📄 ফিরিশতা ও দেবদেবী একই সত্তা নয়
মালাকগণ পূত-পবিত্র। তারা কখনো আল্লাহ তাআলার নাফরমানী করেন না। আর দেবদেবীরা অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত থাকতেন। তাদের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে সবই ছিল- যা হিন্দু ধর্মগ্রন্থে পাওয়া যায়। নবী-রাসূলগণের কাছে ফিরিশতা ওহী নিয়ে আসেন- তাই প্রকৃতি ফিরিশতা হতে পারে না। কারণ, প্রকৃতি ওহী নিয়ে আসার ক্ষমতাই রাখে না।
কুরআন-হাদীসের আলোকে মালাক বা ফিরিশতাদের কিঞ্চিৎ বিবরণ হলো; “মালাক” শব্দকে ফার্সী ভাষায় ফিরিশতা বলা হয়। বাংলায় এই ফার্সী শব্দই প্রচলিত। আরবী 'মালাক' (مَلَك) শব্দটির অর্থ পত্রবাহক বা দূত। বহুবচনে বলা হয় 'মালাইকা' (ملائكة)। ব্যবহারিক অর্থ: আল্লাহর দূত (angel)।
রাসূল বলেছেন, "আমার সামনে বাইতুল মামুর উত্থিত হলো। আমি বললাম, হে জিবরীল, এটি কী? তিনি বললেন: 'এটি বাইতুল মা'মূর। প্রতিদিন এর মধ্যে ৭০ হাজার মালাক প্রবেশ করেন। যারা একবার বেরিয়ে যায় তারা আর কখনোই এখানে ফিরে আসেন না।” সকল ফিরিশতাদের নাম আমরা জানি না। একমাত্র আল্লাহ তাআলা জানেন। কয়েকজনের নাম আমরা ওহীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি। জিবরাঈল, মিকাঈল, মালিক, ইসরাফিল।
অদৃশ্য জগতের কোনো কিছুর বিষয়ে আল্লাহ আমাদেরকে ততটুকুই জানিয়েছেন, যতটুকু জানলে এবং বিশ্বাস করলে আমরা জাগতিক আধ্যাত্মিক কল্যাণ লাভ করতে পারব। এজন্য কুরআন ও হাদীসে আল্লাহর সাথে মালাকগণের সম্পর্ক, সৃষ্টি পরিচালনায় ও আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্দেশ বাস্তবায়নে তাঁদের দায়িত্ব এবং মানুষের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে। তাঁদের সৃষ্টি ও আকৃতি-প্রকৃতি সম্পর্কে সাধারণত বিশেষ কিছু বলা হয়নি। তবে কুরআন-হাদীসের বর্ণনা থেকে আমরা যা বুঝতে পারি তা নিম্নরূপ:
মালাকগণ মানুষের পূর্বে সৃষ্ট। আল্লাহর সম্মানিত ও অনুগত বান্দা। তারা নূরের তৈরি। তাদের পাখা আছে। তারা আকৃতি পরিবর্তন ও ধারণ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তখন আমি তার (মারইয়ামের) কাছে আমার রুহকে (জিবরাঈল) প্রেরণ করলাম, সে তাঁর নিকট পূর্ণ মানব আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।” কোনো কোনো সময় জিবরাঈল (আ) মানুষের আকৃতিতে রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট উপস্থিত হতেন। কখনো মানুষের বেশে ওহী নিয়ে আসতেন। ফিরিশতাগণ আল্লাহর সার্বক্ষণিক ইবাদত ও তাসবীহ পাঠ করেন। দায়িত্বশীল ফিরিশতা ওহী পৌঁছাতেন। তারা মানুষের রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করেন। মুমিনদের জন্য দু'আ করেন। মানুষের কর্ম লিপিবদ্ধ করেন ইত্যাদি।
টিকাঃ
১৫৩. এ ইসলাম ইসলামই নয়, পৃষ্ঠা ১৬
১৫৪. এ ইসলাম ইসলামই নয় ১৯পৃ.
১৫৫. হিন্দুদের প্রধান তিন দেবতা: ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা), বিষ্ণু (পালনকর্তা) এবং শিব (সংহারকর্তা)। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী তাদের স্ত্রী ও সন্তানাদি ছিল এবং তারা বিভিন্ন মানবিক কর্মে লিপ্ত থাকতেন যা ফিরিশতাদের গুণাবলীর সম্পূর্ণ বিপরীত। (শ্রী শ্রী ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, পৌরাণিক অভিধান, শ্রীমদ্ভাগবত-মহাপুরাণ দ্রষ্টব্য)।
১৫৬. বুখারী ৩/১১৭৩, ১৪১১; মুসলিম ১/১৪৬-১৫০।
১৫৭. সূরা মুদ্দাসির ৩১ আয়াত।
১৫৮. সূরা বাকারা ৯৮ আয়াত।
১৫৯. সূরা যুখরুফ ৭৭ আয়াত।
১৬০. মুসলিম ১/৫৩৪।
১৬১. সূরা স্বয়াদ: ৭১-৭৩ আয়াত।
১৬২. সূরা আম্বিয়া ২৬-২৮ আয়াত।
১৬৩. মুসলিম ৪/২২৯৪।
১৬৪. বুখারী ৩/১১৮১, ৪/১৮৪০, মুসলিম ১/১৫৮।
১৬৫. সূরা মারইয়াম ১৭ আয়াত।
১৬৬. বুখারী ১/২৭, ৪/১৭৯৩; মুসলিম ১/৩৫-৩৯।
১৬৭. সূরা আম্বিয়া ২০ আয়াত। সূরা আরাফ ২০৬ আয়াত।
১৬৮. সূরা বাকারা ৯৭, ৯৮; সূরা তাহরীম ৪; সূরা শুআরা ১৯২-১৯৪ আয়াত।
১৬৯. সূরা বাকারা ৯৭, ৯৮; সূরা তাহরীম ৪; সূরা শুআরা ১৯২-১৯৪ আয়াত।
১৭০. সুরা মুমিন ৭-৯ আয়াত।
১৭১. সূরা কাফ: ১৭-১৮, সূরা ইনফিতার ১০-১২ আয়াত।