📄 শিকড় এবং আত্মা
শিকড় এবং আত্মার বিষয়ে হিন্দুদের বিশ্বাস হলো, শিকড় এবং আত্মা দুটোই চিরন্তন বিষয়। অর্থাৎ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এবং দুটোরই রয়েছে সৃষ্টিকর্তার মর্যাদা। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সৃষ্টিকর্তাও শিকড় ও আত্মার মুখাপেক্ষী সাব্যস্ত হন। কারণ, তাদের মতে শিকড় ও আত্মাই হলো সব কিছুর মূল।
📄 পুনর্জন্ম
পুনর্জন্ম এমন একটি বিশ্বাস যা সকল হিন্দুদের মধ্যে পাওয়া যায়। হিন্দি ভাষায় পুনর্জন্মকে আওয়াগমন বলে। পুনর্জন্ম বলতে তারা বুঝায়, পূর্বের জীবনের কৃতকর্ম অর্থাৎ গোনাহ বা সৎকাজ সমূহের প্রতিদান হিসেবে বারবার সৎ কিংবা অনিষ্ট হয়ে জন্ম নেয়া। প্রতিদান ও শাস্তির এই ধ্যানধারণাকে হিন্দুধর্মে 'কর্ম' বলে থাকে৷ হিন্দুদের ধারণা, পুনর্জন্মে বানর, হিংস্র প্রাণী কিংবা ভিন্ন কোনো ভালো মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করা, এগুলো এ জগতে কৃতকর্মের প্রতিদান ও শান্তি হিসেবে হয়ে থাকবে। সে অনুযায়ী জীব, উদ্ভিদ, অক্ষম, দরিদ্র ব্যক্তিরা সকলেই তাদের প্রথম জন্মে দুঃখ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত ছিলো। কিন্তু তাদের খারাপ কৃতকর্মের কারণে তাদের আত্মাসমূহ এ আকৃতি অবলম্বন করেছে। এবং যতো আনন্দ ভোগ করছে তা মূলত তাদের পূর্বের জন্মে ভালো কাজ করার ফলাফল। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মানুষ অক্ষম হওয়া তার পূর্বের জন্মে কৃত খারাপ কর্মের ফলাফল যা সে ভোগ করছে। আর যে সুস্থ- সবল, সেও মূলত তার পূর্বের জন্মে ভালো কাজের ফলাফল পাচ্ছে। হিন্দু ধর্ম মতে, শাস্তি থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। সে অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা মানুষের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আর না মৃত্যুর পর তার আত্মাকে গোনাহসমূহ থেকে পবিত্র করেন। কারণ মানুষের আত্মা তার দেহ থেকেই বের হয়েছে। হিন্দু ধর্ম মতে, মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা তার সৃষ্টিকর্তার সাথে মিলিত হয়ে যায়। কিন্তু আত্মা ততক্ষণ পর্যন্ত মিলিত হয় না যতক্ষণ না তা গোনাহ থেকে পবিত্র হয়। তাই পবিত্রতা অর্জনের জন্যে আত্মাকে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে বারবার জন্ম নিতে হয়। এভাবে বারবার পাপমোচনের মাধ্যমে আত্মা পরিপূর্ণরুপে পাক হলেই তবে এটি ভগবানের সাথে মিলিত হতে পারে।
📄 অহিংসা
আগেই বলেছি, হিন্দু ধর্মে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে দুটি বিপ্লবের খুব বেশি প্রভাব পড়েছে। এক জৈন ধর্ম, দুই বৌদ্ধ ধর্ম। মূর্তি পূজা ছাড়া অহিংসা ধ্যানধারণাও হিন্দুরা এই ধর্মের অনুসারীদের থেকে শিখেছে। অহিংসা অর্থ হলো বাড়াবাড়ি না করা। হিন্দু ধর্মের সকল সম্প্রদায়ের মধ্যেই কোরবানি তথা বলিদানের সংস্কৃতি, রীতিনীতি চালু ছিলো৷ কিছু কিছু সম্প্রদায়ে পুরুষ বলিদানের বিষয়টিও পুণ্যের কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো৷ কিন্তু অহিংসার দর্শন চালু হলে মানুষের মধ্যে এই চিন্তা-ভাবনা আসে যে, বিনা প্রয়োজনে কোনো জীব হত্যা করা বৈধ হবে না। এই বিশ্বাসের কারণেই হিন্দু পণ্ডিতরা তাদের জীবনকে অনেক কঠিন করে নেয়। তখন তারা পানি গরম করতে পারতো না, কেননা পানি গরম করলে পানির মধ্যে থাকা জীবাণু ধ্বংস হয়ে যাবে। চাষাবাদের জন্যে লাঙ্গল চালাতে পারতো না, কারণ তা দ্বারা জমিনের পোকামাকড় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতো। এমনকি মশা মাছি কামড় দিলেও কিছু করতে পারতো না। যদিও গৌতম বুদ্ধ বা মহাবীর হালাল জীব জবাই করা ও গোশত খাওয়ার ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বার্তা দেননি। হিন্দুদের ধারণা, যখন সকল জিনিসের মধ্যেই সৃষ্টিকর্তাকে দেখা যায়, তাহলে কীভাবে কোনো জিনিসের ক্ষয়-ক্ষতি করা যায়?
তাছাড়া সৃষ্টিকর্তা মানুষকে পৃথিবীর অন্য সকল প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ জাতি বানিয়েছেন। অন্য সকল প্রাণীকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। এমতাবস্থায় অন্যান্য জানোয়ার, প্রাণীকে ভক্ষণ না করার অর্থ হলো, মানুষ আর জানোয়ারকে বরাবর মনে করা। পৃথিবীর সকল ধর্মের মধ্যে শুধু হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস মতেই মানুষ আর জানোয়ার বরাবর মাপকাঠিতে দাঁড় করানো।