📄 পরিশিষ্ট
এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা৷ তিনিই ইশ্বর। তিনিই ভগবান। মানুষের হেদায়াতের জন্য তিনি অসংখ্য দূত পাঠিয়েছেন। যাদেরকে নবি-রাসুল বলা হয়। শুধু ইসলামই নয়; ইহুদি, খ্রিস্টানসহ পৃথিবীর সম্ভ্রান্ত সকল ধর্মের বিশ্বাস মতেই আল্লাহ তাআলা মানুষের হেদায়াতের জন্য ঐশী দূত প্রেরণ করেছেন।
কিন্তু মানুষ যখন সৃষ্টিকর্তা ও তাঁর প্রেরিত ঐশী দূতের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যায়; তখনই ধর্মকে নিজেদের মনগড়া পদ্ধতিতে সাজাতে শুরু করে৷ আর তখনই মানুষ নানাবিধ ভুল করে বসে।
ইসলামের শিক্ষা হলো, আল্লাহ এক ও একক। তিনি নিরাকার। তাঁর কোনো শরীক নেই। তাঁর কোনো স্ত্রী, সন্তান নেই। তিনি সকল ধরণের মানবিক গুণাবলি থেকে পবিত্র। কারণ, মানুষ একটি দুর্বল প্রাণী। সৃষ্টিকর্তা মানুষের আকৃতি ধারণ করলে, মানবীয় দুর্বলতায় গুণান্বিত হওয়া আবশ্যক হয়৷ তখন সৃষ্টিকর্তার জন্ম, মৃত্যু সাব্যস্ত করতে হয়৷ যা কখনোই একজন সৃষ্টিকর্তার শানে মানায় না। কারণ, মানবীয় এসব দুর্বল গুণে গুণান্বিত হলে মানুষ সৃষ্টি ও জগত পরিচালনার মতো এতো বড় কাজ কখনোই সম্ভব হতে পারে না। বরং এর জন্য তো অনেক ঊর্ধ্বের গুণাবলিতে গুণান্বিত হতে হবে৷ এই জন্যই কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, তাঁর আকার ও আকৃতি মানুষের ধ্যান-ধারণা এবং সকল প্রকার বর্ণনার ঊর্ধ্বে। সুরা সাফফাত, আয়াত- ১৫৯, সুরা ইসরা, আয়াত- ৪৩ সৃষ্টিকর্তা এক ও একক৷ তাঁর কোনো শরিক নেই। জগত পরিচালনায় না কেউ তাঁর অংশীদার। না এর জন্য তাঁকে কোনো মানুষের সাহায্য নিতে হয়। বরং তিনি এমন এক মহাশক্তি যে, সকল শক্তিই তাঁর সূক্ষ্ম ইশারায় চলে। এ পৃথিবীর একাধিক সৃষ্টিকর্তা থাকলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতো। কারণ, এক সৃষ্টিকর্তা এক আদেশ দিবে তো আরেকজন দিবে ভিন্ন নির্দেশ। এভাবে জগত সংসার এক মুহূর্তও টিকতে পারবে না। আমাদের দুনিয়াবি কোনো রাষ্ট্রে একাধিক বাদশাহ থাকা সম্ভব না হলে এ মহাজগত পরিচালনায় একাধিক বাদশাহ কীভাবে সম্ভব? বরং বিশাল এ বিশ্ব পরিচালনা এক মহান সৃষ্টিকর্তার অধিনেই হচ্ছে, এটাই বুদ্ধিমানের বিশ্বাস করা উচিৎ। বাকি পৃথিবীর অন্য সকল ক্ষুদ্র শক্তিরা সেই মহান আল্লাহর ইশারাতেই পরিচালিত। যে পরিচালনায় অন্য কেউ শরিক হতেই পারে না।
তাই আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করলে তিনি কখনোই তাকে ক্ষমা করবেন না। হ্যাঁ, তবে, নবি- রাসুলগণ সকল প্রকার খারাপ ও মনোবৃত্তির গুণাবলি থেকে পবিত্র থাকেন। তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা ঐশী বাণী প্রেরণ করেন। তারা মানুষকে এক আল্লাহর উপাসনার দিকে আহ্বান করেন। এই বিশ্বাস ও ধ্যান- ধারণাই ইসলাম শিক্ষা দেয়।
ইসলাম ধর্ম একটি সার্বজনীন জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম পৃথিবীর সকল জাতি, গোত্র, বর্ণ, আরব- অনারব, সাদা-কালো, ধনী-গরিব সকলের জন্যই প্রেরিত ধর্ম। ইসলামে কোনো বর্ণ-বৈষম্য নেই। না ছিলো এবং না আছে। আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম। ইসলাম ধর্মের অনুসারী প্রত্যেক ব্যক্তিই আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী। কুরআন অবিকৃত, নিখুঁত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। ইহকালীন জীবনে মানব সমাজে ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে জীবন পরিচালনার ব্যবস্থাপত্র এবং হাশর- কেয়ামত তথা মৃত্যু পরকালীন জীবনের মুক্তির পথ কুরআন। কারিমে বর্ণিত হয়েছে। ইসলাম ব্যতীত পৃথিবীতে প্রচলিত যতো ধর্ম রয়েছে সেগুলোর প্রত্যেকটিই বিকৃত, অপূর্ণাঙ্গ এবং বাতিল। পৃথিবীর শুরু থেকে নিয়ে আজও পর্যন্ত যে সকল সত্যান্বেষী মানুষজন তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন, ইতিহাস বলে ইসলামের সৌন্দর্যবোধ তাদেরকে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে সচেতন জ্ঞানীগণ ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছেন এমন ব্যক্তিদের সংখ্যা মোটেও কম নয়। ইসলামই সর্বশেষ অবশ্য পালনীয় মুক্তি ও শান্তির একমাত্র ধর্ম। হিন্দু, খৃস্টান ধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্বে সৃষ্টি হলেও ইসলামই সৃষ্টিকর্তার শেষ মনোনীত ও আবশ্যকীয় ধর্ম। ইসলাম তার পূর্বের সকল ধর্মকে রহিত করে দিয়েছে। ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম। আমাদের উচিৎ এ সত্যকে জানা। সত্যের পথে চলা। পথহারা মানুষকে সত্য, সুন্দর ও সার্বজনীন এ দ্বীনে ইসলামের সন্ধান দেয়া। সর্বপরি সবাই মিলে এক অদ্বিতীয় আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস স্থাপন করা। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন!