📄 পূজা পাঠ
পূজা হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় প্রকাশ মাধ্যম। যা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে পালন করা হয়ে থাকে। পূজার ব্যবস্থাপনা মন্দিরে করা হয়। দেবতাদের মূর্তি ছাড়াও জীব-জন্তুর মূর্তিরও পূজা করা হয়। পূজার সময়ে মূর্তিদের সামনে ঘণ্টি বাজানো হয়। ফুলের মালা, খাদ্য এবং সুগন্ধির নাযরানা পেশ করা হয়। তাদের সামনে সেজদা করা হয়। এবং ভক্তি সহকারে প্রার্থনা করা হয়। এরপর তারা এই মূর্তিসমূহের নিকট আকাঙ্খা পেশ করে। হিন্দুদের ধারণা অনুযায়ী, পাথর-মাটির এই মূর্তিসমূহ কোনো দেবতা অথবা অবতারের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ মাত্র। তাই যে কোনো নিশ্চল পাথরকেই কোনো ব্যক্তিত্বের সাথে নির্ধারিত করে নিলে একজন হিন্দুর নিকট এই পাথরের সম্মান ও উপাসনাও আবশ্যক হয়ে যায়!
📄 বলিদান
সাধারণ অর্থে কোরবানিকে হিন্দুরা বলিদান বলা থাকে। হিন্দু সমাজে বলিদানের প্রথা প্রাচীন নয়, আর্য সভ্যতা থেকে এসেছে। কিন্তু বলিদানের পন্থা বিভিন্ন যুগে পরিবর্তন হতে থাকে। এক সময় তো মানুষকেই বলিদানের প্রথা ছিলো। পরিবর্তনের পথ অতিক্রম করতে করতে বর্তমান যুগে বলিদানের প্রথা বলতে, বিভিন্ন প্রকারের শস্য, ফলসমূহ ও জন্তুর বলিদানকে বুঝায়। শস্য ও ফল-ফলাদি বলিদানের বিস্তারিত বর্ণনা যজুর্বেদে পাওয়া যায়। এর বিষয়বস্তুই হলো বলিদান সম্পর্কে। পশু বলিদানের আলোচনা ব্রাহ্মণেও পাওয়া যায়। বলিদানের নিয়মাবলীতে এ কথা বলা হয়, বলিদানের সময় যাতে পশুকে যথাসম্ভব কষ্ট কম দেয়া যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা। বলিদানের কিছু রক্ত দেবতা-মূর্তির উপর ছিটানো হয়। হিন্দুদের মতে, অনেক বলিদান এমনও আছে, যেগুলো বলি দেয়ার পর গোশতও ভক্ষণ করা যায় না। বরং এটিকে সৃষ্টিকর্তার অংশ মনে করা হয়।
📄 জপ
জপ এর অর্থ হলো তাসবীহ পাঠ অর্থাৎ জপ মালা বা মন্ত্র পাঠ করা। হিন্দু ধর্মে দেবতাদের নাম এবং পবিত্র গ্রন্থগুলি থেকে বিভিন্ন মন্ত্রের প্রচার ও পাঠ পড়া হয়ে থাকে। এবং একে উপাসনার অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়।