📘 হেযবুত তওহীদ স্বরূপ বিশ্লেষণ 📄 আয়াত ও মুজিযা

📄 আয়াত ও মুজিযা


সকল নবী-রাসূল আয়াত বা মুজিযা প্রাপ্ত ছিলেন। মুজিযা (المعجزة) শব্দটি আরবী 'ইজায' (إعجاز) শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ 'অক্ষম করা'। মুজিযা অর্থ: 'মানুষ যা করতে অক্ষম এমন কোনো অলৌকিক কাজ বা নিদর্শন”। নবীগণ তাঁদের নবুওয়াতের দাবি প্রমাণ করতে যে সকল অলৌকিক কর্ম বা নিদর্শন প্রদর্শন করতেন সেগুলোকে মুজিযা বলা হয়।

মুজিযা শব্দটি কুরআন-হাদীসে ব্যবহৃত হয়নি। কুরআন ও হাদীসে মুজিযা বুঝাতে 'আয়াত' (الآية) অর্থাৎ 'চিহ্ন' বলা হয়েছে। 'মুজিযা' বুঝাতে ইমাম আবু হানীফা 'আয়াত' শব্দটিই ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন-

নবীগণের জন্য 'আয়াত' প্রমাণিত। এবং ওলীগণের কারামত সত্য। আর ইবলীস, ফিরাউন, দাজ্জাল ও তাদের মত আল্লাহর দুশমনদের দ্বারা যে সকল অলৌকিক কর্ম সাধিত হয়, যে সকল অলৌকিক কর্মের বিষয়ে কুরআন-হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের দ্বারা তা সংঘটিত হয়েছিল বা হবে, সেগুলোকে আমরা আয়াত বা কারামত বলি না, বরং এগুলোকে আমরা তাদের 'কাযায়ে হাজাত' বা প্রয়োজন মেটানো বলি। কারণ আল্লাহ তাঁর দুশমনদের প্রয়োজন মিটিয়ে দেন 'ইসতিদরাজ' হিসেবে তাদেরকে ক্রমান্বয়ে গোমরাহীর দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং তাদের শান্তি হিসেবে। এতে তারা ধোঁকাগ্রস্ত হয় এবং আরো বেশি অবাধ্যতা ও অবিশ্বাসে নিপতিত হয়। এগুলো সবই সম্ভব।”

মুমিনগণ বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহর নবী-রাসূলগণ আল্লাহর ওহী ও মুজিযা লাভ করেছেন। আল্লাহ নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে মুজিযা বা অলৌকিক কার্য প্রদর্শন করেছেন অবিশ্বাসীদেরকে বিশ্বাসের পথে আহবান করার জন্য। মোটকথা, নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুজিযা প্রকাশ করেন। আর হেযবুত তওহীদের এমাম পন্নী ও তার অনুসারীরা বলেছে, তার মাধ্যমে নাকি আল্লাহ মুজিযা প্রকাশ করেছেন। 'যামানার এমামের পত্রবলী' গ্রন্থে বলা হয়েছে, “এই অলৌকিক সংখ্যাজাল এটাই প্রমাণ করে যে সেদিন এমামুযযামান যা বোলেছেন সেগুলো আল্লাহর কথা যা তিনি এমামের মুখ দিয়ে বোলিয়েছেন।”

আজ পর্যন্ত যারাই দাবী করেছে যে, আমরাই হক, বাকি সব মুসলমান পথভ্রষ্ট গোমরাহ, যারাই কুরআন-হাদীসের ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা করে মানুষকে সঠিক দীন থেকে সরিয়ে ফেলার চক্রান্ত করেছে, তাদের সবাই এই ধরণের অলৌকিকত্বের দাবীদার ছিল। নিজেদের 'নবদর্শনের' পক্ষে কুরআন-হাদীসের কোনো স্পষ্ট ও চাক্ষুস প্রমাণ দেখাতে না পেরে তারা এই ধোঁয়াশাপূর্ণ ও গায়েবী 'বাতেনী তরীকা'র আশ্রয় গ্রহণ করত। তাদের নতুন অনুসারীদের মনে আশার সঞ্চার করার জন্যে এবং এসব অপকৌশলের জালে আটকে নতুনদের দলে ভেড়াবার উদ্দেশ্যে এটা ছিল এক মোক্ষম হাতিয়ার। আমাদের মুক্তির দিশারী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এমন কোনো অস্পষ্ট ও কুয়াশাচ্ছন্ন দীনের ওপর রেখে বিদায় নেননি যে, কোনো বিভ্রান্ত 'সংস্কারকে'র নতুন দাবীকে প্রমাণ করার জন্যে এসব অলৌকিক গপ্পের জাল পাতলেই আমরা তাতে পা দেবো। কারো হক হওয়া বা বাতিল হওয়ার জন্যে নবুয়তের দরজা বন্ধ হবার পর আর কোনো অলৌকিক কাহিনীর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার কোনো বৈধতা নেই, সুযোগও নেই। কুরআন ও হাদীসের দলীলই ফয়সালা করবে- কে হক, আর কে বাতিল। রাসূলুল্লাহ আমাদের বলে গিয়েছেন-

“আমি তোমাদেরকে একটি পরিষ্কার পথের ওপর রেখে যাচ্ছি-যা রাতের অন্ধকারেও দিনের আলোর মতো সমুজ্জ্বল। আমার (ইন্তেকালের) পর যে-ই (এই পরিষ্কার রাস্তা) থেকে সরে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে। বেঁচে থাকলে তোমরা ভবিষ্যতে অনেক মতভিন্নতা দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার যে আদর্শের শিক্ষা গ্রহণ করেছ (যা তোমাদের পরিচিত) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে, যেমনভাবে কেউ তার মাড়ির দাঁত দিয়ে কোনো কিছুকে কামড়ে ধরে থাকে।”

কাজেই শরীয়তের সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণের বিরুদ্ধে গিয়ে যে যতই অলৌকিকত্বের দাবী করুক, তা একবাক্যে পরিত্যাজ্য, বর্জনীয়। হ্যাঁ, কেউ যদি শরীয়তমতো চলে এবং তার সঙ্গে কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে তাহলে তাকে ইসলামী আকীদার ভাষায় বলা হয় 'কারামত'- যা কোনো ব্যক্তির বা দলের সত্যপন্থী হওয়ার দলীল না।

টিকাঃ
১১৫. মোল্লা আলী কারী, শারহুল ফিকহিল আকবার, পৃ. ১৩০; জুরজানী, আত-তা'রীফাত, পৃ. ২৮২।
১১৬. মোল্লা আলী কারী, শারহুল ফিকহিল আকবার, পৃ. ১৩০-১৩৪
১১৭. যামানার এমামের পত্রবালী, পৃষ্ঠা ৪
১১৮. সুনানে ইবনে মাজা হাদীস: ৪৩; মুসনাদে আহমাদ হাদীস: ১৭১৮২।

সকল নবী-রাসূল আয়াত বা মুজিযা প্রাপ্ত ছিলেন। মুজিযা (المعجزة) শব্দটি আরবী 'ইজায' (إعجاز) শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ 'অক্ষম করা'। মুজিযা অর্থ: 'মানুষ যা করতে অক্ষম এমন কোনো অলৌকিক কাজ বা নিদর্শন”। নবীগণ তাঁদের নবুওয়াতের দাবি প্রমাণ করতে যে সকল অলৌকিক কর্ম বা নিদর্শন প্রদর্শন করতেন সেগুলোকে মুজিযা বলা হয়।

মুজিযা শব্দটি কুরআন-হাদীসে ব্যবহৃত হয়নি। কুরআন ও হাদীসে মুজিযা বুঝাতে 'আয়াত' (الآية) অর্থাৎ 'চিহ্ন' বলা হয়েছে। 'মুজিযা' বুঝাতে ইমাম আবু হানীফা 'আয়াত' শব্দটিই ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন-
নবীগণের জন্য 'আয়াত' প্রমাণিত। এবং ওলীগণের কারামত সত্য। আর ইবলীস, ফিরাউন, দাজ্জাল ও তাদের মত আল্লাহর দুশমনদের দ্বারা যে সকল অলৌকিক কর্ম সাধিত হয়, যে সকল অলৌকিক কর্মের বিষয়ে কুরআন-হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের দ্বারা তা সংঘটিত হয়েছিল বা হবে, সেগুলোকে আমরা আয়াত বা কারামত বলি না, বরং এগুলোকে আমরা তাদের 'কাযায়ে হাজাত' বা প্রয়োজন মেটানো বলি। কারণ আল্লাহ তাঁর দুশমনদের প্রয়োজন মিটিয়ে দেন 'ইসতিদরাজ' হিসেবে তাদেরকে ক্রমান্বয়ে গোমরাহীর দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং তাদের শান্তি হিসেবে। এতে তারা ধোঁকাগ্রস্ত হয় এবং আরো বেশি অবাধ্যতা ও অবিশ্বাসে নিপতিত হয়। এগুলো সবই সম্ভব।”

মুমিনগণ বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহর নবী-রাসূলগণ আল্লাহর ওহী ও মুজিযা লাভ করেছেন। আল্লাহ নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে মুজিযা বা অলৌকিক কার্য প্রদর্শন করেছেন অবিশ্বাসীদেরকে বিশ্বাসের পথে আহবান করার জন্য। মোটকথা, নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুজিযা প্রকাশ করেন। আর হেযবুত তওহীদের এমাম পন্নী ও তার অনুসারীরা বলেছে, তার মাধ্যমে নাকি আল্লাহ মুজিযা প্রকাশ করেছেন। 'যামানার এমামের পত্রবলী' গ্রন্থে বলা হয়েছে, “এই অলৌকিক সংখ্যাজাল এটাই প্রমাণ করে যে সেদিন এমামুযযামান যা বোলেছেন সেগুলো আল্লাহর কথা যা তিনি এমামের মুখ দিয়ে বোলিয়েছেন।”

আজ পর্যন্ত যারাই দাবী করেছে যে, আমরাই হক, বাকি সব মুসলমান পথভ্রষ্ট গোমরাহ, যারাই কুরআন-হাদীসের ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা করে মানুষকে সঠিক দীন থেকে সরিয়ে ফেলার চক্রান্ত করেছে, তাদের সবাই এই ধরণের অলৌকিকত্বের দাবীদার ছিল। নিজেদের 'নবদর্শনের' পক্ষে কুরআন- হাদীসের কোনো স্পষ্ট ও চাক্ষুস প্রমাণ দেখাতে না পেরে তারা এই ধোঁয়াশাপূর্ণ ও গায়েবী 'বাতেনী তরীকা'র আশ্রয় গ্রহণ করত। তাদের নতুন অনুসারীদের মনে আশার সঞ্চার করার জন্যে এবং এসব অপকৌশলের জালে আটকে নতুনদের দলে ভেড়াবার উদ্দেশ্যে এটা ছিল এক মোক্ষম হাতিয়ার। আমাদের মুক্তির দিশারী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এমন কোনো অস্পষ্ট ও কুয়াশাচ্ছন্ন দীনের ওপর রেখে বিদায় নেননি যে, কোনো বিভ্রান্ত 'সংস্কারকে'র নতুন দাবীকে প্রমাণ করার জন্যে এসব অলৌকিক গপ্পের জাল পাতলেই আমরা তাতে পা দেবো। কারো হক হওয়া বা বাতিল হওয়ার জন্যে নবুয়তের দরজা বন্ধ হবার পর আর কোনো অলৌকিক কাহিনীর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার কোনো বৈধতা নেই, সুযোগও নেই। কুরআন ও হাদীসের দলীলই ফয়সালা করবে- কে হক, আর কে বাতিল। রাসূলুল্লাহ আমাদের বলে গিয়েছেন-

“আমি তোমাদেরকে একটি পরিষ্কার পথের ওপর রেখে যাচ্ছি-যা রাতের অন্ধকারেও দিনের আলোর মতো সমুজ্জ্বল। আমার (ইন্তেকালের) পর যে-ই (এই পরিষ্কার রাস্তা) থেকে সরে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে। বেঁচে থাকলে তোমরা ভবিষ্যতে অনেক মতভিন্নতা দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার যে আদর্শের শিক্ষা গ্রহণ করেছ (যা তোমাদের পরিচিত) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে, যেমনভাবে কেউ তার মাড়ির দাঁত দিয়ে কোনো কিছুকে কামড়ে ধরে থাকে।”

কাজেই শরীয়তের সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণের বিরুদ্ধে গিয়ে যে যতই অলৌকিকত্বের দাবী করুক, তা একবাক্যে পরিত্যাজ্য, বর্জনীয়। হ্যাঁ, কেউ যদি শরীয়তমতো চলে এবং তার সঙ্গে কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে তাহলে তাকে ইসলামী আকীদার ভাষায় বলা হয় 'কারামত'- যা কোনো ব্যক্তির বা দলের সত্যপন্থী হওয়ার দলীল না।

টিকাঃ
১১৫. মোল্লা আলী কারী, শারহুল ফিকহিল আকবার, পৃ. ১৩০; জুরজানী, আত-তা'রীফাত, পৃ. ২৮২।
১১৬. মোল্লা আলী কারী, শারহুল ফিকহিল আকবার, পৃ. ১৩০-১৩৪
১১৭. যামানার এমামের পত্রবালী, পৃষ্ঠা ৪
১১৮. সুনানে ইবনে মাজা হাদীস: ৪৩; মুসনাদে আহমাদ হাদীস: ১৭১৮২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px