📄 একনিষ্ঠভাবে তাওহীদ মানা আবশ্যক
আল্লাহ তাআলা কী প্রত্যাখ্যান করছেন আর কোনটি করেননি সেটা জানার জন্য ওহী তথা আল্লাহ প্রদত্ত সংবাদ জরুরী। বায়াজীদ খান পন্নীর কাছে এই সংবাদ কে দিল যে, “ব্যক্তিগত ওয়াহদানিয়্যাত আল্লাহ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং হাশরের দিনও প্রত্যাখ্যান করবেন”? এটা কি জালিয়াতি নয়? কোনো কথাকে অহেতুক আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা কি মিথ্যা নয়?
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
যে ব্যক্তিই নিজ চেহারা আল্লাহর সামনে নত করবে এবং সে সৎকর্মশীল হবে, সে নিজ প্রতিপালকের কাছে তার প্রতিদান পাবে। এরূপ লোকদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, 'আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল'- তার জন্য আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।” কুরআন ও হাদীসে বলা হচ্ছে, ব্যক্তিগত জীবনে তাওহীদ মান্য (বচনভঙ্গি লক্ষ্য করুন 'যে ব্যক্তি') করলে নাজাত পাবে। পক্ষান্তরে পন্নী বলছে, এটা শিরক।
কুরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "নিজেকে রক্ষা কর; জাহান্নাম থেকে নিজেকে বাঁচাও।” পাশাপাশি অন্যান্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করা, মানুষদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে মানতে উৎসাহিত করা অবশ্যই পূণ্যের কাজ। তাই বলে নিজে বাঁচার চেষ্টা করা শিরক নয়। নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল শিরক বলেননি; বরং নিজেকে আগে বাঁচাতে বলেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, “হে মুমিনগণ! নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে রক্ষা কর সেই আগুন থেকে যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।” বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যুলুম করা থেকে নিজেকে বাঁচাও।” বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন, “নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।” এমনকি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিজেকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে পাহাড়ে আশ্রয় নিতে হবে।
টিকাঃ
২১৪. সূরা বাকারা: আয়াত-১১২
২১৫. বুখারী, হাদীস নং ১২৮, মুসলিম হাদীস নং ১৫৭
২১৬. সূরা তাহরীম ৬
২১৭. মুসলিম, হাদীস নং ৬৭৪১
২১৮. মুসলিম, হাদীস নং ৫২২
২১৯. বুখারী, হাদীস নং ১৯