📄 হজরত মাওলানা ড. সাঈদুর রহমান আযমি নদভি দা.বা.'র অভিমত
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعه بإحسان إلى يوم الدين
দ্বীনের দাওয়াত উম্মতে মুসলিমার জন্যে একটি গুরুদায়িত্ব। এই উম্মতকে আল্লাহ তাআলা সকল উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জাতি। তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণও রব্বে কারিম কোরআন কারিমে বর্ণনা করেছেন।
মানুষকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তারা একে অপরকে কল্যাণের আদেশ দিবে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে বলবে। এই উম্মতের প্রতি নবুওত ও রিসালাতের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। যা এই উম্মতের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আরম্ভ হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরে এই দায়িত্ব সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তবে-তাবেঈনগণ পালন করেছেন। এরপর আলেম উলামা ও প্রত্যেকটি যুগের মুসলিম উম্মাহ এই দায়িত্ব পালন করে আসছে।
মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের জন্য প্রত্যেক যুগেই উপযোগী মাধ্যম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। দাওয়াত ও তাবলীগের জন্য মৌখিক দাওয়াতের পাশাপাশি লেখনির মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়াও অনেক উপকারী ও গুরুত্বপূর্ণ। আর এর উপকারিতাও ব্যাপক।
হজরত মাওলানা মুহাম্মাদ সারওয়ার ফারুকী নাদভী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী দাওয়াত ও তাবলীগের ময়দানের একজন নিবেদিত প্রাণ। আল্লাহ তায়ালা তার ইলম ও বয়ানে এমন প্রভাব রেখেছেন, যার কারণে অমুসলিমদের মধ্যে তার দাওয়াতের কাজ দ্রুত फैलता থাকে। যার কারণে আল্লাহ তায়ালা বহু মানুষকে ইসলাম গ্রহণের তৌফিক দান করেন।
মাওলানা মুহাম্মাদ সারওয়ার ফারুকী সাহেবের লেখনির মাধ্যমেও ইসলাম প্রচারের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এ জন্যই তিনি ‘তাজকিরাতুল আম্বিয়া’ নামক একটি বই রচনা করেছেন। যেখানে তিনি অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে নবীদের আলোচনা ও তাদের ব্যাপারে শুভসংবাদ ইত্যাদি বিষয়গুলো জমা করেছেন। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে আলোচনা ও বিতর্কে এই কিতাবটি খুবই উপকারী। আল্লাহ তায়ালা এই কিতাবকে কবুল করুন। আমীন।
বান্দা
মুহাম্মদ সাঈদুর রহমান আযমী নদভী
অধ্যক্ষ, দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামা, লক্ষ্ণৌ
📄 ভূমিকা
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعه بإحسان إلى يوم الدين
ইসলাম মানুষের বাস্তবিক অবস্থান ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেয়। মানুষের স্বভাব বিরুদ্ধ কোনো বিধানই আরোপ করে না। তবে, ইসলাম মানুষের জন্যে একটি সীমারেখা নির্ধারণ করে দেয়, যা তাকে প্রত্যেক এমন ক্ষতি থেকে রক্ষা করে যা তার ভবিষ্যতের সফলতা ও কল্যাণের প্রতিবন্ধক। ইসলাম মানুষের মনের গভীরে একটি অনুভূতি জাগ্রত করে দেয়। যে অনুভূতি দিয়ে মানুষ নিজের প্রবৃত্তিকে আয়ত্ব করতে পারে। নিজেদের চলার পথ নির্ধারণ করতে পারে। ইসলাম এই অনুভূতির সাথে মানুষকে একটি বিবেকও দান করেছে। বিবেকের সাহায্যে মানুষ নৈতিক ও অনৈতিকতার পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে। এবং নিজেকে অসৎ কাজের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে বিস্তৃত আলোয় আলোকিত পথের দিকে নিয়ে যায়।
মোটকথা ইসলাম মানুষের আবেগ ও বিবেক অনুসারেই দিকনির্দেশনা দেয়। এবং মানব জীবনের শারীরিক ও আত্মিক চাহিদানুযায়ী সঠিক বিধান প্রণয়ন করে। চাই তা অবুঝদের বুঝে আসুক বা না আসুক, এটাই বাস্তবতা।
ইবাদত ও উপাসনা সৃষ্টি ও সৃষ্টিকর্তার মধ্যে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যম। মানুষ ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। শারীরিক ও আত্মিক শক্তিও বৃদ্ধি করে। কারণ, ইসলামের প্রতিটি ইবাদত একেকটি শারীরিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক সাধনাও বটে।
নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত, কোরবানি, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল এবং কুরআন তেলাওয়াতসহ অন্যান্য বিষয়াদির দ্বারা শরীরের অভ্যন্তরীণ জীবাণু থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। এই সকল ইবাদতের মধ্যে মানুষের মানসিক প্রশান্তিও রয়েছে। নামাজ মনস্তাত্ত্বিক রোগ থেকে রক্ষা করে। রোজা মানুষের স্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। যা স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। যাকাতের মাধ্যমে গরিব-অসহায়দের সহযোগিতার পাশাপাশি নিজের ভেতরের লোভ-লালসা থেকে পবিত্রতা লাভ করা যায়। হজের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অভূতপূর্ব সেতুবন্ধন রচিত হয়।
অন্যদিকে যদি হিন্দু ধর্মের রীতিনীতিগুলোকে দেখি, তাহলে প্রথম দৃষ্টিতেই আমাদের সামনে অনেক প্রশ্ন এসে ভিড় জমায়। এমন কিছু বিষয় আছে, যা সুস্থ বিবেকের কাছে কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। যেমন, গঙ্গা নদীর পানির ব্যাপারে তাদের বিশ্বাস যে, এতে ডুব দিলে সকল পাপ মোচন হয়ে যায়। কিন্তু বিজ্ঞান তাদের এই দাবীকে সম্পূর্ণই মিথ্যা প্রমাণ করেছে। বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, গঙ্গা নদীতে গোসল করলে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এটি পৃথিবীর অন্যতম দূষিত একটি নদী।
অনুরূপভাবে তারা গরুর পূজা করে। গরুকে ‘মাতা’ সম্মোধন করে থাকে। গরুর পেশাব পান করাকে তারা সৌভাগ্যের বিষয় মনে করে। শুধু তাই নয়, এর দ্বারা নাকি রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। অথচ আমরা সকলেই জানি, গরু একটি চতুষ্পদ জন্তু। মানব জীবনে এর অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। কিন্তু তা সত্তেও মানুষের সাথে এর কোনো তুলনা চলে না। গরুর প্রস্রাব পান করা বা এর উপাসনা করাকে কোনো সুস্থ জ্ঞান সমর্থন করে না।
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, সৃষ্টিগতভাবে সকল মানুষই সমান। কারো উপর কারো কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কর্মের ভিত্তিতে সে আল্লাহর নিকট সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হয়। পক্ষান্তরে হিন্দু ধর্মানুসারে মানুষের মাঝে শ্রেণি বৈষম্য একটি ধর্মীয় বিধান। তাদের ধর্ম গ্রন্থগুলিতে মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যা মানবতা ও মানবাধিকারের পরিপন্থি।
এই বইটিতে হিন্দুধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। হিন্দুধর্মের পরিচিতি, ক্রমবিকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাসসমূহ তুলে ধরার পাশাপাশি এর বিভিন্ন সংস্কারমূলক আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আশা করি এটি একটি উপকারী আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সত্য বুঝার এবং সত্য অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
📄 অনুবাদকের কথা
সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং মুহাম্মাদে আরাবির উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহর ﷺ এর উপর।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতির হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। নবী-রাসুল প্রেরণের ধারাবাহিকতা আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। তিনি হলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবী এ পৃথিবীতে আসবেন না। তাই কিয়ামত পর্যন্ত মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে আনার গুরুদায়িত্ব আমাদের উপর।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, উম্মত তার এই দায়িত্বের কথা ভুলে বসে আছে। অমুসলিমদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার বদলে আমরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়ে পড়েছি। আজ বিধর্মীরা ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করে, আমাদের প্রিয় নবিকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে, এর পেছনের অন্যতম কারণ হলো, ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তাদের কাছে না পৌঁছানো। ইসলামের সঠিক পয়গাম যদি তাদের কাছে পৌঁছানো যেতো, তাহলে তারাও ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতো। নিজেদের ভুল বিশ্বাস ও ভ্রান্ত আকিদা আঁকড়ে ধরে পরকালীন জীবনকে বরবাদ করত না।
এর অন্যতম কারণ হলো, ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তাদের কাছে যাওয়ার মতো মানুষের অভাব। যারা অমুসলিমদের ভাষায় তাদের ধর্মগ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে ইসলামের সত্যতা প্রমাণ করবে, তাদের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য।
আলহামদুলিল্লাহ, ভারতের ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে আল্লামা ড. এম. এ. হাক্কি সাহেব এক্ষেত্রে অন্যতম। সারা বিশ্বে বিশেষ করে ভারতীয় হিন্দুদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর রিচার্স অ্যান্ড রিলিজিয়াস স্টাডিজ’ নামে একটি উন্নতমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সারা পৃথিবী থেকে আরবি ভাষায় পারদর্শী শিক্ষার্থীদের বাছাই করে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর পারদর্শী করে তোলা হয়।
আলোচ্য গ্রন্থটিও এই প্রতিষ্ঠানেরই একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। এর রচয়িতা মুফতি সারওয়ার ফারুকী নাদভি সাহেব এই প্রতিষ্ঠানের একজন যোগ্য ও কৃতি ছাত্র। বর্তমানে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লাখনৌতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেই সাথে তিনি উত্তর প্রদেশের শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমানে তিনি ইসলামের দাওয়াতের কাজে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
হিন্দুধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বইটি মূলত লেখকের একটি উর্দু বইয়ের বাংলা অনুবাদ। এতে তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে হিন্দুধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং তাদের আকিদা-বিশ্বাস তুলে ধরেছেন। আশা করি বইটি পড়ে পাঠকবৃন্দ হিন্দুধর্ম সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারবেন। যারা হিন্দুধর্মের ভাই-বোনদের নিকট ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দিতে চান, তাদের জন্য বইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বইটির আদ্যোপান্ত দেখে দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী সাহেব হাফিজাহুল্লাহ। তিনি বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেছেন এবং অনেক মূল্যবান তথ্য সংযোজন করে দিয়েছেন। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাআলা উস্তাদকে জাযায়ে খায়ের দান করুন।
বইটি প্রকাশনায় যার অসামান্য অবদান রয়েছে, তিনি হলেন প্রিয় ভাই রাফান আহমেদ। আল্লাহ তাআলা তাকে এবং তার পরিবারকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তার প্রকাশনা সংস্থা মাকতাবাতুল বায়ান থেকে এমন ভালো ভালো বই যেন আরও প্রকাশিত হয় এই প্রত্যাশা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে দ্বীনের জন্য কবুল করুন। আমিন!
মুহাম্মদ লুতফুল্লাহ খোকন
শিক্ষার্থী, দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা, লক্ষ্ণৌ, ভারত।
📄 হিন্দু ও সনাতন ধর্ম
হিন্দু ধর্ম ও সনাতন ধর্ম এক নয়। সনাতন ধর্ম এবং হিন্দুধর্ম ভিন্ন দুটি ধর্ম। সনাতন ধর্ম বলতে বোঝায় পৃথিবীর আদিকাল থেকে চলে আসা ধর্ম, যা সকল নবী ও রাসূলগণ প্রচার করে গেছেন। যুগে যুগে বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের নিকট আল্লাহ তায়ালা নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাদের সকলের ধর্ম ছিল ইসলাম। তবে পূর্ববর্তী নবীদের শরীয়ত ছিল ভিন্ন ভিন্ন। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের পর থেকে পূর্ববর্তী সকল শরীয়ত রহিত হয়ে যায় এবং কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামই একমাত্র মনোনীত ধর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। ইসলাম শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো আত্মসমর্পণ করা। সুতরাং যারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তারাই মুসলিম। এ হিসেবে পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবি-রাসুল এবং তাদের অনুসারীগণ মুসলিম ছিলেন। ইসলামই হলো সনাতন তথা সবচেয়ে প্রাচীন ধর্ম।
পক্ষান্তরে, হিন্দুধর্ম হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর প্রচলিত ধর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ধর্ম। যদিও হিন্দুধর্মের অনুসারীরা নিজেদের ধর্মকে সনাতন ধর্ম বলে দাবি করেন, কিন্তু এই দাবি ঐতিহাসিকভাবে সত্য নয়। হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম হলো বেদ। বেদকে বলা হয় অপৌরুষেয়, অর্থাৎ যা কোনো মানুষের দ্বারা সৃষ্ট নয়। এটি সরাসরি ঈশ্বর থেকে আগত বলে তারা বিশ্বাস করে থাকে। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, বেদ কোনো একক গ্রন্থ নয় এবং কোনো ঐশী গ্রন্থও নয়। বরং বহু দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মানুষের লেখা নানা ধরনের রচনার একটি সংকলন মাত্র, যার মধ্যে কিছু ঐশী নির্দেশনাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়।
হিন্দু শব্দের উৎপত্তি পারসিকদের থেকে। পারস্যের লোকেরা ‘সিন্ধু’ উচ্চারণ করতে পারত না। তারা ‘স’ এর স্থলে ‘হ’ উচ্চারণ করত। তাই সিন্ধু শব্দটি তাদের উচ্চারণে হিন্দু হয়ে যায়। এভাবেই সিন্ধু নদের অববাহিকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী কালের পরিক্রমায় হিন্দু নামে পরিচিত হয়। যদিও প্রাচীন আর্যদের ধর্মগ্রন্থে হিন্দু শব্দটির উল্লেখ নেই। তবে কালক্রমে হিন্দু শব্দটি আর্যদের ধর্মকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হতে থাকে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও নিজেদেরকে ‘হিন্দু’ বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
এই বইটিতে আমরা হিন্দুধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করব। তাদের বিশ্বাস, ধর্মগ্রন্থ এবং ইবাদত-পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদভাবে জানার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।