📄 আল্লাহ কাদের ?
কোন অমুসলিম ভাইকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, বলুন তো আপনার স্রষ্টা বা মালিক কে? কেউ বলবেন ঈশ্বর, কেউ বলবেন ভগবান, কেউ বলবেন মালিক। মুসলমানরা বলবে আমাদের মালিকের নাম হলো আল্লাহ্। এই উত্তর কি সঠিক? আল্লাহ কি শুধু মুসলমানদের স্রষ্টা? না, তিনি হলেন সকল মানুষের স্রষ্টা ও মালিক। তারই ইবাদত করতে হবে। দেখুন, এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা কী বলেন- কুরআনে হাকীমে আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা তাঁর ইবাদতের হুকুম দিতে গিয়ে এরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থঃ হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পারবে।
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা (يا ايها الناس) (ইয়া আইয়্যুহান নাস) শব্দ ব্যবহার করেছেন। যার অর্থ, হে মানুষগণ! এখানে "الناس" (নাস) শব্দ দ্বারা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীতে আসবে, সকল মানুষ অন্তর্ভুক্ত। এখানে না আছে কোন যুগের শর্ত, না আছে কোন নির্দিষ্ট অঞ্চল। বরং আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষকে নির্দেশ দিচ্ছেন। হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সকল অমুসলিমরাও মানুষ। পৃথিবীর সাতশত ষাট কোটি মানুষের সকলেই মানবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সাতশত ষাট কোটি মানুষ সকলেই কি আল্লাহকে মানে? সকলেই কি আল্লাহর ইবাদত করে? অথবা কমপক্ষে সকলের এতটুকু কি জানা আছে যে, আমাদেরকে এক আল্লাহ্রই ইবাদত করতে হবে? যদি উত্তর 'না' হয় তাহলে কোন মুসলমানের পক্ষ থেকে অমুসলিম ভাইদের কাছে কি এ কথা পৌঁছানো হয়েছে? অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর দায়িত্ব কার? অবশ্যই মুসলমানদের। আমরা কি তাদের কাছে এই দাওয়াত পৌঁছিয়েছি? কখনও কি অমুসলিম ভাইকে বলেছি? ভাই! আপনার মালিক হলেন আল্লাহ্, তাকেই মানতে হবে। মুসলমানের উচিত, তারা সকল মানুষের কাছে আল্লাহর পয়গাম ও দাওয়াত পৌঁছিয়ে দেবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তৌফিক দান করুন।
মুহাম্মাদ (সা.) কাদের নবী?
কোন অমুসলিমকে যদি প্রশ্ন করা হয়, বলুন তো! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদের নবী? তারা বলবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের নবী। এমনিভাবে মুসলমানদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, বলুন তো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদের নবী? তখন তারা বলবে তিনি তো আমাদেরই নবী। এই উত্তরগুলো কি সঠিক? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি শুধু মুসলমানদেরই নবী? চলুন আমরা কুরআনে হাকীমকে জিজ্ঞাসা করি, কুরআন এ ব্যাপারে কী বলে? কুরআনে হাকীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
অর্থ: বলে দাও, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ্ প্রেরিত রাসূল, সমগ্র আসমান ও জমিনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর ওপর, তাঁর প্রেরিত উম্ম্মী নবীর ওপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহ্ এবং তাঁর সমস্ত কালামের ওপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।
আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতে النَّاسُ 'মানুষ' শব্দ ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন, ইয়াহুদী ইত্যাদি, সকলেরই নবী হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কারণ তারা সকলেই মানুষ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি জানে বা মনে করে যে, হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরও নবী? না, কখনও না। তারা জানে না। জানবে কীভাবে? তারা তো কুরআন পড়ে না। মুসলমানরা কুরআন পড়ে। কিন্তু আমরা কোন দিন কোন অমুসলিমকে বলি নি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরও নবী। এর জন্য অপরাধী হলাম আমরাই।
উপরিউক্ত আয়াতে লক্ষ করলে আরো একটি বিষয় দেখতে পাওয়া যায়। এখানে جَمِيعًا শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যার অর্থ হলো 'সবাই'। এখানে বিশেষভাবে মুসলমানদেরকে সম্বোধন করে কোন শব্দ প্রয়োগ করা হয়নি। অতএব, আমাদের জন্য উচিত, আমরা নিজেরা ভুল ধারণা পোষণ করবো না এবং অন্য মানুষের ভুলটি ভাঙিয়ে দিবো। চলুন, আমরা সকল মানুষের কাছে এই পয়গাম পৌঁছিয়ে দেই। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তাদের হক আদায় করার তৌফিক দান করুন।
টিকাঃ
১. বাকারা-২১
২. আ'রাফ: আয়াত: ১৫৮
📄 কুরআন কাদের?
কুরআন সম্পর্কে আমাদের মাঝে একটি বড় ভুল ধারণা রয়েছে। কোন হিন্দু ভাইকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, বলুন তো কুরআন কাদের গ্রন্থ? উত্তরে তারা বলবে এটা মুসলমানদের গ্রন্থ। আমাদের গ্রন্থ হলো গীতা, রামায়ন, ইত্যাদি। খ্রিস্টান ভাইয়েরা এমন প্রশ্নের উত্তরে বলবে আমাদের কিতাব হলো বাইবেল। আর কুরআন হলো মুসলমানদের কিতাব। ঠিক কোন মুসলমানকে যদি প্রশ্ন করা হয়, বলুন তো কুরআন কাদের জন্য? তাহলে মুসলমানরাও বলবে, কুরআন আমাদের জন্য। চলুন কুরআনকে জিজ্ঞাসা করি, কুরআন এ ব্যাপারে কি বলে, আল্লাহ তা'আলা বলেন-
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ
অর্থ: রমযান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।
উক্ত আয়াতে প্রতি লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই, هُدًى لِلنَّاسِ (সমগ্র মানব জাতির জন্য হেদায়েত) বলা হয়েছে। তাতে শুধু মুসলমানদেরকে সম্বোধন করে বলা হয়নি যে, তা কেবল তোমাদের জন্য পথ প্রদর্শক। অতএব, আমরা যদি মনে করি যে, আল-কুরআন শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ, তাহলে তা হবে নিছক ভুল ধারণা। আবার একই প্রশ্ন উঠবে পৃথিবীর সকল অমুসলিম তারা কি জানে এই কিতাব তাদের জন্য পথ পদর্শক? এর উত্তরে আপনি নিজেই বলবেন অবশ্যই তারা জানে না।
কুরআন নাজিলের উদ্দেশ্য হলো সকল মানুষের হেদায়েত। শুধু মুসলমানের হেদায়েতের জন্য অবতীর্ণ হয়নি। আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষকে তার ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু শুধু ২০ ভাগ মানুষ মুসলমান এবাদত করবে? এমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ার সকল মানুষের জন্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু মাত্র ২০ ভাগ মানুষ তার ওপর ঈমান আনে। ঠিক কুরআন আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষের জন্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু এর অনুসারী মাত্র ২০ ভাগ। বাকি ৮০ ভাগ অমুসলিম তাদের এটাও তো জানা নেই যে, আল্লাহ তাদের প্রতিপালক। তাদেরকে আল্লাহ্রই ইবাদত করতে হবে। এও জানে না যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরও নবী। কুরআন তাদের হেদায়েতের জন্য এসেছে এটাও তাদের জানা নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, আল্লাহ তা'আলা কি ৮০ ভাগ অমুসলিমদের জন্য আরো কোন ধর্ম পাঠাবেন? তাদের জন্য কি আরো কোন রাসূল আসবেন? না, কখনও না। কারণ আল্লাহ তা'আলার নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আল্লাহ্র শেষ রাসূল। তার পরে আর কোন নবী- রাসূল আসবেন না। ওহীর ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে গিয়েছে। আর নতুন কোন কিতাব তো আসার প্রশ্নই আসে না। এখন দেখতে হবে ৮০ ভাগ অমুসলিমদের কাছে আল্লাহর পয়গাম পৌঁছানো এবং তাদেরকে আল্লাহ্র দিকে দাওয়াত দেওয়ার দায়িত্ব কাদের? আল্লাহ তা'আলা কি মুসলমানদেরকে শুধু মুসলমানদের এসলাহের জন্যই পাঠিয়েছেন? নাকি অমুসলিমদের পর্যন্ত ইসলাম পৌঁছিয়ে দেয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন?
টিকাঃ
১. বাকারাহ: আয়াত: ১৮৫
📄 মুসলমান কাদের জন্য?
সাধারণ মুসলমানদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, আমরা কাদের জন্য? তাহলে অনেকেই বলেন, আমরা আল্লাহর জন্য। এই উত্তরটিও সঠিক তার অবস্থান থেকে। সমষ্টিগতভাবে আমরা হলাম সকল মানুষের জন্য। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সকল মানুষের জন্য বের করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ
অর্থ: তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, তোমাদেরকে বের করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। তোমরা মানুষকে সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ কর।
এই আয়াতে মধ্যে আল্লাহ তা'আলা النَّاسُ 'মানুষ' শব্দ ব্যবহার করেছেন। নিশ্চয়ই অমুসলিমরাও মানুষ। মুসলিম জাতিকে শুধু মুসলমানদের জন্য পাঠাননি বরং সকল অমুসলিমদের জন্যও পাঠিয়েছেন। বিশ্বের মানুষকে আল্লাহ তা'আলা দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। (১) خَيْرُ امَّةِ 'উত্তম জাতি' বলে সম্বোধন করেছেন। (২) الناس 'মানুষ'। অর্থাৎ মুসলমানদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আর পৃথিবীর সকল অমুসলিম “মানুষ” এর জন্য। বিশভাগ মুসলমান হলো خَيْرَ امَّةِ 'উত্তম জাতি'। আর বাকি সকল অমুসলিম মানুষকে الْمَعْرُوْفِ সৎকাজের আদেশ করবে এবং الْمُنْكَرِ অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবে।
এই আয়াতে একটি সূক্ষ্ম বিষয় বোঝা যায়। তা হলো উম্মতের দায়িত্বকে ঈমানের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। জিম্মাদারি দুই প্রকার। (১) ব্যক্তিগত জিম্মাদারি। (২) সমষ্টিগত জিম্মাদারি। ব্যক্তিগত দায়িত্বে আল্লাহ তা'আলা নিজের হককে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ। কিন্তু যেখানে সমষ্টিগত দায়িত্বের কথা আলোচনা করা হয়েছে, সেখানে বান্দার হককে প্রাধান্য দিয়েছেন। উপরিউক্ত আয়াতে আমরা দেখতে পাচ্ছি- উম্মত যেন জাতীয় দায়িত্বের কথা চিন্তা করতে গিয়ে এ ধোঁকায় না পড়ে যে, এটা তো আমার কাজ নয়, আমার দায়িত্ব নয়। এর দ্বারা জাতীয় দায়িত্বের অনুভব হয়।
উল্লিখিত আয়াতে তাফসীরে মুফাস্সিরগণ লিখেছেন- خَيْرُ امَّةِ উত্তম জাতি হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত। (১) اَمْرٌ بِالْمَعْرُوْফِ সৎকাজের আদেশ। (২) نَهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ অসৎকাজের নিষেধ। (৩) ایمان بالله আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা। একটু ভাবুন, আমরা কি এই তিনটি শর্তের ওপর আমল করছি? যদি উত্তর নেতিবাচক হয়, তাহলে আমরা কি উত্তম জাতি? যদি উত্তর 'না' হয়, তাহলে এই জাতিকে উত্তম জাতি বানানোর ফিকির করতে হবে কি-না? এই জন্য আমাদেরকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করতে হবে। এবং সকল মানুষকে ইসলাম ধর্মের দাওয়াত দিতে হবে। যদি আমরা এই জিম্মাদারি আদায় না করি, তাহলে আমাদের ওপর আসতে পারে আল্লাহর কঠিন শাস্তি।
মোটকথা, মুসলমানদের কাজ হলো, সকল মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে দাওয়াত দেয়া। মুসলমানরা তাদের সামনে কুরআন ও নবীজীর পরিচয় তুলে ধরবে। আর ইসলামের পরিচয় করিয়ে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেবে। আল্লাহ্র দরবারে দু'আ করি, তিনি যেন উম্মতকে তার জিম্মাদারির হক আদায় করার তৌফিক দান করেন। আমিন!
টিকাঃ
১. আলে ইমরান-১১০
📄 অমুসলিমদের দাওয়াত দেয়া মানবতার দাবি
মানব থেকে মানবতা। প্রতিটি মানুষের মানবতার দাবি হলো, সে অন্য মানুষের উপকার করবে। কেউ যদি কোন বিপদে পড়ে তাহলে তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবে। আমরা জানি, প্রতিটি অমুসলিম মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী জাহান্নামী। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ
অর্থ: আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ী ভাবে থাকবে। তারা সৃষ্টির অধম।
প্রিয় পাঠক! আপনার প্রতিবেশী হিন্দু বা খ্রিস্টানদের বাড়িতে যদি আগুন লেগে যায়, তাহলে আপনি কি বসে থাকবেন? না আগুন নিভাতে যাবেন? অবশ্যই আগুন নিভাতে যাবেন। আল্লাহ না করুন, যদি কোন মুসলিম মহল্লায় আগুন লেগে যায়, তাহলে প্রতিবেশী অমুসলিম ভাইয়েরা কি বসে থাকবেন? না আগুন নিভাতে যাবেন? অবশ্যই আগুন নিভাতে আসবে। দেখুন! আমরা দুনিয়াতে ক্ষণস্থায়ী আগুন থেকে উদ্ধার করার জন্য কত সুন্দর মানবতার পরিচয় দিয়ে থাকি। কিন্তু একটু কি চিন্তা করেছি যে, দুনিয়ার আগুনে জ্বলে যদি কারো ত্বক নষ্ট হয়ে যায়, বা ঘর-বাড়ি পুড়ে ছারখার হয়ে যায়, তাহলে ঔষধ দ্বারা পুনরায় ত্বক ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পুড়ে যাওয়া বাড়ি থেকে উত্তম বাড়ি বানানো সম্ভব। কিন্তু যে ভাইটি ইসলাম গ্রহণ না করে চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, যার থেকে ফেরানো বা বাঁচানোর কোন পথ নেই, সেই চিরস্থায়ী আগুন থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য কি কখনো ভেবেছি?
প্রিয় পাঠক! আমাদের অনেক অমুসলিম বন্ধু আছেন, যাদের সাথে একত্রে চলা-ফেরা করি। একই অফিসে চাকরি করি। তাদের দোকান থেকে কেনা-কাটা করি। তাদের বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়াই। আমরা একথাও জানি, ঈমান না নিয়ে মৃত্যু এই ভাইটি মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী আগুনে জ্বলবে।
প্রিয় পাঠক! আমাদের কেমন মানবতা? আমার সামনে আমার এক ভাই বা বোন জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, কিন্তু কোন দিন এই ভাইটিকে বলিনি যে, ভাই! তুমি যে পথে চলছো এটা জাহান্নামের পথ। কোন দিন তাকে জান্নাতের পথ ইসলাম দেখাইনি। কেমন জানি তাকে আগুনে জ্বলতে দেখেও আমি চুপ হয়ে আছি। এটা আমাদের কেমন মানবতা? আর কতো দিন এভাবে দেখব? বলুন! এভাবে আর কত দিন বসে বসে তাদেরকে আগুনে ঝাঁপ দিতে দেখবো? চলুন, আর সময় নেই, আমার কাছে যদি সত্যিকার মানবতা থাকে, তাহলে আমার প্রতিবেশী অমুসলিমকে আগুনে জ্বলতে দেব না। আমাদের দায়িত্ব হলো তাকে জান্নাতের পথ দেখিয়ে দেয়া। মানা না মানা তার ব্যাপার। দাওয়াত পাওয়া তাদের অধিকার। গ্রহণ করা-না করা তাদের এখতিয়ার। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তাদের আমানত 'ইসলাম' তাদের পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়ে তাদেরকে চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচানোর মাধ্যম বানিয়ে নিন এবং আমাদের ওপর তিনি খুশি হয়ে যান। আমীন।
টিকাঃ
১. সূরা-বাইয়ি্যনাহ:৬