📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর আন্দোলন

📄 স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর আন্দোলন


স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী আর্য সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেন। যেটি অনেক কম সময়ে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের রূপ নেয়। স্বামীজি বেদ সমূহের নতুন ব্যাখ্যা গ্রন্থ লিখেন। এবং হিন্দু ধর্মের শেণীভেদ, মূর্তি পূজা ইত্যাদি অস্বীকার করে একত্ববাদের বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করবার চেষ্টা চালান। তাদের প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিলো, স্বামীজি এবং তাঁর অনুসারীরা নিজেদের ধর্মের ভিত্তি সাইন্সের উপর প্রতিষ্ঠিত করেন। এবং হিন্দু ধর্মকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যা সাইন্সের সাথে পুরোপুরি ভাবে মিলে যায়। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁর অভিমতকে সাইন্সের চেয়েও অগ্রবর্তী মনে হয়; যদিও অতীতের সংস্কারকদের মতো তাওহিদ অর্থাৎ একত্ববাদ এবং মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে তার চেষ্টা খুব বেশি একটা ছিলো না। এর সাথে সাধারণ মানুষ এবং ধর্মীয় পণ্ডিতগণের বড় একটি সংখ্যা তার বিরোধিতা করে। কিন্তু তারা শ্রেণী-ভেদাভেদের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে কোরবানি (উৎসর্গ)সহ স্বামী দয়ানন্দ' র অন্যান্য পজেটিভ সংস্কৃতিকে সাধারণভাবেই গ্রহণ করে নেয়।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 নতুন হিন্দু ধর্ম, ১৯৫০ খৃস্টাব্দের পর

📄 নতুন হিন্দু ধর্ম, ১৯৫০ খৃস্টাব্দের পর


১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তান পৃথক দুটি দেশের সৃষ্টি হয়। ভারত স্বাধীন হওয়ার পরই সেকুলারিজমের পথে চলতে শুরু করে। কিন্তু এই যুগে হিন্দু ধর্মকে পৃথিবীর সামনে যেভাবে বৈজ্ঞানিক এবং পবিত্র ধর্ম হিসেবে পেশ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, এর নমুনা অতীতের ইতিহাসে পাওয়া যায় না। হিন্দু পণ্ডিতরা এর পূর্বেই পশ্চিমা বিশ্বে তাদের ধর্মের তৎপরতা শুরু করে দিয়েছিলো৷ স্বাধীনতার পর তাদের কার্যক্রমে অনেক কিছু সংযুক্ত হয়। এবং এমন অনেক সংস্থা নিয়োগ দেয়া হয় যাদের উদ্দেশ্য ছিলো পশ্চিমা বিশ্বে হিন্দু ধর্মের প্রচার-প্রসার। এ উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে হিন্দু ধর্ম প্রচারে বিভিন্ন টিমও গঠন করা হয়। যে ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান আছে। পাশাপাশি ভারতে হিন্দু ধর্মের প্রাচীন ভাষা সংস্কৃত সরকারি ভাষার স্বীকৃতি লাভ করে। এবং এ ভাষার প্রচার ও প্রসিদ্ধির জন্যে অনেক প্রতিষ্ঠান চালু হয়। হিন্দিতে আরবি এবং ফারসির ভালো প্রভাব আছে। কোথাও কোথাও অনেক শব্দ সংস্কৃত থেকে নির্গত হয়ে হিন্দি শব্দে রূপান্তরিত হয়। হিন্দিতে উর্দুর প্রভাবও অস্বীকার করার মতো নয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর হিন্দিতে উর্দুর প্রভাব কমিয়ে সংস্কৃত শব্দ সমূহের ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়।

হিন্দু ধর্মের শিক্ষা ও অনুভূতিকে জাগ্রত করার জন্যে টিভি সিরিয়ালের প্রভাবকেও ব্যবহার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে' গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা ছিলো মহাভারত সিরিয়ালের প্রচার ও প্রসার। এতে মহাভারতের গল্পকে নতুন করে বিন্যস্ত পন্থায় উপস্থাপন করা হয়। এসব কিছুর উদ্দেশ্য ছিলো, হিন্দুদেরকে পুনরায় তাদের প্রাচীন সভ্যতা সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত করা।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 একাধিক দর্শন ও মতবাদের সমষ্টি

📄 একাধিক দর্শন ও মতবাদের সমষ্টি


এ সকল কার্যকলাপ যেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করলাম। এগুলোর উপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি, বর্তমান হিন্দু ধর্ম কোনো নির্দিষ্ট সুন্দর দর্শন কিংবা জীবন পরিচালনার কোনো সুবিন্যস্ত নীতি ও সংবিধানের উপর নেই। বরং এটি বিভিন্ন দর্শন ও মতবাদের এমন গোঁজামিলের সমষ্টি, যেটার উদাহরণ পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যাবে না। বর্তমানে এ ধর্ম এমন এক জোড়াতালি ও বিক্ষিপ্ত মতাদর্শের নাম যে, এর কোনো কুল-কিনারা, ভিত্তিই পাওয়া দুষ্কর।

📘 হিন্দু ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি > 📄 বিশ্বাসের স্বাধীনতা

📄 বিশ্বাসের স্বাধীনতা


হিন্দু ধর্ম মূলত একটি স্বাধীন ধর্ম মতের নাম। এ ধর্মে যে কেউ যে কোনো বিশ্বাস বা প্রথাকে গ্রহণ করতে পারে। এ ধর্ম সৃষ্টিকর্তার অসংখ্য প্রতিকৃতি ও মূর্তিতে বিশ্বাসী। এ ক্ষেত্রে কোনো এক প্রতিকৃতিকে সত্য- মিথ্যা আখ্যা দেয় না তারা। আর না কোনো একটি প্রতিকৃতিকে পুরো মানবজাতির জন্যে অকাট্য সৃষ্টিকর্তা হিসেবে দাবি করে। বরং প্রত্যেক উপাসককে এই অধিকার দেয়া হয়, প্রতিকৃতির উপাসনার পথ ও পন্থা যার যেমন পছন্দ, তাই যেনো গ্রহণ করে। তাদের শিক্ষিত ও জ্ঞানী লোকজনও হাশর, তাকদির ও একত্ববাদের বাস্তবতা বুঝতেই চায় না। এদের কেউ কেউ গাভীকেও সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করে। কেউ আবার গাভীর সৃষ্টিকর্তা ও সম্মানিত হওয়ার বিষয়ে একমতও নয়৷ কেউ কেউ সমাজের মানুষে শ্রেণীভেদাভেদের প্রবক্তা, কেউবা আবার এ শ্রেণীভেদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয়। কাউকে তো আবার তাদের পুরাণ, রামায়ণ, গীতা, বেদ ও মহাভারত ছাড়া নবীদের প্রতি আল্লাহর অবতীর্ণ করা পবিত্র গ্রন্থগুলোর সমালোচনা করতেও দেখা যায়। এ সকল বিষয়াদি জানার পর শুধুমাত্র এতোটুকুই বলা যায়, হিন্দু ধর্ম মূলত একটি স্বাধীন বিশ্বাসের নাম। কেননা হিন্দু ধর্মের মতে, এ ধর্মকে কোনো নির্দিষ্ট বিশ্বাসের সাথে সীমাবদ্ধ করা এর মর্যাদার পরিপন্থী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00