📘 হেযবুত তওহীদ স্বরূপ বিশ্লেষণ 📄 দাওয়াত ও তাবলীগ ছিল মহানবীর অন্যতম একটি কাজ

📄 দাওয়াত ও তাবলীগ ছিল মহানবীর অন্যতম একটি কাজ


কোনো ঈমানদার কখনো এমন কথা বলতে পারে না। সকল মুসলিমগণ জানেন, মক্কায় একাধারে তের বছর শুধু দাওয়াত ও তাবলীগ চলছে। মদীনায় যাওয়ার পর জিহাদ ফরয হয়েছে। তখনও জিহাদের কাফেলা পাঠানোর সময় আল্লার নবী বলতেন, তোমরা প্রথমে ইসলামের দাওয়াত দিবে, দ্বিতীয়ত বশ্যতা স্বীকার করে জিযিয়া প্রদান করতে বলবে। যদি তারা এ দু'টির কোনোটি স্বীকার না করে, তবে তাদের সঙ্গে জিহাদ করবে।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে অনেক আয়াতে বলেছেন যে, হে নবী! আমি আপনাকে দাওয়াত ও তাবলীগের জন্য পাঠিয়েছি। ইরশাদ হচ্ছে-
আপনি নিজ প্রতিপালকের পথে মানুষকে ডাকুন (দাওয়াত দিন) হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আর (যদি কখনো বিতর্কের দরকার পড়ে, তবে) তাদের সাথে বিতর্ক করবেন উৎকৃষ্ট পন্থায়। নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক যারা তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এবং তিনি তাদের সম্পর্কেও পরিপূর্ণ জ্ঞাত, যারা সৎপথে প্রতিষ্ঠিত।

মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়ে আরো বলেছেন,
হে রাসূল! আপনার প্রতি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তার তাবলীগ (প্রচার) করুন। যদি তা না করেন, তবে তার অর্থ হবে আপনি আল্লাহর বার্তা পৌঁছালেন না। আল্লাহ তাআলা আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন। আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না।

কুরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “(হে নবী) আমি আপনাকে সমস্ত মানুষের জন্য একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি।” মহানবীর দায়িত্ব ছিল মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌছে দেয়া বা তাবলীগ করা।

কুরআনের এতগুলো আয়াতের বিপরীতে পন্নী বলছে, “আল্লাহ তার রসুলকে নির্দেশ দিলেন না যে, তুমি মানুষকে বক্তৃতা, ওয়ায কোরে যুক্তি দিয়ে এই দীনের মাহাত্ম্য-গুণ বর্ণনা কোরে মানুষকে এটা গ্রহণ কোরতে আহবান কর।” অথচ আল্লাহ তাআলা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় রাসূলকে ওয়ায করতে বলেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি তারা আমার ডান হাতে সূর্যকে এনে দেয় আর আমার বাম হাতে চন্দ্রকে এনে দেয় এবং এর বিনিময়ে তারা চায় আমি মানুষকে আল্লাহ দিকে দাওয়াত দেয়া ছেড়ে দিই তবে আমি তা কখনোই ছাড়ব না। যতক্ষণ না আল্লাহ এ দীনকে বিজয় দান করেন কিংবা আমি এ পথে আমার জীবন বিলিয়ে দিই।

টিকাঃ
২২৫. এ ইসলাম ইসলামই নয়: পৃষ্ঠা-৩৩৪
২২৬. সূরা নাহল: আয়াত-১২৫
২২৭. সূরা মায়িদা: আয়াত-৬৭
২২৮. সূরা সাবা ২৮, আরো দেখুন, সূরা ফাতির ২৩, আল ইমরান ৪৭, শুআরা ১১৫, মায়িদা ১৯, আরাফ ১৮৪, ১৮৮, হুদ ২, ১২, ২৫, হজ্জ ৪৯, কাসাস ২৮, আনকাবুত ৫০, সাজদাহ ৩, সাবা ৩৪, ৪৪, ৪৬, ফাতির ২৩, ২৪, ৪২, ইয়াসীন ১১, স্বয়াদ ৭০, যুখরুফ ২৩, আহকাফ ৯, যারিআত ৫০, ৫১, নাজম ৫৬, মূলক ৮, ৯, ১৭, নূহ ২
২২৯. সূরা নাহল ৮২, সূরা মায়িদা ৬৭, সূরা আহযাব ৩৯ ও সূরা সাবা ২৮
২৩০. দেখুন, সূরা যারিআত ৫৫, সূরা আলা ৯, সূরা গাশিয়াহ ২১
২৩১. ইবনে হিশাম ১/২৬৬, আর রাহিকুল মাখতুম ৬৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px