানে ইঞ্জিল বিতরণ করে। এসকেটি নামে ডাক যোগে বই ও প্রচারপত্র বিতরণ করে। এই কাজের জন্য তারা নির্দিষ্ট লোক নিয়োগ দিয়েছে। তারা এর জন্য চেষ্টা মেহনত চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সফলতাও অর্জন করছে। যা আমাদের করার ছিল তা আমরা করছি না। প্রিয় পাঠক! বলুন তো এ পর্যন্ত কয়জন অমুসলিমের কাছে কয়টি বই বা কুরআন বিতরণ করেছেন? নিজেরা সরাসরি দাওয়াত না দিতে পারলে কমপক্ষে বই পুস্তক বা পত্রের মাধ্যমে খুব সহজেই দাওয়াত দিতে পারি।
আসহাবে কাহাফের কুকুর: সূরা কাহাফে আল্লাহ তা'আলা আসহাবে কাহাফের কুকুরের দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। সেই সাত যুবক যুগের বাদশার সামনে হকের আওয়াজ উঁচু করেছিল। ফলে পুরো রাষ্ট্র তাদের দুশমন হয়ে যায়। তারা তাদের জাতি থেকে দূরে এক স্থানে এসে একটি পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেয়। তাদের সাথে ছিল একটি কুকুর, যা তাদের পাহারা দিচ্ছিলো। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, কেউ যদি নিজে দাওয়াতী কাজ না করতে পারে অন্যকে দিয়েও করাতে পারছে না তাহলে কমপক্ষে দা'ঈ ইলাল্লাহ্র সহযোগী ও পাহারাদারী হিসাবে কাজ করবে। দা'ঈদের প্রয়োজন মিটানোর চেষ্টা করবে।
দাওয়াত ফরজ হওয়ার ব্যাপারে দলিল হিসাবে যে সকল আয়াত পেশ করা হয় তার মধ্যে কয়েকটি নিম্নে পেশ করা হলো-
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّه
অর্থ: তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনবে।
قُلْ هَذِهِ سَبِিলِي أَدْعُو إِلَى اللهِ عَلَى بَصِيرَةِ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
অর্থ: বলে দিন এটাই আমার পথ। আমি জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই এবং আমার অনুসারীরাও। আল্লাহ পবিত্র, আমি অংশীবাদীদের (শিরককারীদের) অন্তর্ভুক্ত নই।
ইমাম গাজালী রহ. একস্থানে লিখেছেন, যদি কোন এলাকায় কোন কাফের মারা যান, তাহলে সকল মুসলিম জিজ্ঞাসিত হবে।
টিকাঃ
১. সূরা নামল-১৮
২. নামল ২০-৪০
৩. আলহামদুলিল্লাহ হিলফুল ফুযুল প্রকাশনী থেকে দাওয়াতী কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে আপনারা চাইলে সেখান থেকে সংগ্রহ করে অমুসলিমদের মাঝে বিতরণ করতে পারেন।
৪. আলে ইমরান-১১০
৫. ইউসুফ-১০৮
৬. কাসাস-৮৭
৭. তাওবা-১২২
📄 দাওয়াত দেয়ার দায়িত্ব কাদের?
অমুসলিমদের দাওয়াত দেয়ার দায়িত্ব প্রতিটি মুসলমানের। আমরা অনেকে মনে করি এই দায়িত্ব শুধু ওলামায়ে কেরামের। না ভাই! বরং এই দায়িত্ব সকল মুসলমানের। আল্লাহ তা'আলা বলেন- “তোমরা উত্তম জাতি তোমাদেরকে বের করা হয়েছে মানুষের জন্য”। কিন্তু এখানে বলেননি যে, হে ওলামায়ে কেরাম! তোমরা উত্তম জাতি। বরং এখানে সকল মুসলমানদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন-"আমার কাছ থেকে একটি বাক্য হলেও মানুষের কাছে পৌঁছে দাও।” এখানে বলা হয়নি, হে ওলামায়ে কেরাম! তোমরা পৌঁছে দাও। উপরে উল্লিখিত আয়াত ও হাদীস দ্বারা বুঝা যায় এই দায়িত্ব সকল মুসলমানের উপর অর্পিত হয়েছে। অতএব বোঝা গেল, আপনি ইঞ্জিনিয়ার হোন, আর ডাক্তার হোন, কৃষক হোন আর দিন-মজুর হোন, যেই হোন না কেন, আপনাকে নিজের আত্মশুদ্ধির চিন্তা করতে হবে এবং অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দিতে হবে। আল্লাহ তা'আলা অমুসলিমদের কাছে তাদের হক পৌঁছিয়ে দেয়ার তৌফিক দান করুন।
টিকাঃ
১. আলে ইমরান:১১০