📄 দেওয়ালি
দেওয়ালি শব্দের অর্থ হলো দীপাবলি। আলোর সারি। এটি হিন্দুদের একটি অনুষ্ঠান যেটি হিন্দি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কার্তিক মাসের পনেরো তারিখে পালন করা হয়। দীপাবলি অর্থ হলো প্রদীপের সমষ্টি বা আলোর উৎসবও বলা হয়। এই অনুষ্ঠানে হিন্দুরা কোনো নদী বা পুকুরে গোসল করে নতুন কাপড় পরিধান করে। এবং মান্নত করে থাকে। প্রদীপের সাথে উৎসব মুখর পরিবেশে আতশবাজি চলতে থাকে। বিভিন্ন অঞ্চলের লোকেরা নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের দেবতাদের পূজা করতে থাকে। এবং সবাই মিলে জুয়া খেলে। হিন্দুদের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এটি। কিন্তু উৎসবের শুরু ও ভিত্তি নিয়ে হিন্দু পণ্ডিতদের মাঝে অনেক মতবিরোধ রয়েছে। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিশ্বাস হলো, শ্রীকৃষ্ণ রামচন্দ্র চৌদ্দ বছর পরে রাবণকে মেরে নিজ শহর অযোধ্যায় ফিরেন। তখন সেখানকার লোকেরা খুশিতে আলো জ্বালিয়ে উৎসবে মেতেছিলো। এর স্বরণেই মূলত দেওয়ালি পালন করা হয়।
📄 হোলি (holi)
হোলি হিন্দুধর্মের জনসাধারণের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব হিন্দি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ফাল্গুন মাসের পনেরো তারিখ পূর্ণিমার সময়ে পালন করা হয়। রংয়ের এ উৎসব দু' দিন পালন করা হয়। এই দু' দিন হিন্দুরা একে অন্যের উপর রং ছিটিয়ে আনন্দ উদযাপন করে। রং ছিটানো এবং গান, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদির পর গোসল করে নতুন জামা কাপড় পরিধান করে একে অন্যের বাসায় কুশল বিনিময় করতে যায়। কোলাকুলি এবং মিষ্টি মুখ করে আনন্দ ভাগাভাগি করে থাকে।
সেদিন তাদের অধিকাংশ বাসার আঙিনায় রং ছিটানো হয়। কেউ ছিটাতে না চাইলেও অন্যরা জোড় করে রং লাগিয়ে দেয়৷ এভাবে রংয়ের দ্বারা অনেক কিছু ক্ষতিগ্রস্তও হয়।
অনুষ্ঠানগুলোতে বিশেষ গুরত্বের সাথে গাঁজা সেবনেরও ব্যবস্থা করা হয়। পুরো ভারত জুড়ে নানান নামে এই উৎসবের আয়োজন হয়। এসব কিছুই নাকি তাদের ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত।
হোলি ভারতের অনেক প্রাচীন একটি উৎসব। সে তুলনায় এর ঐতিহাসিক শক্তিশালী বর্ণনা একদম কম। ঐতিহাসিকদের মতে পূর্ব ভারতে আর্যরা এই উৎসব পালন করতো। হিন্দু ধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলোতে এ প্রথার সুস্পষ্ট আলোচনা পুরাণে পাওয়া যায়। পুরাণে এটিকে রংয়ের উৎসব বলা হয়েছে। কিন্তু এ উৎসবের ব্যাপারে অনেক কাহিনীও বর্ণিত হয়েছে। লোক সাধারণে দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুরের কাহিনিটি প্রসিদ্ধ৷ সে সৃষ্টিকর্তার নাম উচ্চারণ এবং তাঁর উপাসনা করতে বারণ করেছিলো। তখন এই অত্যাচারী দৈত্যের ভয়ে লোকজন তারই উপাসনা করা শুরু করে। যেখানে তার ছেলে একজন ধার্মিক এবং সৃষ্টিকর্তার জন্যে প্রাণ উৎসর্গকারী ছিলো। সে তার পিতার বিরোধিতা করে এবং আদেশ মানতে অস্বীকার করে।
হিরণ্যকশিপু পুত্রের ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হলো, এমনকি তাকে কঠিন শাস্তি দেয়ার হুকুম জারি করলো। কিন্তু ধার্মিক লোকটির মধ্যে এই শাস্তিতে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না। হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা হিরণ্যকশিপুর ছেলে প্রহলাদকে এই বলে শক্তি- সাহস দেন, আগুন তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তখন হিরণ্যকশিপু উভয়জনকেই আগুনে নিক্ষেপ করার আদেশ দেয়। ফলে তার বোন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। তবে, তার ছেলের কোনো ক্ষতি হয়নি। এই ঘটনার স্বরণে বর্তমানে হোলি উৎসব পালন করা হয়ে থাকে।
কিন্তু কাহিনির সাথে হিন্দুদের এ উৎসবের কোনো মিল নেই। যেখানে হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা ও ছেলে প্রহলাদ সৃষ্টিকর্তার উপাসনার জন্য নির্যাতিত হচ্ছেন, অথচ সেখানে উপাসনা না করে এ দিনে অযথা ও অনর্থক রং মাখার কী সম্পর্ক?
তবে এ কাহিনী ছাড়াও হোলিকে রাধাকৃষ্ণের ভালোবাসার প্রতি সম্বন্ধযুক্তও করা হয়। হোলিকে তার ভালোবাসার নিদর্শনস্বরুপ আজও হিন্দুরা পালন করে। হোলিতে লাল, নীল, গোলাপি রং মাখার প্রথার সাথে ভালোবাসার মিল পাওয়া যায়। সে হিসেবে এ কাহিনির সাথে হোলির সামঞ্জস্যতা রয়েছে। প্রেমপ্রীতি, ভালোবাসা যাদের দেবতাদের কাজ, অনর্থক রঙ মাখা সে দেবতা পূজারীদের ধর্ম হলে বাধা কীসে?
📄 নবরাত্রি
' বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, একটি চান্দ্র দিনকে তিথি বলে। চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে ১২ ডিগ্রি দ্রাঘিমাকোণ বৃদ্ধির সময়কে একটি তিথির সময়কাল ধরা হয়।
প্রতিপদ বা প্রথমা হল পক্ষের প্রথম তিথি। শুক্লপক্ষের প্রতিপদ শুক্লা প্রতিপদ এবং কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ কৃষ্ণা প্রতিপদ নামে পরিচিত। কার্তিক মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে উত্তর ভারতে গোবর্ধন পূজা ও দক্ষিণ ভারতে বালী প্রতিপদ পালিত হয়। এই তিথিতে পশ্চিমবঙ্গে অন্নকূট উৎসব হয়। সূত্র: উইকিপিডিয়া বাঙলা
প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত নয় রাত্রি ধরে দুর্গার নয়টি শক্তির যে পুজো করা হয় তাকে নবরাত্রি বলে। এই দিনে শক্তি দেবির পুজো করা হয়। একে দুর্গা পুজোও বলা হয়। এ উৎসবে হিন্দু ধর্মীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে সিঁদুর খেলা হয়ে থাকে। হিন্দু ধর্মের অন্যান্য উৎসবের মতো এই উৎসব নিয়েও অনেক বর্ণনা রয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকেই নির্দিষ্ট করে বলা যায় না যে, মূলত এর উপর ভিত্তি করেই উৎসবটি পালন করা হয়!