📄 বায়াজীদ খান পন্নীর অপব্যাখ্যা
উপরিউক্ত হাদীসগুলোতে দাজ্জালের আকৃতি-প্রকৃতি বর্ণিত হয়েছে। পন্নী বলেছে, দাজ্জাল শরীরী বা বস্তুগত কোনো দানব নয়। "সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে দাজ্জাল কোন শরীরী বা বস্তুগত দানব নয়, এটি একটি বিরাট শক্তির রূপক বর্ণনা; সেই সাথে এ কথাাতেও সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে ঐ বিরাট শক্তিটিই হোচ্ছে বর্তমান দুনিয়ার ইহুদী খ্রীস্টান বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতা।”
'দাজ্জাল? ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা!' নামে গ্রন্থে বায়াজীদ খান পন্নী প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, হাদীসে বর্ণিত দাজ্জাল ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা। ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতাকেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল বলেছেন। “মহাশক্তিধর পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতাই হোচ্ছে আল্লাহর রসুল বর্ণিত সেই নির্দিষ্ট দাজ্জাল।” “পাশ্চাত্য বস্তুবাদী ইহুদি খ্রিষ্টান যান্ত্রিক সভ্যতাই হচ্ছে বিশ্বনবী বর্ণিত সেই দাজ্জাল, যে দানব ৪৭৫ বছর আগেই জন্ম নিয়ে তার শৈশব, কৈশোর পার হয়ে বর্তমানে যৌবনে উপনীত হয়েছে এবং দোর্দণ্ড প্রতাপে সারা পৃথিবীকে পদদলিত করে চলছে; আজ মুসলিমসহ সমস্ত পৃথিবী অর্থাৎ মানবজাতি তাকে প্রভু বলে মেনে নিয়ে তার পায়ে সাজদায় পোড়ে আছে।”
টিকাঃ
৭৮. দাজ্জাল? ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা! পৃষ্ঠা ৬০
৭৯. দাজ্জাল? ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা! পৃষ্ঠা ৭
৮০. মহাসত্যের আহ্বান, পৃষ্ঠা ১৭-১৮, দাজ্জাল? ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা! ৫, ২৫
উপরিউক্ত হাদীসগুলোতে দাজ্জালের আকৃতি-প্রকৃতি বর্ণিত হয়েছে। পন্নী বলেছে, দাজ্জাল শরীরী বা বস্তুগত কোনো দানব নয়। "সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে দাজ্জাল কোন শরীরী বা বস্তুগত দানব নয়, এটি একটি বিরাট শক্তির রূপক বর্ণনা; সেই সাথে এ কথাতেও সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে ঐ বিরাট শক্তিটিই হোচ্ছে বর্তমান দুনিয়ার ইহুদী খ্রীস্টান বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতা।”
'দাজ্জাল? ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা!' নামে গ্রন্থে বায়াজীদ খান পন্নী প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, হাদীসে বর্ণিত দাজ্জাল ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা। ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতাকেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল বলেছেন। “মহাশক্তিধর পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতাই হোচ্ছে আল্লাহর রসুল বর্ণিত সেই নির্দিষ্ট দাজ্জাল।”
“পাশ্চাত্য বস্তুবাদী ইহুদি খ্রিষ্টান যান্ত্রিক সভ্যতাই হচ্ছে বিশ্বনবী বর্ণিত সেই দাজ্জাল, যে দানব ৪৭৫ বছর আগেই জন্ম নিয়ে তার শৈশব, কৈশোর পার হয়ে বর্তমানে যৌবনে উপনীত হয়েছে এবং দোর্দণ্ড প্রতাপে সারা পৃথিবীকে পদদলিত করে চলছে; আজ মুসলিমসহ সমস্ত পৃথিবী অর্থাৎ মানবজাতি তাকে প্রভু বলে মেনে নিয়ে তার পায়ে সাজদায় পোড়ে আছে।”
টিকাঃ
৭৮. দাজ্জাল? ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা! পৃষ্ঠা ৬০
৭৯. দাজ্জাল? ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা! পৃষ্ঠা ৭
৮০. মহাসত্যের আহ্বান, পৃষ্ঠা ১৭-১৮, দাজ্জাল? ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতা! ৫, ২৫
📄 হাদীসের ভাষায় দাজ্জাল শারীরিক প্রাণী
পন্নীর মতে দাজ্জাল মানব বা দানব নয়। হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী দাজ্জাল মানুষ। এ বিষয়ে কিছু হাদীস আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আরো কয়েকটি হাদীস দেখুন- ইবনু উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন-
আমি এমন ব্যক্তিকেও দেখেছি, যে রক্তবর্ণের, স্থূলদেহী, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ডান চোখ কানা, আকৃতিতে আমার দেখা ইবনু কাতানের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি জানতে চাইলাম, এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হলো 'দাজ্জাল'।
দাজ্জাল মানুষ হবে, তার দু'চোখের মধ্যস্থলে 'কাফির' লেখা থাকবে, মুমিনগণ তা দেখে চিনে ফেলবেন। মুসলিমের বর্ণনাটি নিম্নরূপ- আনাস ইবনু মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ বলেছেন, দাজ্জালের চোখ ফোলা হবে। তার উভয় চোখের মধ্যস্থলে কাফির লেখা থাকবে। অতঃপর তিনি অক্ষরগুলো উচ্চারণ করে বললেন, প্রত্যেক মুসলিমই এ লেখা পাঠ করতে পারবে।
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসের কিয়দাংশ নিম্নরূপ;
রাসূল বলেন, আমি তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। আর যদি আমার অনুপস্থিতিতে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন নিজের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তাআলাই হলেন আমার পক্ষ থেকে তত্ত্ববধানকারী। দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। সে আবদুল উযযা ইবনু কাতানের মত।
মহানবী এর অন্যতম সাহাবী হযরত তামীম দারী রাযি. দাজ্জালকে দেখেছেন এবং পরে প্রিয় নবীর কাছে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনাটি এরূপ; সামুদ্রিক ঝড়ের কারণে আমরা একটি দ্বীপে যাই। দ্বীপে নেমে দীর্ঘাকৃতির এক লোককে দেখতে পেলাম। ইতোপূর্বে এমন আমরা আর কখনো দেখিনি। লোহাড় শিকলে বাঁধা অবস্থায় দু'হাটুর মধ্য দিয়ে তার উভয় হাত ঘাড়ের সাথে মিলানো। আমরা তাকে বললাম, তোর সর্বনাশ হোক, তুই কে? সে বলল, তোমরা আমার সন্ধান কিছু না কিছু পেয়েই গেছ। আমি দাজ্জাল। অতি সত্তরই আমি বাহিরে যাওয়ার অনুমতি পাব। বাহিরে যেয়ে আমি সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠ প্রদক্ষিণ করব। চল্লিশ দিনের ভিতর এমন কোনো জনপদ থাকবে না, যেখানে আমি প্রবেশ না করব। তবে মক্কা ও তয়্যিবায় আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ। যখন আমি এ দু'টির কোনো স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করব, তখন এক ফিরিশতা উন্মুক্ত তরবারি হাতে সম্মুখে এসে আমাকে বাধা দিবে। এই দু'টি স্থানের সকল রাস্তায় ফিরিশতাদের পাহারা থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূল সা. তাঁর ছড়ি দ্বারা মিম্বারে আঘাত করে বললেন, এ হচ্ছে তয়্যিবাহ, এ হচ্ছে তয়্যিবাহ, এ হচ্ছে তয়্যিবাহ। অর্থাৎ মদীনা। রাসূলুল্লাহ আরো বলেন, তামীম দারীর কথাগুলো আমার খুবই ভালো লেগেছে।
আল্লাহর নবী ও তাঁর বিশিষ্ট সাহাবী দাজ্জালকে দেখেছেন। দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণিত শত শত হাদীস রয়েছে। যে কারণে বিষয়টি ইসলামী পরিভাষায় ‘মুতাওয়াতির’। কোনো বিষয়ে যখন এই পরিমাণ সহীহ দলীল পাওয়া যায়, যার ফলে বিষয়টি সুনিশ্চিত ও অকাট্যভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়, এই অকাট্যভাবে প্রমাণিত হওয়াকে বলা হয়: মুতাওয়াতির। এ ধরণের অকাট্য বিষয়কে অস্বীকার করা নিঃসন্দেহে কুফর ও ইলহাদ। সুতরাং দাজ্জালকে শারীরিক প্রাণী না মানার পরিণতি কতটা ভয়ানক ও ঈমানবিধ্বসী তা সহজেই বোঝা যায়।
টিকাঃ
৮১. বুখারী (কিতাবুল ফিতান): হাদীস-৬৭০৯, মুসলিম (কিতাবুল ঈমান): হাদীস-৩১৬, ৩২৪
৮২. মুসলিম ২০৩ পাঠ করুন, কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতুত সাআহ, বাবু যিকরিদ দাজ্জালি ওয়া সিফাতিহি ওমা মাআহু।
৮৩. মুসলিম: হাদীস-২৯৩৭
৮৪. মুসলিম: হাদীস-৭৫৭৩