📄 জান্নাত লাভের জন্য বিশ্বাস অনুযায়ী কর্ম করা আবশ্যক
পবিত্র কুরআনে যে সকল স্থানে ঈমান/বিশ্বাসের আলোচনা করা হয়েছে, সে সকল স্থানে ঈমানের পাশাপাশি সৎকাজ তথা আমলে সালেহ্-এর কথাও বলা হয়েছে। যেমন, সূরা বাকারা ২৫, ৮২, ২৭৭, আল ইমরান ৫৭, নিসা ৫৭, ১২২, ১৭৩, মায়িদা ৯, ৯৩, আরাফ ৪২, ইউনুস ৪, ৯, হুদ ২৩, রাদ ২৯, ইবরাহিম ২৩, কাহাফ ৩০, ১০৭, মারইয়াম ৯৬, হজ্জ ১৪, ২৩, ৫০, ৫৬, শুআরা ২২৭, আনকাবুত ৭, ৯, ৫৮, রুম ১৫, ৪৫, লুকমান ৮, আলিফ লাম মীম সিজদাহ ১৯, সাবা ৪, ফাতির ৭, স্বয়াদ ২৪, ২৮, মুমিন ৫৮, হামীম সিজদাহ ৮, শুরা ২২, ২৩, ২৬, জাসিয়াহ ২১, ৩০, মুহাম্মাদ ২, ১২, ফাতহ ২৯, তুলাক ১১, ইনশিক্বাক্ব ২৫, বুরূজ ১১, তীন ৬, বায়্যিনাহ ৭ ও সূরা আসর ৩। কুরআনের এতগুলো আয়াতের সুস্পষ্ট বিরোধিতা করে পন্নী বলেছে, জান্নাত লাভের জন্য আমল জরুরী নয়।
পন্নী বলেছে, 'আর কোনো গোনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না।' অথচ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, সালাত [নামায] ত্যাগকারী জাহান্নামে যাবে। সূরা তাহরীম ৬ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো এবং তোমাদের পরিবারবর্গকেও বাঁচাও।” এখানেও স্পষ্ট যে, মুমিনগণ কোনো কারণে অস্থায়ী জাহান্নামে যেতে পারে সে জন্য আল্লাহ তাআলা বাঁচতে বলেছেন।
ইসলামে ঈমানের পরিপূরক হলো আমল। আল্লাহকে বিশ্বাস করার দাবীই হলো, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলা এবং তাঁর নাফরমানী না করা। যে ব্যক্তি এই দাবী পূরণ করল না, কুরআন ও হাদীসের শত শত দলীলের আলোকে এই অবাধ্যতার দায়ে সে জাহান্নামের শান্তি ভোগ করতে বাধ্য। এত সুস্পষ্ট বিষয়েও যে বা যারা ভিন্নমত পোষণ করে, তাদের চিন্তাধারা ও আকীদা-বিশ্বাস দীন-ঈমানের জন্যে কতটুকু ক্ষতিকর তা বুঝতে বুদ্ধি ও মস্তিষ্কের সুস্থতাই যথেষ্ট বৈ কী!
টিকাঃ
১৭২. মো'মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদীর আকীদা: পৃষ্ঠা-৭
১৭৩. সূরা মুদ্দাসসির: আয়াত-৪৩