📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 অসংখ্য দেব- দেবি

📄 অসংখ্য দেব- দেবি


দেবতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা বা এমন পবিত্র সত্তা যার মধ্যে সৃষ্টিকর্তার গুণ রয়েছে। শক্তিশালী ও প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী হলে, তিনি দেবতা হবার যোগ্যতা রাখেন৷ দেবতার স্ত্রীলিঙ্গ হলো দেবি। ইংরেজিতে দেবতার জন্যে গড শব্দ ব্যবহার করা হয় ছোটো হাতের g (god) দিয়ে। যেখানে বড় হাতের G দিয়ে God ব্যবহার হয় আল্লাহ তাআলার জন্যে।

হিন্দু ধর্ম মতে, দেবতা হলো এমন সম্মানিত উপাস্য, যার মাধ্যমে সৃষ্টিজীব বিভিন্ন ধরণের উপকার লাভ করে থাকে। হিন্দুইজম বইয়ের লেখক মাস্টার গোড এর গবেষণা মতে, বেদসমূহে তেত্রিশটি দেবতার উল্লেখ ছিলো৷ কিন্তু বর্তমান হিন্দুধর্ম মতে দেবতা বা উপাস্যদের সংখ্যা তেত্রিশ কোটি বলা হয়। এর মধ্যে চন্দ্র, সূর্য, আগুন, হনুমান রাম ও কৃষ্ণ প্রসিদ্ধ। দেবীদেরকে মূলত সৃষ্টিকর্তার প্রেমিকা বা স্ত্রী হিসেবে মানা হয়। এই দেবিদের মধ্যে রামের স্ত্রী, সীতা কৃষ্ণ'র প্রেমিকা রাধা, ব্রহ্মার স্ত্রী স্বরস্বতী, শিবের স্ত্রী পার্বতী, কৃষ্ণের স্ত্রী রুক্মিণী এবং এগুলো ছাড়াও প্রাচীন সভ্যতার সাথে নিজেদের উৎসর্গ করা দেবীগণ দূর্গা এবং গঙ্গাও প্রসিদ্ধ।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 শিরকের মধ্যে একত্ববাদ, একত্ববাদের মধ্যে শিরক

📄 শিরকের মধ্যে একত্ববাদ, একত্ববাদের মধ্যে শিরক


গতানুগতিক হিন্দু ধর্মে অসংখ্য সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের প্রতিচ্ছবি দেবতাদেরকে গ্রহণযোগ্য উপাস্য মনে করা হয়। হিন্দুদের মতে, এক সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করলে অন্যান্য দেবতাদের অস্বীকার করতে হবে, এটা আবশ্যক নয়। বরং তারা অন্যান্য দেবতাদেরকে তাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট দেবতার অধীন মনে করে থাকে। বেদের বর্ণনা মতে, অগ্নি, বিষ্ণু, শিব মূলত একই সৃষ্টিকর্তা। পূজারীরা তাকে ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়েছে। ঋগ্বেদ পড়লে বিষয়টা স্পষ্ট হয়। অর্থাৎ পূজারীরা এক খোদাকেই বিভিন্ন নামে ডেকে থাকে।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 শিকড় এবং আত্মা

📄 শিকড় এবং আত্মা


শিকড় এবং আত্মার বিষয়ে হিন্দুদের বিশ্বাস হলো, শিকড় এবং আত্মা দুটোই চিরন্তন বিষয়। অর্থাৎ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এবং দুটোরই রয়েছে সৃষ্টিকর্তার মর্যাদা। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সৃষ্টিকর্তাও শিকড় ও আত্মার মুখাপেক্ষী সাব্যস্ত হন। কারণ, তাদের মতে শিকড় ও আত্মাই হলো সব কিছুর মূল।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 পুনর্জন্ম

📄 পুনর্জন্ম


পুনর্জন্ম এমন একটি বিশ্বাস যা সকল হিন্দুদের মধ্যে পাওয়া যায়। হিন্দি ভাষায় পুনর্জন্মকে আওয়াগমন বলে। পুনর্জন্ম বলতে তারা বুঝায়, পূর্বের জীবনের কৃতকর্ম অর্থাৎ গোনাহ বা সৎকাজ সমূহের প্রতিদান হিসেবে বারবার সৎ কিংবা অনিষ্ট হয়ে জন্ম নেয়া। প্রতিদান ও শাস্তির এই ধ্যানধারণাকে হিন্দুধর্মে 'কর্ম' বলে থাকে৷ হিন্দুদের ধারণা, পুনর্জন্মে বানর, হিংস্র প্রাণী কিংবা ভিন্ন কোনো ভালো মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করা, এগুলো এ জগতে কৃতকর্মের প্রতিদান ও শান্তি হিসেবে হয়ে থাকবে। সে অনুযায়ী জীব, উদ্ভিদ, অক্ষম, দরিদ্র ব্যক্তিরা সকলেই তাদের প্রথম জন্মে দুঃখ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত ছিলো। কিন্তু তাদের খারাপ কৃতকর্মের কারণে তাদের আত্মাসমূহ এ আকৃতি অবলম্বন করেছে। এবং যতো আনন্দ ভোগ করছে তা মূলত তাদের পূর্বের জন্মে ভালো কাজ করার ফলাফল। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মানুষ অক্ষম হওয়া তার পূর্বের জন্মে কৃত খারাপ কর্মের ফলাফল যা সে ভোগ করছে। আর যে সুস্থ- সবল, সেও মূলত তার পূর্বের জন্মে ভালো কাজের ফলাফল পাচ্ছে। হিন্দু ধর্ম মতে, শাস্তি থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। সে অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা মানুষের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আর না মৃত্যুর পর তার আত্মাকে গোনাহসমূহ থেকে পবিত্র করেন। কারণ মানুষের আত্মা তার দেহ থেকেই বের হয়েছে। হিন্দু ধর্ম মতে, মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা তার সৃষ্টিকর্তার সাথে মিলিত হয়ে যায়। কিন্তু আত্মা ততক্ষণ পর্যন্ত মিলিত হয় না যতক্ষণ না তা গোনাহ থেকে পবিত্র হয়। তাই পবিত্রতা অর্জনের জন্যে আত্মাকে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে বারবার জন্ম নিতে হয়। এভাবে বারবার পাপমোচনের মাধ্যমে আত্মা পরিপূর্ণরুপে পাক হলেই তবে এটি ভগবানের সাথে মিলিত হতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00