📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 মহাভারত

📄 মহাভারত


যদিও মহাভারতকে বৈদিক সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না। কিন্তু হিন্দুদের কাছে এটি সর্ববৃহৎ এবং এবং সর্বোচ্চ সম্মানিত গ্রন্থ। দুই লাখ পনেরো হাজার কবিতার সমষ্টি মহাভারত সাহিত্যে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কাব্য গ্রন্থ। এটি মূলত হস্তিনাপুরের দুই বংশের গৃহবিবাদ কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যকার সংঘটিত বড় একটি যুদ্ধের কাহিনী। এই কাহিনীর মধ্যে জুয়া খেলায় পরাজিত পঞ্চপাণ্ডব প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে ছয় হাজার লোকের সাথে যুদ্ধ করে এবং ভগবানের অবতার শ্রীকৃষ্ণের সাহায্যে পাণ্ডু যুদ্ধে জয়লাভ করে। মহাভারতের বর্ণনা অনুযায়ী ভারতের সকল জেলার সৈনিকরা এই যুদ্ধে অংশ নেয়। এই যুদ্ধ ভারতীয়দেরকে দুই গ্রুপে ভাগ করে দেয়। এক গ্রুপ সত্যের পক্ষে অর্থাৎ পাণ্ডুদের সাহায্যকারী। অপরপক্ষ কুরুদের পক্ষ নেয়। একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাণ্ডবরা বিজয় লাভ করে। কিছু হিন্দু পাণ্ডব যেমন মোহন দাস গান্ধী, স্বামী পরমানন্দ, স্বামী আরানন্ধ। মহাভারতে বর্ণিত এসব কাহিনি কোনো বাস্তবিক যুদ্ধের বর্ণনা ছিলো না। বরং নিজেদের নফসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের চিত্রকাহিনি। যেটিকে মহাভারত গীতার মধ্যে একটি উদাহরণস্বরূপ ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ইতিহাসবিদদের কথা অনুযায়ী মহাভারত বাস্তব ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। মহাভারত শ্লোকগুলোকে ব্যাসদেব লিখিত বলা হয়ে থাকে। যিনি তার শিষ্য উইশম পাইনকে এটি শিখিয়েছিলেন। এ জন্যে এটির পুরোপুরি বিন্যস্ত হওয়ার যুগ খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী বলা যেতে পারে। তবে, পুস্তক আকারে তৈরি হয় এরও অনেক যুগ পরে।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 ভগবত গীতা

📄 ভগবত গীতা


গীতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাব্য। এই গ্রন্থ মহাভারতেরই অংশ। এটি ঐ সমস্ত কথাবার্তার সমষ্টি যেগুলো প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় ব্যক্তিদের মধ্যকার সংঘটিত হয়েছিলো। অর্জুন এবং শ্রী কৃষ্ণের মধ্যকার মহাভারতে হওয়া কথোপকথন খুব প্রসিদ্ধ, যেখানে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে অনেক চারিত্রিক দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেছিলেন। গীতা হিন্দুদের কাছে সবচেয়ে বেশি পঠিত গ্রন্থ। বৈদিক সময়কালের পরে লিখিত হওয়ার কারণে গীতাকে ঐশী গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয় না। কিন্তু এর উত্তম নীতিমালা, শিক্ষা এবং ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কারণে গীতা বেদ থেকেও অনেকাংশে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00