📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 বেদসমূহের ঋষি

📄 বেদসমূহের ঋষি


বেদসমূহের লেখকদের মহাঋষি বলা হয়। ঋষি অর্থ হলো মন্ত্রদ্রষ্টা। মন্ত্র হলো পূজায় বেদ কিংবা অন্যান্য গ্রন্থ থেকে উচ্চারিত শ্লোক। যেগুলো দ্বারা দেবতাদের উপাসনা করা হয়। দ্রষ্টা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ঐ চিন্তা ও ধ্যান যা বেদবাণী পড়ার সময় ঋষিদের মস্তিষ্কে ছবির মতো ভেসে উঠে। ঋষিরা মন্ত্রের পাঠকও হয়ে থাকেন। ঋষিরা শ্লোক ও কবিতার মাধ্যমে দেবতাদের উপাসনা করে।

হিন্দু পণ্ডিতদের অধিকাংশের অভিমত হলো, বেদ ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় অনেক কবিই লিপিবদ্ধ করেছেন। তাদের মতে, প্রাচীন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিগণ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সত্য বিষয়াবলী শুনতে পেরেছিলেন। এরপর তারা সেগুলোকে পুস্তকের রুপ দেন। এই ঋষিদের মধ্যে আর্য, ব্রাহ্মণ এবং প্রাচীন ভারতের অনেক ঘরানার লোকজনও যুক্ত ছিলেন। বেদ থেকে এ কথা জানা যায়, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের মুখনিঃসৃত ভাষা থেকে এসব সংস্কৃত শ্লোক ও কবিতার উৎপত্তি। আর্য সম্প্রদায়ের বিশ্বাস হলো, "বেদ মূলত চারজন ঋষি তথা অগ্নি, অনিল (বায়ু), আদিত্য (অদিতির পুত্র), অঙ্গিরা (বৃহস্পতির পিতা), সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক লাভ করেছিলেন। তবে, ঋষিরা মন্ত্রের স্রষ্টা নয়। বরং মন্ত্রের অর্থ ও ব্যাখ্যা বর্ণনাকারী"।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 উপনিষদ

📄 উপনিষদ


বেদের পরে হিন্দুদের কাছে উপনিষদের স্থান। উপনিষদ মূলত ঐ সকল বক্তব্যের সমষ্টি যা হিন্দু যাযাবররা নির্জন জঙ্গলে তাদের শিষ্যদের সামনে পেশ করেছিলো। কিন্তু হিন্দুরা এটাকে ঐশীগ্রন্থ মনে করে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাচীন উপনিষদে বেদের বিভিন্ন ব্যাখ্যা একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে পাওয়া যায়। উপনিষদের উদ্ধৃতিগুলো কোনো দার্শনিক ব্যক্তির দর্শনের মতো মনে হয়। ঐতিহাসিকদের মতানুসারে উপনিষদের বক্তব্যসমূহ ৯০০- ৭০০ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যকার কোনো এক সময়ে বিন্যস্ত করা হয়। বেদের মতো উপনিষদ এর সংখ্যা নিয়েও মতানৈক্য দেখা যায়। কোনো কোনো বর্ণনার ভিত্তিতে এর সংখ্যা এক শতো আটটি বলা হয়ে থাকে। অথচ আবার কেউ কেউ উপনিষদের সংখ্যা বারোটিও বলে থাকে।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 পুরাণ

📄 পুরাণ


উপনিষদের পর পুরাণের অবস্থান। আর এটিকেও বেদের মত ঐশীগ্রন্থ মনে করা হয়। বেদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এটি অনেক বিশদ এবং সহজ ভাবে বুঝে আসার মত একটি গ্রন্থ। এতে অনেক দেবতাদের ঘটনাবলী রয়েছে। এর সাথে সাথে এতে গণিতশাস্ত্র, জ্যোতিবিদ্যা, ইতিহাস, ভূগোল সম্বন্ধীয় জ্ঞানও রয়েছে। পুরাণের ইতিহাস বলে, এটি বেদের যুগেই লিপিবদ্ধ হয়েছে৷ তাছাড়া বেদ এবং পুরাণ দু' টাতেই একই আলোচনা পাওয়া যায়। পুরাণ অধ্যায়ন করলে এটাও বুঝা আসে, এর অস্তিত্ব বেদেরও পূর্বে ছিলো৷ পুরাণসমূহের সংখ্যা আঠারোটি৷ যাতে আনুমানিক আট লাখেরও বেশি কবিতা রয়েছে। এর মধ্যে প্রসিদ্ধ হচ্ছে বৈষ্ণব পুরাণ ভগবত পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ এবং মৎস্য পুরাণ। এগুলোতে অনেক ঋষিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়। হিন্দুদের মাঝে সাধারণভাবে প্রচলিত আছে, পুরাণ নাকি স্বয়ং ভগবানের কথা। আর কোনো মহাঋষি এই কথাগুলোকে শুধু বিন্যস্ত করেছেন মাত্র।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 মনুধর্ম শাস্ত্র

📄 মনুধর্ম শাস্ত্র


মনুধর্ম শাস্ত্র মূলত এমন একটি নীতিমালা, হিন্দু ধর্মে যা ধর্মীয় শাস্ত্রের মর্যাদা রাখে৷ যেমন মুসলিমগণের নিকট কুরআন ও হাদিসের ফিকহি মাসায়েলের গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে। মনু ধর্ম শাস্ত্রে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন রেওয়াজ- প্রথা, নিয়ম ও নীতিমালা ইত্যাদি বর্ণনা করা হয়। হিন্দু ধর্মের শিক্ষিত সমাজে এর প্রচলনটা বেশি রয়েছে। নীতিমালার সামষ্টিক দিক দিয়ে এই শাস্ত্রটি ভারতের সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। যে প্রভাব আজও হিন্দু সমাজে বহাল রয়েছে। অধিকাংশ ইতিহাসবিদদের মতানুসারে এই মনুশাস্ত্রের বর্তমান রুপ আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে সামনে আসে।

মনুশাস্ত্রকে মনুস্মৃতিও বলে। মনু হলেন একজন প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রকার ঋষি। অনেক হিন্দুদের ধারণা, মনু হলেন পাঁচ সহস্রাধিক বছরব্যাপী প্রবহমান হিন্দুশাস্ত্রমালার নেতৃস্থানীয় ও বিস্তৃত প্রভাবক মনুসংহিতা বা মনুস্মৃতির রচয়িতা। এ মনু যদি মনুস্মৃতি বা মনুসংহিতার রচয়িতা হয়ে থাকেন তাহলে তাঁর সময়কাল ছিলো ন্যূনতম ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। তবে, এর আধুনিক রূপ অনেক পরেই তবে অস্তিত্বে আসে৷ মনুর দিকে সম্বন্ধ করেই এই শাস্ত্রীয় নীতিমালা সংবলিত গ্রন্থটি মনুস্মৃতি নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। কিন্তু এর লেখকের ব্যাপারে ধারণাপ্রসূত অনেক কিছু বলা হলেও ঐতিহাসিক সূত্রে এর লেখকের ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মিলে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00