📄 হে যুবক! এখনই ইবাদতের জন্য তৈরি হও
যৌবনকালের ইবাদতে যুবক-যুবতির পুরস্কার!!
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে যুবক-যুবতি যৌবনে আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকবে, আল্লাহ তা'য়ালা তাকে আরশে পাকের ছায়া তলে আশ্রয় দান করবেন।”
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কোন মুসলমান বান্দার দৃষ্টি যখন কোন নারির সৌন্দর্যের প্রতি প্রথমবার পড়ে যায়, অতঃপর সে তার দৃষ্টি সরিয়ে নেয় (তার দিকে তাকায় না), যার কারণে আল্লাহ তা'য়ালা তাকে এমন ইবাদত করার তাওফিক দান করবেন, যার মিষ্টতা এবং স্বাদ সে অবশ্যই অনুভব করব।”
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি তার জিহ্বা এবং লজ্জাস্থান হেফাজতের দায়িত্ব নিবে, আমি তার জান্নাতের দায়িত্ব নিলাম।”
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাঁর (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ সে যুবক-যুবতি, যে তার রবের ইবাদতের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে।”
যৌবনের শক্তি ও উদ্যমতা দিয়ে বেশি বেশি ইবাদত করো। হাদিস শরিফে এসেছে, বুদ্ধিমান তো সেই যে নিজেকে উপলব্ধি করতে পারে ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে।
যুবক-যুবতি ভাই ও বোনেরা! মনে রাখবেন, একমাত্র ইসলামের শরিয়ত মোতাবেক চললেই দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি আর শান্তি পাবেন। সবাই ৫ ওয়াক্ত নামায সঠিক সময়ে, শুদ্ধভাবে এবং মনযোগ সহকারে আদায় করার চেষ্টা করি। কারণ নামায যত বেশি সুন্দর হবে, আল্লাহর সাথে সম্পর্কও ততো বেশি সুন্দর হবে। এবং অন্যকে নামাজের দাওয়াত দিন, অসৎ কাজে যেভাবেই পারেন বাধা দিন।
আর বোনদের বলবো-নামাযের সাথে ইসলামিক নিয়মে পর্দা করবেন। লোক দেখানো ফ্যাশনমার্কা হিজাব থেকে বিরত থাকুন।
টিকাঃ
২১৬. সহিহ বুখারি : ৬৮০৬।
২১৭. মুসনাদু আহমাদ: ২২১৭৯।
২১৮. সহিহ বুখারি: ৬৪৭৪।
২১৯. মিশকাতুল মাসাবিহ: ৭০১।
২২০. তিরমিযি শরিফ: ২৪৫৯।
📄 হে যুবক ভাই!
হ্যাঁ তোমাকেই বলছি। শুধু তুমি নও, তোমার মত আরো যারা আছে। বয়স একদম তোমার মত। রক্ত টগবগে গরম। পান থেকে চুন খসলেই মেজাজ বিগড়ে যায়। ইচ্ছে করে মহাকান্ড ঘটিয়ে ফেলতে। যারা তোমার মতই আমোদ ফুর্তি করে বেড়ায়। সুযোগ পেলেই সিনেমা, পার্ক, ডি.জে, নাইট ক্লাব আর পপ পার্টিতে চুঁ মারো। বাপের অর্থ সম্পদ আর নিজের একাউন্ট, ম্যানিব্যাগের কচকচে নোটগুলো যাদেরকে ভোগ বিলাসের নেশায় ডুবিয়ে রাখে। বংশ আর ক্ষমতার দাম্ভিকতা যাদের বুকটাকে উঁচিয়ে রাখে। তুলতুলে নরম সাপের মত এ মুখোশদ্বারি দুনিয়ার চাকচিক্য যাদেরকে পরকাল থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। তাদেরকে বলছি।
তোমাকে বলছি। ধৈর্য ধরে শুনো। দেখো! আমার কথায় যুক্তি আছে কি না? তুমি তো আবার ডিজিটাল যুগের মডার্ন যুবক! কথায় কথায় যুক্তি খুঁজো। যুক্তিহীন কথা তোমার কানে ঢুকেনা। তোমার দিকটা লক্ষ্য করেই আমি যুক্তি দিয়ে বলছি। দেখো! আমার কথায় বাস্তবতা আছে কি না!
প্রথমে একটা কথা জিজ্ঞেস করি। দেখো তো! এর উত্তর জান কি না?
আচ্ছা! তুমি কি বলতে পারবে, তুমি কে? প্রশ্ন শুনে তুমি হাসছো? ভাবছো, . এটা কোন প্রশ্ন হল? প্রশ্ন শুনে আমাকে বোকা মনে হচ্ছে? উত্তরটা তাহলে বলেই ফেলো। এতোক্ষণে হয়তো তুমি বিড়বিড়িয়ে বলে ফেলেছো, আমার নাম অমুক। অমুকের ছেলে। আমি এই করি—সেই করি। আরো কত্ত কী!
তুমি কি জান? তোমার উত্তর শুনে আমার হাসি পাচ্ছে! কারণ, তুমি সঠিক উত্তরটা দিতে পারনি। অবাক হওয়ার কিছু নেই। তোমাকে খুলে বলছি। মনে কর! একজন লোক ব্যাগে করে মাছ নিয়ে যাচ্ছে। তুমি তাকে জিজ্ঞেস করলে, ভাই! এটা কী মাছ? লোকটা বলল, ইলিশ। এখানে তুমি লক্ষ্য করে দেখ! লোকটা কিন্তু তোমাকে মাছের নাম বলেনি। বরং মাছটার জাত সম্পর্কে বলেছে। অর্থাৎ সে তোমার কাছে মাছটার পরিচয় দিয়েছে মাছটার জাত নির্ণয় করে। তার মানে কী হল? তার মানে হচ্ছে—পরিচয় হয় জাতের মাধ্যমে। নামের মাধ্যমে নয়।
কথাটা কি ঠিক বলেছি? এবার তাহলে তোমার মাঝে ফিরে আসি। এখন তুমিই বল! তুমি কে? এতক্ষণে নিশ্চয় তুমি পরিস্কার বুঝে গেছো! তুমি কে? হ্যাঁ! তুমি যা ভাবছো তাই সঠিক। তুমি মুসলমান। জাতে মুসলিম। এটাই তোমার পরিচয়। পৃথিবীব যে প্রান্তেই থাকোনা কেন, এটাই তোমার পরিচয়। এ পরিচয়ের ভেতরেই লুকিয়ে আছে তোমার জীবনের সফলতার কথা। তুমি যদি এ পরিচয়টা ভুলে না যাও, জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে যদি মনে থাকে তুমি মুসলিম; আমি হলফ করে বলতে পারি, জীবনের সফলতা তোমার কপালে চুম্বন করবেই।