📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 শিবধর্ম

📄 শিবধর্ম


প্রাচীন যুগ থেকে হিন্দুদের সাথে এই সম্প্রদায়ের সম্পর্ক পাওয়া যায়। এর প্রভাব মহেঞ্জেদারো এবং হরপ্পার জীবনীতেও দেখা যায়। এদের মূল শিক্ষা শিব এবং তার স্ত্রী কালী মা’র উপাসনা করা। লিঙ্গ পূজা বলা হয় সেটিকে। শিবের উপাসনার জন্যে মানুষ এবং জীবজন্তু উভয়টির মূর্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এই সম্প্রদায়ের উপাসনার পদ্ধতি হলো, লোকেরা শরীরে ছাই মেখে সাংস্কৃতিক নৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে এবং ঘণ্টি দ্বারা শব্দ করতে থাকে। এ প্রথাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু ধর্মীয় শ্রেণীই পালন করে থাকে। সাধারণ মানুষ এতে অংশগ্রহণকে সৌভাগ্যের বিষয় মনে করে। এ সম্প্রদায়ে এমন কিছু লোকজনও ছিলো, যারা মৃত ব্যক্তিকে আগুনে না পুড়ে সম্মানের সাথে দাফন করতো এবং গোশত ভক্ষণকে বৈধ মনে করতো। তবে, তারা স্বাধীন যৌনাচারের সমর্থনকারী ছিলো।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 শক্তি ভক্ত

📄 শক্তি ভক্ত


সংখ্যার বিচারে হিন্দুদের মধ্যে এ সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এরা সৃষ্টিকর্তাকে মায়ের মতো মনে করে। এদের পৃথক নির্দিষ্ট কোনো বিশ্বাস নেই। তাদের দর্শন হলো, তারা আত্মাকে পুংলিঙ্গ এবং প্রত্যেক জিনিসের মূল বিষয়কে স্ত্রীলিঙ্গ বলে মান্য করে। হিন্দু ধর্মের প্রসিদ্ধ পণ্ডিত শঙ্কর আচার্য এবং স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬৩- ১৯০২ খ্রি.) এ সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 স্মৃতিধর্ম

📄 স্মৃতিধর্ম


হিন্দুধর্মের বড় একটি সংখ্যার স্মৃতিধর্মের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্মৃতিধর্ম দ্বারা উদ্দেশ্য ঐসকল চিন্তা- চেতনা লালনকারী লোকজন যারা কোনো সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ততা রাখেন না। আর না নিজেদেরকে কোন দেবতার সাথে সম্পৃক্ত। মনে করেন। তারা হলেন দেবতাদের উপাসনার ব্যাপারে ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রবক্তা। অর্থাৎ একজন হিন্দু তার স্বাধীনতা অনুযায়ী যে কারও উপাসনা করতে পারবে। উক্ত ঘরানার লোকজন নিজেদেরকে বড় একজন হিন্দু সংস্কারক আদি শঙ্কর এর দিকে সম্বন্ধ যুক্ত করে থাকে। তার মতে হিন্দুধর্ম হলো এমন একটি ধর্ম যেখানে সৃষ্টিকর্তাকে যে কোনো পদ্ধতিতে পূজা করা যায়। বর্তমান সময়ে শিক্ষিত হিন্দুদের অনেকেই এই মতের সাথে একমত পোষণ করে। স্মৃতি ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত লোকজন স্মৃতি বিষয়ে প্রণীত সবগুলো গ্রন্থকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 আর্য সমাজ

📄 আর্য সমাজ


ভারতে মুসলিম জাগরণের পর হিন্দুধর্মে যে সংস্কার আন্দোলন শুরু হয় এর মধ্যে একটি হলো আর্য সমাজ। এই সম্প্রদায় বর্তমান যুগে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। হিন্দুদের মধ্যে যদিও উক্ত সম্প্রদায় সংখ্যায় অনেক কম। তথাপি এটি একটি প্রভাব বিস্তারকারী দল।

আর্য জাতি অবতার বিশ্বাসের বিষয়টি কঠিনভাবে অস্বীকার করে থাকে। তাদের মতানুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণের মতো ভালো মানুষেরও ধর্মের প্রতিষ্ঠার জন্যে পুনর্জন্ম লাভ করার ইচ্ছে হয়েছে। সুতরাং গীতায় তার বর্ণনা থাকা স্বাভাবিক। শ্রীকৃষ্ণকে অবতারের প্রবক্তারা মূলত তার সম্পর্কে অজ্ঞ এবং বেদের সঠিক জ্ঞান নেই তাদের।

এমনিভাবে আর্যরা মূর্তি পূজা এবং শ্রেণী বৈষম্যেরও বিরোধিতা করে একত্ববাদ এবং সমতার দিকে আহ্বান করতে থাকেন। তাদের শ্লোগান হলো, সত্যিকার বৈদিক ধর্মের প্রতি ফিরে এসো। স্বামী দয়ানন্দ স্বরস্বতী বেদের অনুবাদ এবং ব্যাখ্যা গ্রন্থও রচনা করেন। তবে, তার সময়ে অধিকাংশ হিন্দু পণ্ডিতগণ তার বিরোধিতা করেছিলো। কিন্ত এখন আবার অনেকে এগুলো গ্রহণযোগ্য মনে করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00