📄 অবতারবাদের ধারণা
অবতার শব্দটি দুটি শব্দের সমষ্টি। 'অব' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিচে, আর 'তার' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আসা বা অতিবাহিত হওয়া। অর্থাৎ অবতার মানে হলো, যে নিচে নেমে এসেছে। কিছু সংখ্যক হিন্দু স্কলারদের মতানুযায়ী অবতার মানে সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতি বা জমিনে তাঁর অবতরণ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য, পৃথিবীতে যে কোনো আকৃতিতে দেবতা বা সৃষ্টিকর্তার আগমন। এই মতাদর্শ অনুযায়ী হিন্দুরা বিশ্বাস করে যে, সৃষ্টিকর্তা ভালো লোকদের সাহায্য করা, ধর্মের উপর টিকিয়ে রাখা এবং অন্যায়- অবিচার মিটিয়ে দেয়া ইত্যাদির জন্যে অধিকাংশ সময় মানুষ এবং অন্যান্য বস্তুর আকৃতিতে পৃথিবীতে আগমন করেন। এর জন্যে সৃষ্টিকর্তা যে কোনো আকৃতিই ধারণ করতে পারেন। হিন্দু ধর্মের এই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস বেদের কোথাও পাওয়া যায় না। তবে, পুরাণ এবং গীতার মধ্যে এর আলোচনা পাওয়া যায়।
📄 অসংখ্য দেব- দেবি
দেবতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা বা এমন পবিত্র সত্তা যার মধ্যে সৃষ্টিকর্তার গুণ রয়েছে। শক্তিশালী ও প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী হলে, তিনি দেবতা হবার যোগ্যতা রাখেন৷ দেবতার স্ত্রীলিঙ্গ হলো দেবি। ইংরেজিতে দেবতার জন্যে গড শব্দ ব্যবহার করা হয় ছোটো হাতের g (god) দিয়ে। যেখানে বড় হাতের G দিয়ে God ব্যবহার হয় আল্লাহ তাআলার জন্যে।
হিন্দু ধর্ম মতে, দেবতা হলো এমন সম্মানিত উপাস্য, যার মাধ্যমে সৃষ্টিজীব বিভিন্ন ধরণের উপকার লাভ করে থাকে। হিন্দুইজম বইয়ের লেখক মাস্টার গোড এর গবেষণা মতে, বেদসমূহে তেত্রিশটি দেবতার উল্লেখ ছিলো৷ কিন্তু বর্তমান হিন্দুধর্ম মতে দেবতা বা উপাস্যদের সংখ্যা তেত্রিশ কোটি বলা হয়। এর মধ্যে চন্দ্র, সূর্য, আগুন, হনুমান রাম ও কৃষ্ণ প্রসিদ্ধ। দেবীদেরকে মূলত সৃষ্টিকর্তার প্রেমিকা বা স্ত্রী হিসেবে মানা হয়। এই দেবিদের মধ্যে রামের স্ত্রী, সীতা কৃষ্ণ'র প্রেমিকা রাধা, ব্রহ্মার স্ত্রী স্বরস্বতী, শিবের স্ত্রী পার্বতী, কৃষ্ণের স্ত্রী রুক্মিণী এবং এগুলো ছাড়াও প্রাচীন সভ্যতার সাথে নিজেদের উৎসর্গ করা দেবীগণ দূর্গা এবং গঙ্গাও প্রসিদ্ধ।
📄 শিরকের মধ্যে একত্ববাদ, একত্ববাদের মধ্যে শিরক
গতানুগতিক হিন্দু ধর্মে অসংখ্য সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের প্রতিচ্ছবি দেবতাদেরকে গ্রহণযোগ্য উপাস্য মনে করা হয়। হিন্দুদের মতে, এক সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করলে অন্যান্য দেবতাদের অস্বীকার করতে হবে, এটা আবশ্যক নয়। বরং তারা অন্যান্য দেবতাদেরকে তাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট দেবতার অধীন মনে করে থাকে। বেদের বর্ণনা মতে, অগ্নি, বিষ্ণু, শিব মূলত একই সৃষ্টিকর্তা। পূজারীরা তাকে ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়েছে। ঋগ্বেদ পড়লে বিষয়টা স্পষ্ট হয়। অর্থাৎ পূজারীরা এক খোদাকেই বিভিন্ন নামে ডেকে থাকে।
📄 শিকড় এবং আত্মা
শিকড় এবং আত্মার বিষয়ে হিন্দুদের বিশ্বাস হলো, শিকড় এবং আত্মা দুটোই চিরন্তন বিষয়। অর্থাৎ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এবং দুটোরই রয়েছে সৃষ্টিকর্তার মর্যাদা। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সৃষ্টিকর্তাও শিকড় ও আত্মার মুখাপেক্ষী সাব্যস্ত হন। কারণ, তাদের মতে শিকড় ও আত্মাই হলো সব কিছুর মূল।