📄 ৬. হেযবুত তওহীদ নতুন ধর্ম
(১) ঐক্যবদ্ধ হও। (২) (নেতার আদেশ) শোন। (৩) (নেতার ঐ আদেশ) পালন করো। (৪) হেজরত করো। (৫) (এই দীনুল হক কে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জন্য) আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করো।
পন্নী নিম্নোক্ত ছকের মাধ্যমে পাঁচটি কর্মসূচীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কর্মসূচী অর্থ (ক) আল্লাহ ও রসুলের ওপর ঈমান- (তওহীদ) (ক) ঐক্য (খ) সালাত (নামাজ)' (খ) (নেতার আদেশ)- শোনা (গ) যাকাত (গ) (ঐ আদেশ)- পালন করা (ঘ) হজ্ব (ঘ) হেজরত করা (ঙ) সওম (রোজা) (ঙ) আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করা
বায়াজীদ খান পন্নীর এসলাম হলো: ঐক্য (ঈমান), নেতার আদেশ শোনার প্রশিক্ষণ (নামায), নেতার আদেশ মানা (যাকাত), হিজরত (হজ্ব), জিহাদ সশস্ত্র সংগ্রাম (সওম)। অর্থাৎ পন্নীর এসলাম এবং আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কয়েকটি লক্ষ করুন:
পার্থক্য-১: পন্নীর এসলামে ঈমান মানে ঐক্য। আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামে ঈমান মানে ঐক্য নয়; ঈমান (ঈমান)-এর শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস স্থাপন করা, সত্যায়ন করা ইত্যাদি। পরিভাষায়: নবীজী দীনের অত্যাবশ্যকীয় বিস্তারিত এবং সংক্ষিপ্ত যে বিধানাবলী নিয়ে এসেছেন সেগুলোসহ চূড়ান্তভাবে তাকে সত্যায়ন করাকেই ঈমান বলে। ঈমান সম্পর্কে মহানবীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঈমান হলো, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর প্রেরিত নবীগণ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখবে এবং তুমি তাকদীর ও তার ভালো ও মন্দের প্রতিও ঈমান রাখবে।
পার্থক্য-২: পন্নীর এসলামে নামায মানে ট্রেনিং। আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামে নামায মানে প্রশিক্ষণ নয়; নামায হলো, নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদায় করা হয় এমন একটি ইবাদত।
পার্থক্য-৩: পন্নীর এসলামে যাকাত মানে নেতার আদেশ মানা। আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামে নেতার আদেশ মানাকে যাকাত বলা হয় না। যাকাত হলো, আল্লাহ তাআলার নির্দেশিত পন্থায় সম্পদ ব্যয় করার মাধ্যমে আদায় করা আল্লাহর একটি ইবাদত।
পার্থক্য-৪: হেযবুত তওহীদ ধর্মের স্রষ্টা/আল্লাহ্ যা করতে পারেন এ ধর্মের অনুসারী/মানুষও তাই করতে পারে। ইসলাম ধর্মে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকে কেউ জন্ম দেয়নি, তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। তিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং সবকিছুর কর্মবিধায়ক। আর মানুষ হলো তাঁর একটি দুর্বল সৃষ্টিমাত্র।
পার্থক্য-৫: হেযবুত তওহীদ ধর্মে সালাত/নামায, রোযা ইত্যাদি হাজারো কাজ সব আনুষঙ্গিক, গৌণ। জনাব পন্নী বলছেন: “দীনের আর বাকি যেটুকু আছে, নামায, রোযা ইত্যাদি হাজারো কাজ, সব আনুষঙ্গিক, গৌণ।” পক্ষান্তরে আল্লাহর প্রদত্ত ধর্মে নামায-রোজা হচ্ছে এই ধর্মের ভিত্তি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত: এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত আদায় করা, রমযানের সাওম পালন করা ও বাইতুল্লাহ্র হজ্জ করা।”
পার্থক্য-৬: হেযবুত তওহীদ ধর্মে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা অনাবশ্যক। “প্রথম হলো পৃথিবীতে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত কোরে শান্তি প্রতিষ্ঠা কোরে, তারপর আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা। প্রথমটা ফরজ, দ্বিতীয়টা নফল।"
পার্থক্য-৭: হেযবুত তওহীদ ধর্মে বেদ-বাইবেল আসমানী কিতাব। ইসলাম ধর্মে বাইবেল কোনো আসমানী কিতাব নয়; মানব রচিত গ্রন্থ। বেদকে খোদ তার অনুসারীরাই আসমানী কিতাব বলে দাবী করে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন- আর তাদের (ইহুদী-নাসারা) মধ্যে একদল রয়েছে, যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা মনে কর যে, তারা কিতাব থেকেই পাঠ করছে। অথচ তারা যা আবৃত্তি করছে তা আদৌ কিতাব নয় এবং বলে যে, এসব কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নয়। তারা বলে এসব আল্লাহর কথা অথচ এসব আল্লাহর কথা নয়। আর তারা জেনে শুনেই আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে।
পার্থক্য-৮: হেযবুত তওহীদ ধর্মে ফিরিশতা, দেবদেবী ও প্রকৃতি একই জিনিস। "মানুষকে বিজ্ঞান শেখাবার পর তিনি [আল্লাহ] তার মালায়েকদের ডেকে সব জিনিষের নাম জিজ্ঞাসা কোরলেন- তারা বোলতে পারলেন না। কারণ আগেই বোলেছি, মালায়েকরা প্রাকৃতিক শক্তিমাত্র।” কিন্তু ইসলামধর্মে ফিরিশতা আল্লাহর মাখলুক। তারা কখনো আল্লাহর নাফরমানী করে না, আল্লাহ তাআলা যা বলেন শুধু তাই করে। প্রকৃতি (চাঁদ, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র) আল্লাহর সৃষ্টি। আর কিছু মানুষ দেবদেবীর নাম রেখেছে এবং আকৃতি মানুষের সৃষ্টি জড়বস্তু।
পার্থক্য-৯: হেযবুত তওহীদ ধর্মে জান্নাত লাভের জন্য আমল শর্ত নয়। “বিশ্বনবী এ কথাটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, আল্লাহর সাথে তাঁর বান্দার চুক্তি এই যে, বান্দা তাঁর পক্ষ থেকে যদি এই শর্ত পালন করে যে, সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ইলাহ অর্থাৎ বিধাতা বলে স্বীকার করবে না- তবে আল্লাহও তাঁর পক্ষ থেকে এই শর্ত পালন করবেন যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এখানে অন্য কোনো কাজের শর্ত নেই। এই একটি কাজের শর্ত পালন করলে আর কোনো গোনাহই তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না; এমনকি চুরির মত কবিরা গোনাহও না।”
পার্থক্য-১০: পন্নী সাহেবের বক্তব্য পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি নিজেকে 'সংস্কারক' দাবী করার ছদ্মাবরণে প্রকারান্তরে নবী হওয়ারই দাবী করতে চান। তার বক্তব্য দেখুন: “হেযবুত তওহীদ সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ স্বয়ং, তিনিই একে গত ১৯ বছর ধরে পরিচালনা করে আসছেন। এই আন্দোলন প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ মানবজাতির মধ্য থেকে মাননীয় এমামুযযামানকে এ যুগের নেতা হিসাবে মনোনীত করেছেন।” পক্ষান্তরে ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা আল্লাহ তাআলা আর তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমরা (মুসলিম) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী।
টিকাঃ
৯১. এসলামের প্রকৃত রূপরেখা, পৃষ্ঠা ৬১-৬২, আরো দেখুন, এসলাম শুধু নাম থাকবে, পৃষ্ঠা ২৫, জঙ্গিবাদ সঙ্কট সমাধানের উপায়, পৃষ্ঠা ৬৪, এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব, পৃষ্ঠা ১৮-১৯
৯২. বুখারী ৯, মুসলিম ৩৫
৯৩. বুখারী ৫০, মুসলিম ৮
৯৪. তাকওয়া ও হেদায়াহ, পৃষ্ঠা ২, দাজ্জাল? ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা! পৃষ্ঠা ১০, এ ইসলাম ইসলামই নয়, পৃষ্ঠা ১৮
৯৫. সূরা ইখলাস
৯৬. সূরা যুমার: ৬২
৯৭. সূরা নিসা: ২৮
৯৮. এ ইসলাম ইসলামই নয়, পৃষ্ঠা ২১
৯৯. মুসলিম হাদীস-১২৩, বুখারী: হাদীস-৪২৪৩
১০০. এ ইসলাম ইসলামই নয়, পৃষ্ঠা ১১০
১০১. বুখারী: হাদীস-৬০৯৯
১০২. এ ইসলাম ইসলামই নয়, পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০, সকল ধর্মের মর্মকথা সবার উর্ধ্বে মানবতা: পৃষ্ঠা-৫
১০৩. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-৭৮
১০৪. এ ইসলাম ইসলামই নয়: পৃষ্ঠা-১৬, ১৯
১০৫. সূরা তাহরীম: আয়াত-৬
১০৬. সূরা ফুরকান: আয়াত-৫৯, আলিফ লাম মীম সিজদাহ: আয়াত-৪
১০৭. সূরা আরাফ ১৯৪, সূরা ইউসুফ ৪০, সূরা আনকাবুত ১৭, সূরা ফুরক্বান ৩, সূরা হজ্জ্ব আয়াত-৭৩
১০৮. মো'মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদীর আকীদা: পৃষ্ঠা-৭
১০৯. চলমান সংকট নিরসনে আদর্শিক লড়াই: পৃষ্ঠা-১৫
১১০. জঙ্গিবাদ সঙ্কট সমাধানের উপায়: পৃষ্ঠা-৬৪
১১১. সকল ধর্মের মর্মকথা সবার ঊর্ধ্বে মানবতা: পৃষ্ঠা-১৫
📄 ৮. মহানবী ‘রাহমাতুল্লিল আলামীন’ হননি
“বিশ্বনবীর উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্বকে যারা মাঝপথে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, তারা আল্লাহর দেওয়া বিশ্বনবীর উপাধি, 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' কেও পূর্ণ হতে দেননি; অর্থাৎ তিনি এখনও 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' হননি।” সূরা আম্বিয়া ১০৭ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
(হে নবী!) আমি আপনাকে বিশ্ব জগতের জন্য কেবল রহমত করেই পাঠিয়েছি।
জনাব পন্নী ভেবেছেন, ইসলাম মূলত একটি রাজনীতিসর্বস্ব ধর্ম। ইসলামের মূল উদ্দেশ্যই হলো রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করা। তাই তিনি ইসলামের সবগুলো বিধানকেই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে বিচার করেছেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর "রাহমাতুল্লিল আলামীন” (সমগ্র বিশ্বের জন্যে রহমতস্বরূপ) হওয়ার ব্যাখ্যাও তিনি রাজনৈতিকভাবেই করেছেন। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: নবীজী “রাহমাতুল্লিল আলামীন” হওয়ার মানে হলো, সারা বিশ্বে তাঁর আনীত দীনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়া। ব্যস্ এতটুকুই। তাঁর "রাহমাতুল্লিল আলামীন" হওয়ার আর কোনো অর্থই নেই।
কুরআনের এই আয়াতসহ অন্যসব আয়াতের ব্যাখ্যা বোঝার ক্ষেত্রে যদি তিনি নিজের বুঝ-বুদ্ধির ওপর শতভাগ নির্ভর না-করে কুরআন যার উপর নাযিল হয়েছে সেই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর করা ব্যাখ্যাকে জানার চেষ্টা করতেন এবং চূড়ান্ত বলে মেনে নিতেন, যদি তিনি নবীজীর কাছে যারা কুরআনের তথা ইসলামের সকল বিধানের ব্যাখ্যা ও পালন-পদ্ধতি শিখেছেন, সেই সাহাবায়ে কেরামের এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম-তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও উলামায়ে কেরামের রেখে যাওয়া অমূল্য জ্ঞানভাণ্ডার থেকে জ্ঞান আহরণের চেষ্টা করতেন তা হলে তিনি আর এই ভুল (বলুন: মহাভুল) পথে নিজেও চলতেন না, অন্যদেরও পরিচালিত করতেন না।
কুরআনের তাফসীরের কিতাবগুলো খুললেই তিনি দেখতে পেতেন, রাহমাতুল্লিল আলামীন-কথাটির ব্যাখ্যায় স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে: “আল্লাহ তাআলা তাঁকে রাহমাতুল্লিল আলামীন এজন্যই বলেছেন, কারণ, সাইয়েদুল মুরসালীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে পাঠানোর মাধ্যমে তিনি সমগ্র বিশ্ববাসীর ওপর রহমত ও দয়া করেছেন। কেননা তিনি (রাসূলুল্লাহ) তো তাদের জন্যে মহাসৌভাগ্যের দ্বার উন্মোচন করেছেন, চিরস্থায়ী দুর্ভাগ্যের পথ থেকে ফিরিয়ে চিরমুক্তির পথ দেখিয়েছেন, ইহ ও পরকালে তাঁরই মাধ্যমে তারা অজস্র-অগণিত কল্যাণ ও মঙ্গল লাভ করেছে। তিনি ইলমে দীনের আলোয় তাদের মূর্খতার অন্ধকার দূর করেছেন, গোমরাহীর অতল গহ্বর থেকে হেদায়াত ও মুক্তির রাজপথে তুলে এনেছেন। এমনকি তাঁর ওসীলায় কাফির-মুশরিকরাও রহমতপ্রাপ্ত হয়েছে! আর তা এভাবে যে, এত নাফরমানী ও পাপাচার সত্ত্বেও তাদেরকে আগেকার উম্মতের মতো শারীরিক বিকৃতি, ভূমিধ্বস কিংবা সর্বব্যাপী তুফানের সয়লাবে ডুবিয়ে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ফেলা হচ্ছে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
আল্লাহ তাআলা এমন নন যে, আপনার উপস্থিতিতে তাদেরকে তিনি আযাবে নিপতিত করবেন।
এছাড়াও সহীহ মুসলিম শরীফে আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে আমরা দেখতে পাই: একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- কে বলা হলো, 'আপনি মুশরিকদের জন্যে বদদোয়া করুন। তখন তিনি বললেন-
"আমি অভিশাপ দেওয়ার জন্যে প্রেরিত হইনি, আমাকে তো পাঠানো হয়েছে কেবল রহমতরূপে।" এ থেকে স্পষ্টই বোঝা যায়, তাঁর রাহমাতুল্লিল আলামীন হওয়ার কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তিনি করেননি, বরং সর্বকালের সব জাতিগোষ্ঠীর জন্যে তাঁকে আল্লাহ তাআলা দয়া ও করুণার আধার করে পাঠিয়েছেন-এ কথাটিই তিনি বুঝিয়েছেন।
টিকাঃ
১১৯. মো'মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদীর আকীদা: পৃষ্ঠা-১৯
১২০. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এর ব্যাখ্যা, তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৫/৩৯৫-৩৯৭; সফওয়াতুত তাফাসীর: ২/২৬৪; তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন: ৬/২৮১ ই. ফা. বা.
১২১. সূরা আনফাল আয়াত-৩৩ প্রাগুক্ত
১২২. সহীহ মুসলিম হাদীস: হাদীস-২৫৯৯
📄 ১০. নামায, রোযা আনুষঙ্গিক
“যে জীবন-ব্যবস্থা দীন আল্লাহ নবীদের মাধ্যমে বার বার পাঠালেন- এর নাম, স্রষ্টা নিজে রাখলেন শান্তি, আরবী ভাষায় ইসলাম।... তাই আদম থেকে শেষ নবী মোহম্মদ (দঃ) পর্যন্ত যতবার নবীর মাধ্যমে এই জীবন-ব্যবস্থা তিনি পাঠালেন, সবগুলির ঐ একই নাম-ইসলাম-শান্তি। এই হোল সমস্ত ব্যাপারের মূল কথা। দীনের আর বাকি যেটুকু আছে, নামায, রোযা ইত্যাদি হাজারো কাজ, সব আনুষঙ্গিক, গৌণ।”
পন্নী বলছে, নামায, রোযা ইত্যাদি হাজারো ইবাদত আনুষঙ্গিক, গৌণ। অথচ কুরআন হাদীসে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে আল্লাহ তাআলা কুরআনের অনেকগুলো আয়াতে নামাযের নির্দেশ প্রদান করেছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত আদায় করা, রম যানের সাওম পালন করা ও বাইতুল্লাহ্র হজ্জ করা।
এই হাদীসে নামাযকে ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং রোযাকে ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়; মুসলিম শরীফের ৮২ নং হাদীসে এসেছে, নামায ত্যাগকারী সম্পর্কে মহানবী বলেছেন-
“বান্দা এবং কুফর ও শিরকের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামায ছেড়ে দেয়া।” নামায ত্যাগকারী যেখানে কাফির হয়ে যায়, সেখানে পন্নী বলে, এটা গৌণ, এর কোনো প্রাধান্যই নেই!
টিকাঃ
১২৮. এ ইসলাম ইসলামই নয়, পৃষ্ঠা ২১
১২৯. মুসলিম: হাদীস-১২৩, বুখারী হাদীস-৪২৪৩
📄 ১৩. জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত
পন্নী বলেছে, সামষ্টিক তাকওয়া হলো জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত। “ব্যক্তি ভালোমানুষি দিয়ে কেউ জান্নাতে যাবে না, কারণ জান্নাত সামষ্টিক। ইসলাম মানে শান্তি, তাই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করলে জান্নাতে ঠাঁই পাওয়া যাবে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি সামষ্টিক কাজ সুতরাং জান্নাতও একটি সামষ্টিক কাজের ফল। ... ব্যক্তি তাকওয়ার কোন মূল্য নেই। সামষ্টিক তাকওয়াই হলো জান্নাতে যাবার পূর্বশত।”
মহান আল্লাহ বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মুত্তাকী (তাকওয়াওয়ালা)।
কুরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “নিজেকে রক্ষা কর, জাহান্নাম থেকে নিজেকে বাঁচাও।” পাশাপাশি অন্যান্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করা, মানুষদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে মানতে উৎসাহিত করা অবশ্যই পূণ্যের কাজ এবং মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। তাই বলে নিজে তাকওয়া অর্জন করার কোনো গুরুত্ব নেই- বিষয়টি এমন নয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যুলুম করা থেকে নিজেকে বাঁচাও।” বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন, "নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।”
টিকাঃ
১৪৯. তাকওয়া ও হেদায়াহ, পৃষ্ঠা ৯
১৫০. সূরা হুজুরাত: ১৩
১৫১. মুসলিম ৬৭৪১ (সহিহ মুসলিম, আল-বিররু ওয়াস সিলাহ ওয়াল আদব, বাব তাহরিমুজ জুলম)
১৫২. মুসলিম ২২২ (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ফি ক্বওলিহি তা'আলা ওয়া আনজির 'আশিরতাকাল আক্বরবিন)