📘 হেযবুত তওহীদ স্বরূপ বিশ্লেষণ 📄 জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত ঈমান

📄 জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত ঈমান


উপরিউক্ত আলোচনা থেকে পাঠক স্পষ্ট বুঝতে পেরেছেন যে, ব্রহ্মা বলতে হিন্দুরা যে সত্তাকে বুঝে এবং গড/ঈশ্বর বলতে খৃস্টানরা যে সত্তাকে বুঝে এমন সত্তাকে মুসলমানরা আল্লাহ তাআলা মনে করেন না। পন্নী ঈশ্বর ও ব্রহ্মার সঙ্গে আল্লাহ তাআলাকে মিশিয়ে ফেলেছে- একথা বুঝানোর জন্য যে, হিন্দু/খৃস্টানরাও আল্লাহর আনুগত্য করে, তারা জান্নাতে যাবে- যা কুরআনের সরাসরি বিপরীত।

পন্নী লিখেছে, “কারও কাছে তিনি আল্লাহ, কারো কাছে ব্রহ্মা, কারো কাছে গড। সে যে নামেই ডাকুক সেই মহান স্রষ্টার প্রশ্নহীন আনুগত্যই সকল দর্শনের ভিত্তি।” পন্নী বক্তব্য হলো, সকল ধর্মালম্বীরা প্রশ্নহীনভাবে আল্লাহর আনুগত্য করে। ফলাফল দাঁড়াল, সকলেই জান্নাতে যাবে। পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে হিন্দু, খৃস্টান ও অন্যান্য ধর্মালম্বীরা কখনো জান্নাতে যেতে পারবে না- যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। যেমন- সূরা বাকারা ৬২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “ইহুদী, খৃস্টান বা সাবেয়ী যে কেউ ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে, তারা আল্লাহর নিকট নিজ প্রতিদানের উপযুক্ত হবে এবং তাদের কোনো ভয় থাকবে না আর কোনো দুঃখেও পতিত হবে না।” আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন, ঈমান গ্রহণ না করলে সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামী হবে। বেইমানকে কখনো জাহান্নাম থেকে উঠানো হবে না। ইরশাদ হচ্ছে, “যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং জুলুম করেছে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করার নন এবং তাদের কোনো পথ প্রদর্শকও নেই, জাহান্নামের পথ ছাড়া, যেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে।”

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ কাফিরদেরকে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন জ্বলন্ত আগুন। তাতে তারা সর্বদা এভাবে থাকবে যে, তারা কোনো অভিভাবক পাবে না এবং সাহায্যকারীও না।”

“কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করলে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, যাতে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে।” মহানবী বলেছেন- “মুমিন ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” সহীহ মুসলিম-এর ২৫৬৯ নং হাদীসে এসেছে, “মুমিন ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না।” আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, প্রকৃত ঈমান ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

কুরআন-হাদীস অনুযায়ী মুমিন/মুসলিম ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। কেননা ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সূরা আলে ইমরান ৮৫ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করা হবে না। কারণ, তাঁর কাছে পছন্দনীয় ও মনোনীত ধর্ম কেবল ইসলাম। “নিশ্চয় আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দীন [ধর্ম] কেবল ইসলামই।"

পন্নী ও তার অনুসারীদের বিশ্বাস- সবাই স্রষ্টার আনুগত্য করে জান্নাতে যাবে- কুরআন-হাদীসের বিপরীত। পাশাপাশি এটা নিঃসন্দেহে কুরআন-হাদীসের বিকৃতিও। সুতরাং কোনো ব্যক্তি কুরআন-হাদীসের বিপরীত বক্তব্য প্রদান করলে বা কুরআন-হাদীসের সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিকৃতির সাধন করলে, তার ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়াতের যে বিধান- পন্নী ও তার অনুসারীদের ক্ষেত্রে একই বিধান।

টিকাঃ
৪২. সূরা নিসা: আয়াত-১৬৮-১৬৯
৪৩. সূরা আহযাব: আয়াত-৬৫
৪৪. সূরা জিন: আয়াত-২৩
৪৫. সহীহ বুখারী হাদীস: ৬২৩২
৪৬. মুসলিম হাদীস: ২০৯
৪৭. সূরা আল ইমরান ১৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px