📄 ১০. নামায, রোযা আনুষঙ্গিক
“যে জীবন-ব্যবস্থা দীন আল্লাহ নবীদের মাধ্যমে বার বার পাঠালেন- এর নাম, স্রষ্টা নিজে রাখলেন শান্তি, আরবী ভাষায় ইসলাম।... তাই আদম থেকে শেষ নবী মোহম্মদ (দঃ) পর্যন্ত যতবার নবীর মাধ্যমে এই জীবন-ব্যবস্থা তিনি পাঠালেন, সবগুলির ঐ একই নাম-ইসলাম-শান্তি। এই হোল সমস্ত ব্যাপারের মূল কথা। দীনের আর বাকি যেটুকু আছে, নামায, রোযা ইত্যাদি হাজারো কাজ, সব আনুষঙ্গিক, গৌণ।”
পন্নী বলছে, নামায, রোযা ইত্যাদি হাজারো ইবাদত আনুষঙ্গিক, গৌণ। অথচ কুরআন হাদীসে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে আল্লাহ তাআলা কুরআনের অনেকগুলো আয়াতে নামাযের নির্দেশ প্রদান করেছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত আদায় করা, রম যানের সাওম পালন করা ও বাইতুল্লাহ্র হজ্জ করা।
এই হাদীসে নামাযকে ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং রোযাকে ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়; মুসলিম শরীফের ৮২ নং হাদীসে এসেছে, নামায ত্যাগকারী সম্পর্কে মহানবী বলেছেন-
“বান্দা এবং কুফর ও শিরকের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামায ছেড়ে দেয়া।” নামায ত্যাগকারী যেখানে কাফির হয়ে যায়, সেখানে পন্নী বলে, এটা গৌণ, এর কোনো প্রাধান্যই নেই!
টিকাঃ
১২৮. এ ইসলাম ইসলামই নয়, পৃষ্ঠা ২১
১২৯. মুসলিম: হাদীস-১২৩, বুখারী হাদীস-৪২৪৩
📄 ১৩. জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত
পন্নী বলেছে, সামষ্টিক তাকওয়া হলো জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত। “ব্যক্তি ভালোমানুষি দিয়ে কেউ জান্নাতে যাবে না, কারণ জান্নাত সামষ্টিক। ইসলাম মানে শান্তি, তাই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করলে জান্নাতে ঠাঁই পাওয়া যাবে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি সামষ্টিক কাজ সুতরাং জান্নাতও একটি সামষ্টিক কাজের ফল। ... ব্যক্তি তাকওয়ার কোন মূল্য নেই। সামষ্টিক তাকওয়াই হলো জান্নাতে যাবার পূর্বশত।”
মহান আল্লাহ বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মুত্তাকী (তাকওয়াওয়ালা)।
কুরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “নিজেকে রক্ষা কর, জাহান্নাম থেকে নিজেকে বাঁচাও।” পাশাপাশি অন্যান্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করা, মানুষদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে মানতে উৎসাহিত করা অবশ্যই পূণ্যের কাজ এবং মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। তাই বলে নিজে তাকওয়া অর্জন করার কোনো গুরুত্ব নেই- বিষয়টি এমন নয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যুলুম করা থেকে নিজেকে বাঁচাও।” বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন, "নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।”
টিকাঃ
১৪৯. তাকওয়া ও হেদায়াহ, পৃষ্ঠা ৯
১৫০. সূরা হুজুরাত: ১৩
১৫১. মুসলিম ৬৭৪১ (সহিহ মুসলিম, আল-বিররু ওয়াস সিলাহ ওয়াল আদব, বাব তাহরিমুজ জুলম)
১৫২. মুসলিম ২২২ (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ফি ক্বওলিহি তা'আলা ওয়া আনজির 'আশিরতাকাল আক্বরবিন)
📄 ২৫. ছদ্মবেশী জঙ্গী সংগঠন
মূলত হেযবুত তওহীদ একটি ছদ্মবেশী জঙ্গী সংগঠন। সশস্ত্র সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে তাদের এই উগ্রবাদী তৎপরতা সম্পর্কে বহু প্রামাণ্য সংবাদ আগেও প্রকাশিত হয়েছে, এখনও হচ্ছে। গণমাধ্যম তথা পত্র-পত্রিকার খোঁজ-খবর রাখেন যারা, তারা নির্দিধায় বিষয়টি স্বীকার করবেন। প্রসঙ্গত আমরা এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন দেখবো।
দৈনিক কালের কণ্ঠ:
“ঘটনাটি গত (১৯-২-২০১৫) বৃহস্পতিবারের। রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কক্ষে যান দুই যুবক। তাঁরা নিজেদের হেযবুত তওহীদের মুজাহিদ (সদস্য) পরিচয় দিয়ে ওই চিকিৎসককে দাওয়াতপত্র দেন। এরপর সংগঠনকে সহায়তার জন্য চাঁদা দাবি করেন। সেই অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্র পেয়ে বিব্রত হন চিকিৎসক। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, 'পত্রপত্রিকায় দেখেছিলাম, ওই সংগঠনটি জঙ্গিবাদের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত। সেই সংগঠন এখন প্রকাশ্যে চাঁদা চাইতে এলো! স্মার্ট দুই যুবক এসে বলছে- তারা দেশের এমন অবস্থায় কিছু করতে চায়। আসলে কী হচ্ছে? এগুলো কিছুই বোঝা যাচ্ছে না!'
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জঙ্গিবাদ বিষয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠা এ সংগঠনের বিরুদ্ধেই মৌলবাদী প্রচারণাসহ জঙ্গিবাদের অভিযোগ আছে। হেযবুত তওহীদ বা এর অঙ্গীভূত কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত বছরের ২৩ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ২২ জানুয়ারি জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে 'কালো তালিকাভুক্ত' সংগঠন হেযবুত তওহীদ বা এর কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে যোগ না দিতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সতর্ক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেসব 'সন্দেহভাজন' সংগঠন নিষিদ্ধকরণের পর্যালোচনার তালিকায় আছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হেযবুত তওহীদ। এক বছর ধরে সংগঠনটি প্রচারণার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। দলীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন নামে সভা-সেমিনার করছে তারা। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ গণমাধ্যম অফিসে তারা তাদের প্রচারপত্র বিলি করছে। তারা সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের নিজেদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করারও চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে সূত্র।
হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এ সংগঠনটির বেশ কিছু কর্মীকে আমরা নানা অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছি।'
গত বছরের ২৩ নভেম্বর হেযবুত তওহীদকে কালো তালিকাভুক্ত করে চিঠি জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠির বিষয়বস্তুতে বলা হয়েছে, 'কালো তালিকাভুক্ত সংগঠন 'হেযবুত তওহীদ'-এর প্রচারণার নতুন কৌশলের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ'।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা: সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত 'হেযবুত তওহীদ' বা এর কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে যোগ না দিতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সতর্ক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠির আলোকে ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়।”
দৈনিক যুগান্তর:
“কালো তালিকাভুক্তিকে পরোয়া করে না হেজবুত তওহিদ” শিরোনামে বলা হয়েছে: আইন-শৃংখলা বাহিনীর 'কালো তালিকা'ভুক্ত উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠন হেজবুত তওহিদের তৎপরতা চলছে প্রকাশ্যেই।
হেযবুত তওহীদের চরমপন্থী অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বহু সদস্য, যাদের তারা 'মুজাহিদ/মুজাহিদা' বলে থাকে। রাজবাড়ীতে আটক সদস্যদের সংবাদ পরিবেশন করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ২৪.কম বলেছে-
“রাজবাড়ীতে পোস্টার লাগানোর সময় জঙ্গি সংগঠন হেযবুত তওহীদের ২ সদস্যকে বৃহস্পতিবার আটক করেছে পুলিশ।”
নেত্রকোনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খাঁন মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, হেযবুত তওহীদের নেত্রকোনা জেলা আমীর মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী সুমাইয়ার বিরুদ্ধে শেরপুরের বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাস ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে। এছাড়াও অন্য দুই আটক পারুল ও সুজনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
হেযবুত তওহীদ যে মূলত উগ্রবাদী জঙ্গী সংগঠন সে তথ্য আমরা অনলাইনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এনসাইক্লোপিডিয়া 'উইকিপিডিয়া'য় দেখতে পাই। হেযবুত তওহীদের পরিচয় দিতে গিয়ে সেখানে লেখা হয়েছে- “হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশভিত্তিক একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন যারা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে 'কালো তালিকাভুক্ত'।”
এছাড়াও বাংলাদেশের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ সম্পর্কিত বইয়ে লিখেছেন- “হেযবুত তওহীদ জঙ্গী সংগঠন।”
টিকাঃ
২৪৭. দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শিরোনাম: "হিজবুত তাওহীদের ছদ্মবেশ" রিপোর্টার: এস এম আজাদ
২৪৮. দৈনিক যুগান্তর, ২৮ আগস্ট ২০১৩
২৪৯. বাংলানিউজ২৪.কম, ২০ জানুয়ারি ২০১১, শিরোনাম: "রাজবাড়ীতে হেযুবত তওহীদের ২ সদস্য আটক"
২৫০. নেত্রকোনা নিউজ২৪, ৩ অক্টোবর ২০১৬, শিরোনাম: "নেত্রকোনায় হেযবুত তওহীদের ৪ সদস্য আটক"
২৫১. অঘোষিত যুদ্ধের ব্লু প্রিন্ট, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পৃষ্ঠা ৬৯, আগামী প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ ফাল্গুন ফেব্রুয়ারি ২০০৫।
📄 ২৬. বিনীত নিবেদন
প্রিয় ভাই! আমরা সকলে আদম-সন্তান বা আদম আ.-এর বংশধর এবং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত হিসেবে আমরা পরস্পর ভাই ভাই। আপনি আমার ভাই হিসেবে আপনার কাছে আমার বিনীত নিবেদন, সত্য জানা ও বুঝার চেষ্টা করুন, দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর সবাই বুঝবে কিন্তু সে সময় বুঝে কোনো লাভ হবে না।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য নবী। তিনি কখনো মিথ্যা বলেননি। তাঁর সকল কথা সত্য ও সঠিক। তিনি নিজ খেয়াল-খুশী থেকে কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, "আমার উম্মাতের একদল লোক সর্বদাই হকের (সত্যের) উপর প্রতিষ্ঠিত (অবিচল) থাকবে।”
১৯৯৫ সালে হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত এই হাজার বছরে যত মুসলমান এসেছিলেন সবাই ভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট, গোমরাহ হয়ে গেছে- কথাটি খুবই অযৌক্তিক ও উপরোক্ত হাদীস শরীফের বিপরীত। আপনি প্রতারণাকারী অথবা প্রতারিত হবেন না।
প্রিয় ভাই! কোনো দলের প্রতি কটাক্ষ করা বা কোনো দলকে ছোট করা আমার উদ্দেশ্য নয়; আপনার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত, দলীয় কোনো বিদ্বেষও নেই। আপনি আমাকে কোনো কষ্ট দেননি যে, আমি প্রতিশোধ নিব; বরং এটা ধর্মীয় বিষয়। এমনকি ঈমান বাঁচানোর লক্ষ্যে অপরিহার্য কর্তব্যও বটে। তাই আপনি বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে ঈমানী দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবেন বলে আমি আশাবাদী। আপনার ভাই হিসেবে আপনাকে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে চাই। শান্তির সহযোগী হতে চাই, নিজে বাঁচতে চাই এবং সকল মানুষকে বাঁচাতে চাই- এজন্যই এই ক্ষুদ্র চেষ্টা। আল্লাহ তাআলা কবুল করুন। আমীন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের স্রষ্টা আর আমরা তাঁর সৃষ্টি। তিনি স্বয়ং আমাদের জীবনে হিসেব নিবেন। তাই যেভাবেই হোক, আমাদের স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করে যেতে হবে, তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলতে হবে। অন্যথায় আমাদের বিপদের শেষ থাকবে না। এজন্য মহান স্রষ্টার ভয়বহ শাস্তি থেকে আমিও বাঁচতে চাই পাশাপাশি সকল মানুষকে বাঁচাতে চাই।
ইসলাম সকল মানুষের, সর্বকালের জন্য নির্ধারিত ধর্ম। এর মাঝে যে ন্যায়- বিচার, উদারতা, ভ্রাতৃত্ববোধ রয়েছে, তা উপস্থাপন করলে যে কোনো স্থান, কাল, গোত্র, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে বিমোহিত করে দেয়। ভিতরের মানবিক সত্তাটিকেই পরাভূত করে। এভাবেই ইসলাম ছড়িয়েছে পুরো বিশ্বে। খোঁজ নিলে দেখবেন, যেসব জায়গায় মুসলিম যায়নি কোনো দিনও, সেসব জায়গাতেও বিশ্বের অন্যান্য জায়গার মতোই ইসলাম তাঁর মানবতা, মহানুভবতা, আর উন্নত নৈতিকতার জোরে মানুষের অন্তরকে জয় করেছে।
করুণাময় প্রভুর ঘোষণা “হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর (বিভিন্ন পাপের মাধ্যমে) অত্যাচার করেছ, তোমরা আমার রহমত, দয়া থেকে নিরাশ হয়ো না। (যদি ফিরে আস) নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” অন্যত্র বলেন, “অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভুলবশত-মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হলো সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী।” শুধু ক্ষমা করে শেষ নয়, আল্লাহ তাআলা তাদের সকল পাপকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। ঘোষণা হচ্ছে “যারা কুফ্র ও শির্ক থেকে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের পাপ সমূহকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
সমাপ্ত
টিকাঃ
২৫২. মুসলিম ১০৩৭, বুখারী ২৭১০
২৫৩. সূরা যুমার: আয়াত-৫৩
২৫৪. সূরা নিসা: আয়াত-১৭
২৫৫. সূরা ফুরকান: আয়াত-৭০