📘 হেযবুত তওহীদ স্বরূপ বিশ্লেষণ 📄 কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ তাআলা ব্রহ্মা বা গড নন

📄 কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ তাআলা ব্রহ্মা বা গড নন


বায়াজীদ খান পন্নীর মতে ব্রহ্মা, গড, ঈশ্বর ও আল্লাহ একই সত্তা। অথচ আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাস, ব্রহ্মা সম্পর্কে হিন্দুদের বিশ্বাস ও গড বা ঈশ্বর সম্পর্কে খৃস্টানদের বিশ্বাসের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। অর্থাৎ, হিন্দুরা যাকে ব্রহ্মা মনে করে আমরা তাকে কখনো আল্লাহ বলি না এবং খৃস্টানরা যাকে ঈশ্বর বা গড বলে আমরা তাকে কখনো আল্লাহ বলি না। কয়েকটি উদাহরণ দেখুন-

টিকাঃ
৩. সকল ধর্মের মর্মকথা সবার ঊর্ধ্বে মানবতা: পৃষ্ঠা-৪

বায়াজীদ খান পন্নীর মতে ব্রহ্মা, গড, ঈশ্বর ও আল্লাহ একই সত্তা। অথচ আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাস, ব্রহ্মা সম্পর্কে হিন্দুদের বিশ্বাস ও গড বা ঈশ্বর সম্পর্কে খৃস্টানদের বিশ্বাসের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। অর্থাৎ, হিন্দুরা যাকে ব্রহ্মা মনে করে আমরা তাকে কখনো আল্লাহ বলি না এবং খৃস্টানরা যাকে ঈশ্বর বা গড বলে আমরা তাকে কখনো আল্লাহ বলি না। কয়েকটি উদাহরণ দেখুন-

টিকাঃ
৩. সকল ধর্মের মর্মকথা সবার ঊর্ধ্বে মানবতা: পৃষ্ঠা-৪

📘 হেযবুত তওহীদ স্বরূপ বিশ্লেষণ 📄 হিন্দুদের ব্রহ্মা

📄 হিন্দুদের ব্রহ্মা


হিন্দুধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী ব্রহ্মা বা স্রষ্টার পরিচয় : ব্রহ্মা চতুর্ভুজ, চতুরানন ও রক্তবর্ণ। বিষ্ণু ব্রহ্মার স্রষ্টা। সরস্বতী ব্রহ্মার স্ত্রী। দেবসেনা ও দৈত্যসেনা তার দুই কন্যা। ব্রহ্মার পাঁচটি মাথা ছিল, একবার শিবকে তাচ্ছিল্য করে কথা বলায় শিব ব্রহ্মার একটি মস্তক কর্তন করেন। তাই ব্রহ্মা চতুর্মুখ। ব্রহ্মা কমণ্ডুধর, তিনি কদাচ রক্তকমলে অধিষ্ঠিত, কদাচ হংসপৃষ্ঠে সমারূঢ়। বামকরে কমণ্ডলু, দক্ষিণ ঊর্ধ্বকরে ও বাম অধঃকরে সুব, দক্ষিণ অধঃকরে জপমালা, তার বামপাশে আজ্যস্থালী, সম্মুখে বেদ সকল ও ঋষিগণ। বামপাশে সাবিত্রী এবং সরস্বতী দক্ষিণ পাশে।

সমুদ্র মন্থনের সময় সমুদ্র থেকে ভয়ঙ্কর বিষ উত্থিত হওয়ায় ভীত দেব ও অসুরগণ সৃষ্টিকর্তার ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মা অনন্যোপায় হয়ে শিবের স্তব করেন। স্তবে তুষ্ট হলে জগতের কল্যাণার্থে ব্রহ্মা শিবকে বিষ পান করতে বলেন। শিব সম্মত হয়ে বিষ পান করেন। অন্য গল্পে: মধু ও কৈটব ব্রহ্মাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। তখন বিষ্ণু ঘুমে ছিলেন। তাই ব্রহ্মা বিষ্ণুর নিদ্রা ভঙ্গের জন্যে একাগ্রহৃদয়ে মহামায়ার তপস্যা করেন। বিষ্ণুর নিদ্রা ভঙ্গের পর তিনি ব্রহ্মাকে রক্ষা করেন।

ধর্মগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী ব্রহ্মা সৃষ্ট, তার স্ত্রী ও সন্তানাদি আছে। তিনি পরাজিত ও ভীত হন। পক্ষান্তরে ইসলামের আল্লাহ তাআলা এসব থেকে মহাপবিত্র।

টিকাঃ
৪. শ্রী শ্রী ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ ১/১-৪, পৌরাণিক অভিধান ৩৭৮।
৫. পৌরাণিক অভিধান ৪১৯-৪২০ পৃ.
৬. দেবদেবীর পরিচয় ও বাহন রহস্য: পৃষ্ঠা-৩৩।
৭. শ্রীমদ্ভাগবত-মহাপুরাণ, সপ্তম অধ্যায়, অষ্টম স্কন্ধ, শ্রীশুক উবাচ, ১-৪৬ মন্ত্র।
৮. মার্কণ্ডেয়পুরাণম্, একাশীতিতম অধ্যায়

📘 হেযবুত তওহীদ স্বরূপ বিশ্লেষণ 📄 খ্রিস্ট ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত গড/ঈশ্বর

📄 খ্রিস্ট ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত গড/ঈশ্বর


খৃস্টধর্মে যিনি গড বা ঈশ্বর তিনি অনেক কিছু দেখেন না। না বুঝে কাজ করে পরে অনুশোচনা করেন। মানুষের সঙ্গে মল্লযুদ্ধে (কুস্তিতে) পরাজিত হয়েছেন। সাতটি বৃহৎ জাতিকে গণহত্যার মাধ্যমে নির্দয়ভাবে নির্মূল করতে বলেন এবং ক্ষমা করতে নিষেধ করেন। শিশুদেরকে আছড়ে টুকরা টুকরা করতে নির্দেশ দেন। কোনো কারণ ছাড়াই ঘৃণা করেন। তিনি মন্দ আত্মা প্রেরণ করে অশান্তির আগুন জ্বেলে দেন এবং অমঙ্গলময় বিধান দেন। উলঙ্গতা পছন্দ করেন। ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বরকে কুম্ভকার, ক্ষৌরকার, কীট, সিংহ, চিতা, ভল্লুক ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে বলা হয়েছে, ঈশ্বর মানুষরূপে অবরাহামের সাক্ষাত দিলেন এবং তাঁর সাথে দুধ, গোশত ইত্যাদি পানাহার করলেন! তিনি ব্যভিচারের ব্যবস্থা করেন। মানুষদেরকে তাঁর কথা শুনতে বাধা দেন। নিজেই মানুষকে প্ররোচনা দেন। তিনি অমঙ্গল ও অনিষ্ট সৃষ্টির জন্যও গৌরব করেন, যেমন মঙ্গল সৃষ্টির জন্য গৌরব করেন। শয়তানের সাথে বিতর্কে জিততে বা নিজের কথার সত্যতা প্রমাণ করতে তাঁর একজন পবিত্র সিদ্ধ ও সরল মানুষকে পরীক্ষার জন্য পরিবারসহ শয়তানের হাতে সমর্পন করেন। বাইবেলে বর্ণিত ঈশ্বরের খাজনার বর্ণনায় এসেছে- “ঈশ্বরের পাওনা কর হল ছ'শো পঁচাত্তরটা ভেড়া ও ছাগল, বাহাত্তরটা গরু, একষট্টিটা গাধা এবং বত্রিশজন কুমারী মেয়ে!

এককথায়, খৃস্টানরা গড/ঈশ্বর বলতে এমন এক সত্ত্বাকে বুঝে, যিনি দেখেন না ও বোঝেন না, মানুষের সঙ্গে কুস্তিতে পরাজিত হন, কোনো কারণ ছাড়াই ঘৃণা করেন, উলঙ্গতা পছন্দ করেন। যাকে কুম্ভকার, ক্ষৌরকার, কীট, সিংহ, চিতা, ভল্লুক ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যিনি খাওয়া-দাওয়া করেন, ব্যভিচারের ব্যবস্থা করেন ইত্যাদি। পক্ষান্তরে ইসলামধর্মে বর্ণিত আল্লাহ তাআলা এসব কিছু থেকে অনেক অনেক ঊর্ধ্বে। তিনি পূত-পবিত্র, সুবহানাহু ওয়াতাআলা।

টিকাঃ
৯. পয়দায়েশ ৩:৯, ১১:১১, ১৮:২০-২১।
১০. পয়দায়েশ ৬:৬-৭, ১ শামূয়েল ১৫:১১, ৩৫।
১১. পয়দায়েশ ৩২:২২-২৮।
১২. দ্বিতীয় বিবরণ ৭:২-১৬।
১৩. হোশেয় ১৩:১৬।
১৪. যিহিষ্কেল ১৮:২৫।
১৫. ইহিষ্কেল ২০:২৫, বিচারকর্তৃকগণ ৯:২৩।
১৬. যিশাইয় ৩:১৭, ৪৭:১-৩।
১৭. যিশাইয় ৬৪:৮, যিশাইয় ৭:২০, হোশেয় ৫:১২, হোশেয় ১৩:৭, বিলাপ ৩:১০, আইউব ৩৭:১০।
১৮. পয়দায়েশ ১৮:১-৮।
১৯. ২ শমূয়েল ১২:১১-১২।
২০. যিশাইয় ৬:১০; মথি ১৩:১৩-১৪; রোমীয় ৯:১৮।
২১. যিরমিয় ২০:৭।
২২. যিশাইয় ৪৫:৭।
২৩. আইউব ২:৬।
২৪. শুমারী ৩১:৩৬-৪০।

📘 হেযবুত তওহীদ স্বরূপ বিশ্লেষণ 📄 কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ তাআলা

📄 কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ তাআলা


কুরআনুল কারীমে বর্ণিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনেক গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য আছে। কয়েকটি হলো; আমরা যা কিছু দেখি বা না দেখি, সবকিছুরই স্রষ্টা মহান আল্লাহ। তিনি অনন্তকাল থেকে আছেন এবং থাকবেন। তাঁর কোনো শুরু বা শেষ নেই। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি একক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তাঁর অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। তাঁর ছেলেমেয়ে বা স্ত্রী নেই। তিনি কখনো আহার বা পান করেন না এবং এসব তাঁর প্রয়োজন নেই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। তিনি সকল দোষ-ত্রুটির ঊর্ধ্বে, সব ধরনের অন্যায় থেকে পবিত্র। তিনি সম্পদ দেয়ার মালিক, তিনি ভিক্ষুক বানানোর অধিকারী, তিনি ইজ্জতদাতা এবং তিনি যাকে ইচ্ছা বে-ইজ্জত করেন। তিনি সকল জীব-জন্তুকে রিযিক দান করেন। তিনি অভাবমুক্ত, তাঁর কোনো কিছুর অভাব নেই। তিনি মুমিনদের (বিশ্বাসীদের) অভিভাবক। পবিত্র কুরআন তাঁর পক্ষ থেকে পাঠানো আসমানী কিতাব।

আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরন্ত ন। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশে এবং দুনিয়াতে যা আছে সবই তাঁর। তাঁর (আল্লাহর) সত্তা ব্যতিত সবকিছুই ধ্বংসশীল। তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য, তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ বা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ কোনো কিছুই তাঁর (আল্লাহর) অগোচর নয়। তিনি পানি ও স্থলভাগে যা আছে সে সম্বন্ধে অবগত। বৃক্ষের একটা পাতা পতিত হলেও, মাটির অন্ধাকরে কোনো দানা (গজাতে) থাকলেও এবং ক্ষুদ্র বৃহৎ যা কিছুই আছে সবকিছু সম্বন্ধে তিনি অবগত। মনের গহীনে লুকিয়ে রাখা কোনো ভাবনা কিংবা প্রকাশ করা কোনো কথা-সবই তাঁর গোচরীভূত। আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়।

টিকাঃ
২৫. সূরা সিজদাহ ৪।
২৬. সূরা আল ইমরান ৬৮।
২৭. সূরা বনি ইসরাঈল ১১১।
২৮. সূরা ইখলাস।
২৯. সূরা কাসাস ৬৮।
৩০. সূরা আম্বিয়া ২২।
৩১. সূরা আল ইমরান ২৬।
৩২. সূরা আনকাবুত ৬০।
৩৩. সূরা ইউনুস ৬৮।
৩৪. সূরা বাকারা ২৫৭।
৩৫. হা-মীম সিজদাহ ২, ইউনুস ৩৭, বাকারা ২৩, ইবরাহিম ২, যুমার ১, গাফির ২, জাসিয়া ২, আহকাফ ২।
৩৬. সূরা বাকারা ২৫৫।
৩৭. সূরা কাসাস ৮৮।
৩৮. সূরা হাদীদ ৩।
৩৯. সূরা সাবা ৩।
৪০. সূরা আনআম ৫৯।
৪১. সূরা আল ইমরান ২৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px