📄 ৮. মহানবী ‘রাহমাতুল্লিল আলামীন’ হননি
“বিশ্বনবীর উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্বকে যারা মাঝপথে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, তারা আল্লাহর দেওয়া বিশ্বনবীর উপাধি, 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' কেও পূর্ণ হতে দেননি; অর্থাৎ তিনি এখনও 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' হননি।” সূরা আম্বিয়া ১০৭ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
(হে নবী!) আমি আপনাকে বিশ্ব জগতের জন্য কেবল রহমত করেই পাঠিয়েছি।
জনাব পন্নী ভেবেছেন, ইসলাম মূলত একটি রাজনীতিসর্বস্ব ধর্ম। ইসলামের মূল উদ্দেশ্যই হলো রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করা। তাই তিনি ইসলামের সবগুলো বিধানকেই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে বিচার করেছেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর "রাহমাতুল্লিল আলামীন” (সমগ্র বিশ্বের জন্যে রহমতস্বরূপ) হওয়ার ব্যাখ্যাও তিনি রাজনৈতিকভাবেই করেছেন। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: নবীজী “রাহমাতুল্লিল আলামীন” হওয়ার মানে হলো, সারা বিশ্বে তাঁর আনীত দীনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়া। ব্যস্ এতটুকুই। তাঁর "রাহমাতুল্লিল আলামীন" হওয়ার আর কোনো অর্থই নেই।
কুরআনের এই আয়াতসহ অন্যসব আয়াতের ব্যাখ্যা বোঝার ক্ষেত্রে যদি তিনি নিজের বুঝ-বুদ্ধির ওপর শতভাগ নির্ভর না-করে কুরআন যার উপর নাযিল হয়েছে সেই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর করা ব্যাখ্যাকে জানার চেষ্টা করতেন এবং চূড়ান্ত বলে মেনে নিতেন, যদি তিনি নবীজীর কাছে যারা কুরআনের তথা ইসলামের সকল বিধানের ব্যাখ্যা ও পালন-পদ্ধতি শিখেছেন, সেই সাহাবায়ে কেরামের এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম-তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও উলামায়ে কেরামের রেখে যাওয়া অমূল্য জ্ঞানভাণ্ডার থেকে জ্ঞান আহরণের চেষ্টা করতেন তা হলে তিনি আর এই ভুল (বলুন: মহাভুল) পথে নিজেও চলতেন না, অন্যদেরও পরিচালিত করতেন না।
কুরআনের তাফসীরের কিতাবগুলো খুললেই তিনি দেখতে পেতেন, রাহমাতুল্লিল আলামীন-কথাটির ব্যাখ্যায় স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে: “আল্লাহ তাআলা তাঁকে রাহমাতুল্লিল আলামীন এজন্যই বলেছেন, কারণ, সাইয়েদুল মুরসালীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে পাঠানোর মাধ্যমে তিনি সমগ্র বিশ্ববাসীর ওপর রহমত ও দয়া করেছেন। কেননা তিনি (রাসূলুল্লাহ) তো তাদের জন্যে মহাসৌভাগ্যের দ্বার উন্মোচন করেছেন, চিরস্থায়ী দুর্ভাগ্যের পথ থেকে ফিরিয়ে চিরমুক্তির পথ দেখিয়েছেন, ইহ ও পরকালে তাঁরই মাধ্যমে তারা অজস্র-অগণিত কল্যাণ ও মঙ্গল লাভ করেছে। তিনি ইলমে দীনের আলোয় তাদের মূর্খতার অন্ধকার দূর করেছেন, গোমরাহীর অতল গহ্বর থেকে হেদায়াত ও মুক্তির রাজপথে তুলে এনেছেন। এমনকি তাঁর ওসীলায় কাফির-মুশরিকরাও রহমতপ্রাপ্ত হয়েছে! আর তা এভাবে যে, এত নাফরমানী ও পাপাচার সত্ত্বেও তাদেরকে আগেকার উম্মতের মতো শারীরিক বিকৃতি, ভূমিধ্বস কিংবা সর্বব্যাপী তুফানের সয়লাবে ডুবিয়ে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ফেলা হচ্ছে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
আল্লাহ তাআলা এমন নন যে, আপনার উপস্থিতিতে তাদেরকে তিনি আযাবে নিপতিত করবেন।
এছাড়াও সহীহ মুসলিম শরীফে আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে আমরা দেখতে পাই: একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- কে বলা হলো, 'আপনি মুশরিকদের জন্যে বদদোয়া করুন। তখন তিনি বললেন-
"আমি অভিশাপ দেওয়ার জন্যে প্রেরিত হইনি, আমাকে তো পাঠানো হয়েছে কেবল রহমতরূপে।" এ থেকে স্পষ্টই বোঝা যায়, তাঁর রাহমাতুল্লিল আলামীন হওয়ার কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তিনি করেননি, বরং সর্বকালের সব জাতিগোষ্ঠীর জন্যে তাঁকে আল্লাহ তাআলা দয়া ও করুণার আধার করে পাঠিয়েছেন-এ কথাটিই তিনি বুঝিয়েছেন।
টিকাঃ
১১৯. মো'মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদীর আকীদা: পৃষ্ঠা-১৯
১২০. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এর ব্যাখ্যা, তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৫/৩৯৫-৩৯৭; সফওয়াতুত তাফাসীর: ২/২৬৪; তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন: ৬/২৮১ ই. ফা. বা.
১২১. সূরা আনফাল আয়াত-৩৩ প্রাগুক্ত
১২২. সহীহ মুসলিম হাদীস: হাদীস-২৫৯৯
📄 ১০. নামায, রোযা আনুষঙ্গিক
“যে জীবন-ব্যবস্থা দীন আল্লাহ নবীদের মাধ্যমে বার বার পাঠালেন- এর নাম, স্রষ্টা নিজে রাখলেন শান্তি, আরবী ভাষায় ইসলাম।... তাই আদম থেকে শেষ নবী মোহম্মদ (দঃ) পর্যন্ত যতবার নবীর মাধ্যমে এই জীবন-ব্যবস্থা তিনি পাঠালেন, সবগুলির ঐ একই নাম-ইসলাম-শান্তি। এই হোল সমস্ত ব্যাপারের মূল কথা। দীনের আর বাকি যেটুকু আছে, নামায, রোযা ইত্যাদি হাজারো কাজ, সব আনুষঙ্গিক, গৌণ।”
পন্নী বলছে, নামায, রোযা ইত্যাদি হাজারো ইবাদত আনুষঙ্গিক, গৌণ। অথচ কুরআন হাদীসে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে আল্লাহ তাআলা কুরআনের অনেকগুলো আয়াতে নামাযের নির্দেশ প্রদান করেছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত আদায় করা, রম যানের সাওম পালন করা ও বাইতুল্লাহ্র হজ্জ করা।
এই হাদীসে নামাযকে ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং রোযাকে ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়; মুসলিম শরীফের ৮২ নং হাদীসে এসেছে, নামায ত্যাগকারী সম্পর্কে মহানবী বলেছেন-
“বান্দা এবং কুফর ও শিরকের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামায ছেড়ে দেয়া।” নামায ত্যাগকারী যেখানে কাফির হয়ে যায়, সেখানে পন্নী বলে, এটা গৌণ, এর কোনো প্রাধান্যই নেই!
টিকাঃ
১২৮. এ ইসলাম ইসলামই নয়, পৃষ্ঠা ২১
১২৯. মুসলিম: হাদীস-১২৩, বুখারী হাদীস-৪২৪৩
📄 ১৩. জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত
পন্নী বলেছে, সামষ্টিক তাকওয়া হলো জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত। “ব্যক্তি ভালোমানুষি দিয়ে কেউ জান্নাতে যাবে না, কারণ জান্নাত সামষ্টিক। ইসলাম মানে শান্তি, তাই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করলে জান্নাতে ঠাঁই পাওয়া যাবে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি সামষ্টিক কাজ সুতরাং জান্নাতও একটি সামষ্টিক কাজের ফল। ... ব্যক্তি তাকওয়ার কোন মূল্য নেই। সামষ্টিক তাকওয়াই হলো জান্নাতে যাবার পূর্বশত।”
মহান আল্লাহ বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মুত্তাকী (তাকওয়াওয়ালা)।
কুরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “নিজেকে রক্ষা কর, জাহান্নাম থেকে নিজেকে বাঁচাও।” পাশাপাশি অন্যান্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করা, মানুষদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে মানতে উৎসাহিত করা অবশ্যই পূণ্যের কাজ এবং মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। তাই বলে নিজে তাকওয়া অর্জন করার কোনো গুরুত্ব নেই- বিষয়টি এমন নয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যুলুম করা থেকে নিজেকে বাঁচাও।” বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন, "নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।”
টিকাঃ
১৪৯. তাকওয়া ও হেদায়াহ, পৃষ্ঠা ৯
১৫০. সূরা হুজুরাত: ১৩
১৫১. মুসলিম ৬৭৪১ (সহিহ মুসলিম, আল-বিররু ওয়াস সিলাহ ওয়াল আদব, বাব তাহরিমুজ জুলম)
১৫২. মুসলিম ২২২ (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ফি ক্বওলিহি তা'আলা ওয়া আনজির 'আশিরতাকাল আক্বরবিন)
📄 ২৫. ছদ্মবেশী জঙ্গী সংগঠন
মূলত হেযবুত তওহীদ একটি ছদ্মবেশী জঙ্গী সংগঠন। সশস্ত্র সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে তাদের এই উগ্রবাদী তৎপরতা সম্পর্কে বহু প্রামাণ্য সংবাদ আগেও প্রকাশিত হয়েছে, এখনও হচ্ছে। গণমাধ্যম তথা পত্র-পত্রিকার খোঁজ-খবর রাখেন যারা, তারা নির্দিধায় বিষয়টি স্বীকার করবেন। প্রসঙ্গত আমরা এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন দেখবো।
দৈনিক কালের কণ্ঠ:
“ঘটনাটি গত (১৯-২-২০১৫) বৃহস্পতিবারের। রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কক্ষে যান দুই যুবক। তাঁরা নিজেদের হেযবুত তওহীদের মুজাহিদ (সদস্য) পরিচয় দিয়ে ওই চিকিৎসককে দাওয়াতপত্র দেন। এরপর সংগঠনকে সহায়তার জন্য চাঁদা দাবি করেন। সেই অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্র পেয়ে বিব্রত হন চিকিৎসক। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, 'পত্রপত্রিকায় দেখেছিলাম, ওই সংগঠনটি জঙ্গিবাদের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত। সেই সংগঠন এখন প্রকাশ্যে চাঁদা চাইতে এলো! স্মার্ট দুই যুবক এসে বলছে- তারা দেশের এমন অবস্থায় কিছু করতে চায়। আসলে কী হচ্ছে? এগুলো কিছুই বোঝা যাচ্ছে না!'
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জঙ্গিবাদ বিষয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠা এ সংগঠনের বিরুদ্ধেই মৌলবাদী প্রচারণাসহ জঙ্গিবাদের অভিযোগ আছে। হেযবুত তওহীদ বা এর অঙ্গীভূত কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত বছরের ২৩ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ২২ জানুয়ারি জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে 'কালো তালিকাভুক্ত' সংগঠন হেযবুত তওহীদ বা এর কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে যোগ না দিতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সতর্ক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেসব 'সন্দেহভাজন' সংগঠন নিষিদ্ধকরণের পর্যালোচনার তালিকায় আছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হেযবুত তওহীদ। এক বছর ধরে সংগঠনটি প্রচারণার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। দলীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন নামে সভা-সেমিনার করছে তারা। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ গণমাধ্যম অফিসে তারা তাদের প্রচারপত্র বিলি করছে। তারা সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের নিজেদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করারও চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে সূত্র।
হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এ সংগঠনটির বেশ কিছু কর্মীকে আমরা নানা অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছি।'
গত বছরের ২৩ নভেম্বর হেযবুত তওহীদকে কালো তালিকাভুক্ত করে চিঠি জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠির বিষয়বস্তুতে বলা হয়েছে, 'কালো তালিকাভুক্ত সংগঠন 'হেযবুত তওহীদ'-এর প্রচারণার নতুন কৌশলের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ'।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা: সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত 'হেযবুত তওহীদ' বা এর কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে যোগ না দিতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সতর্ক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠির আলোকে ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়।”
দৈনিক যুগান্তর:
“কালো তালিকাভুক্তিকে পরোয়া করে না হেজবুত তওহিদ” শিরোনামে বলা হয়েছে: আইন-শৃংখলা বাহিনীর 'কালো তালিকা'ভুক্ত উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠন হেজবুত তওহিদের তৎপরতা চলছে প্রকাশ্যেই।
হেযবুত তওহীদের চরমপন্থী অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বহু সদস্য, যাদের তারা 'মুজাহিদ/মুজাহিদা' বলে থাকে। রাজবাড়ীতে আটক সদস্যদের সংবাদ পরিবেশন করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ২৪.কম বলেছে-
“রাজবাড়ীতে পোস্টার লাগানোর সময় জঙ্গি সংগঠন হেযবুত তওহীদের ২ সদস্যকে বৃহস্পতিবার আটক করেছে পুলিশ।”
নেত্রকোনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খাঁন মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, হেযবুত তওহীদের নেত্রকোনা জেলা আমীর মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী সুমাইয়ার বিরুদ্ধে শেরপুরের বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাস ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে। এছাড়াও অন্য দুই আটক পারুল ও সুজনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
হেযবুত তওহীদ যে মূলত উগ্রবাদী জঙ্গী সংগঠন সে তথ্য আমরা অনলাইনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এনসাইক্লোপিডিয়া 'উইকিপিডিয়া'য় দেখতে পাই। হেযবুত তওহীদের পরিচয় দিতে গিয়ে সেখানে লেখা হয়েছে- “হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশভিত্তিক একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন যারা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে 'কালো তালিকাভুক্ত'।”
এছাড়াও বাংলাদেশের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ সম্পর্কিত বইয়ে লিখেছেন- “হেযবুত তওহীদ জঙ্গী সংগঠন।”
টিকাঃ
২৪৭. দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শিরোনাম: "হিজবুত তাওহীদের ছদ্মবেশ" রিপোর্টার: এস এম আজাদ
২৪৮. দৈনিক যুগান্তর, ২৮ আগস্ট ২০১৩
২৪৯. বাংলানিউজ২৪.কম, ২০ জানুয়ারি ২০১১, শিরোনাম: "রাজবাড়ীতে হেযুবত তওহীদের ২ সদস্য আটক"
২৫০. নেত্রকোনা নিউজ২৪, ৩ অক্টোবর ২০১৬, শিরোনাম: "নেত্রকোনায় হেযবুত তওহীদের ৪ সদস্য আটক"
২৫১. অঘোষিত যুদ্ধের ব্লু প্রিন্ট, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পৃষ্ঠা ৬৯, আগামী প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ ফাল্গুন ফেব্রুয়ারি ২০০৫।