📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 অহিংসা

📄 অহিংসা


আগেই বলেছি, হিন্দু ধর্মে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে দুটি বিপ্লবের খুব বেশি প্রভাব পড়েছে। এক জৈন ধর্ম, দুই বৌদ্ধ ধর্ম। মূর্তি পূজা ছাড়া অহিংসা ধ্যানধারণাও হিন্দুরা এই ধর্মের অনুসারীদের থেকে শিখেছে। অহিংসা অর্থ হলো বাড়াবাড়ি না করা। হিন্দু ধর্মের সকল সম্প্রদায়ের মধ্যেই কোরবানি তথা বলিদানের সংস্কৃতি, রীতিনীতি চালু ছিলো৷ কিছু কিছু সম্প্রদায়ে পুরুষ বলিদানের বিষয়টিও পুণ্যের কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো৷ কিন্তু অহিংসার দর্শন চালু হলে মানুষের মধ্যে এই চিন্তা-ভাবনা আসে যে, বিনা প্রয়োজনে কোনো জীব হত্যা করা বৈধ হবে না। এই বিশ্বাসের কারণেই হিন্দু পণ্ডিতরা তাদের জীবনকে অনেক কঠিন করে নেয়। তখন তারা পানি গরম করতে পারতো না, কেননা পানি গরম করলে পানির মধ্যে থাকা জীবাণু ধ্বংস হয়ে যাবে। চাষাবাদের জন্যে লাঙ্গল চালাতে পারতো না, কারণ তা দ্বারা জমিনের পোকামাকড় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতো। এমনকি মশা মাছি কামড় দিলেও কিছু করতে পারতো না। যদিও গৌতম বুদ্ধ বা মহাবীর হালাল জীব জবাই করা ও গোশত খাওয়ার ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বার্তা দেননি। হিন্দুদের ধারণা, যখন সকল জিনিসের মধ্যেই সৃষ্টিকর্তাকে দেখা যায়, তাহলে কীভাবে কোনো জিনিসের ক্ষয়-ক্ষতি করা যায়?

তাছাড়া সৃষ্টিকর্তা মানুষকে পৃথিবীর অন্য সকল প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ জাতি বানিয়েছেন। অন্য সকল প্রাণীকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। এমতাবস্থায় অন্যান্য জানোয়ার, প্রাণীকে ভক্ষণ না করার অর্থ হলো, মানুষ আর জানোয়ারকে বরাবর মনে করা। পৃথিবীর সকল ধর্মের মধ্যে শুধু হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস মতেই মানুষ আর জানোয়ার বরাবর মাপকাঠিতে দাঁড় করানো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00