📄 মহানবীর সময় কুরআনের লিখিত কপি ছিল
অনেক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই কুরআনের লিখিত কপি ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন সঙ্গে নিয়ে শত্রুদেশে সফর করতে নিষেধ করেছেন। ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা কুরআন মাজীদ নিয়ে সফর করবে না, কেননা শত্রু থেকে আমি তা নিরাপদ মনে করি না। বর্ণনাকারী বলেন, শত্রুরা হস্তগত করে তোমাদের সাথে তা নিয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হতে পারে।”
কুরআনের কপি যদি না থাকে তবে তা নিয়ে সফর করতে কেন নিষেধ করা হবে? মহানবীর সময় কুরআনের কপি ছিল, সেজন্য মহানবী লিখিত কুরআন সঙ্গে নিয়ে শত্রুদেশে সফর করতে নিষেধ করেছেন। শুধু তাই নয়; রাসূলুল্লাহ এর যুগে অনেক সাহাবায়ে কিরামের কাছে কুরআনের ব্যক্তিগত কপি ছিল। যেমন, বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, ইউসুফ ইবনু মাহিক রহ. বলেন, আমি আয়িশা রাযি. এর কাছে বললাম, হে উম্মুল মুমিনীন! আমাকে আপনি আপনার কুরআনের কপি দেখান। তিনি বললেন, কেন? লোকটি বলল, এ তারতীবে কুরআনকে বিন্যস্ত করার জন্য।
মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে-
আবু ইউনুস র. বলেন, এক সময়ে আয়িশা রাযি. আমাকে কুরআন মাজীদের একটি কপি লিখে দিতে বলেন। তিনি বলেন, লিখতে লিখতে যখন সূরা বাকারা ২৩৮ আয়াত পর্যন্ত আসবে তখন আমাকে জানাবে। আবু ইউনুস রহ. বলেন, আমি এ আয়াতে পৌঁছে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি আমাকে আয়াতটি এভাবে লিখতে বললেন।... সালেম বিন আবদুল্লাহ বলেন, তিনি মাসলামা বিন আবদুল মালিকের সাথে রোমে ছিলেন। সেখানে এক ব্যক্তির মালপত্রের মধ্যে একটি চোরাই মাল পাওয়া গেল। সালেম সালেম বললেন, উমরের নিকট থেকে আব্দুল্লাহ আমাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, যার মালপত্রের মধ্যে কোনো চুরি করা জিনিস পাবে, তা পুড়িয়ে দাও। সালেম বলেন, তারপর মাসলামা তার মাল বাজারে বের করলেন। তাতে এক কপি কুরআন মাজীদ পেলেন। সালেম বললেন, কুরআনের কপিটি বিক্রি করে তার মূল্য সদকা করে দিন।
একটি হাদীসে কুরআন তিলাওয়াতের ফযিলত সম্পর্কে এসেছে- মহানবী বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির (কুরআন দেখা ছাড়া) মুখস্থ পড়া এক হাজার গুণ মর্যাদা সম্পন্ন। আর কুরআন খুলে দেখে দেখে পড়া মুখস্থ পড়ার দু' বা দু' হাজার গুণ পর্যন্ত মর্যাদা সম্পন্ন।” কুরআনুল কারীমের লিখিত কপি ছিল বিধায় আল্লাহর নবী দেখে পড়া ও না দেখে পড়ার আলাদা-আলাদা ফযীলত বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
২০২. বুখারী ২৮২৮, মুসলিম ১৮৬৯।
২০৩. সহীহ মুসলিম: ১৮৬৯।
২০৪. মুসলিম: ১৩১৪
২০৫. মুসনাদে আহমদ ১৪৪, আবু দাউদ ২৭১৩
২০৬. মিশকাত: ২১৬৭, কানযুল উম্মাল: ২৩০৪, তাবারানী: ৬০১
📄 আবু বকর সিদ্দীক ও উমর রাযি.-এর সময় কুরআনের কপি
কুরআনের লিখিত কপি (সঙ্কলিত মুসহাফ) আবু বকর রাযি.-এর কাছে রক্ষিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তা উমর রাযি.-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল, যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন। অতঃপর তা উমর রাযি.-এর কন্যা হাফসা (রাযি.)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল।
উসমান রাযি.-এর সময় কুরআনের কপি: আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, উসমান ইবনু আফফান রাযি. এই কথা বলে হাফসা রাযি.-এর নিকট লোক পাঠান যে, আপনার নিকট রক্ষিত কুরআনের মুসহাফ আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আমরা সেটি হতে কপি করার পর তা আপনাকে আবার ফেরত দিব।
মোটকথা, রাসূলুল্লাহ, আবু বকর ও উমর রাযি.-এর সময় কুরআনের কপি বিদ্যমান ছিল- যা অনেকগুলো সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সেখানে এ দাবী নিতান্তই মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং প্রকারান্তরে কুরআনের নির্ভরযোগ্যতার উপর প্রশ্ন তোলার শামিল যে, উসমান রাযি. এর আগে কুরআনের কোনো লিখিত কপিই ছিল না।
টিকাঃ
২০৭. সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর
২০৮. তিরমিযি: ৩১০৩