📄 জান্নাতে আল্লাহ তায়ালার দর্শন হবে সবচে’ প্রিয়
সুহাইব রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতিরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে, তখন মহান বরকতময় আল্লাহ বলবেন, 'তোমরা কি চাও? আমি তোমাদের জন্য আরও কিছু বেশি দিই?' তারা বলবে, 'তুমি কি আমাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করে দাওনি? আমাদেরকে তুমি জান্নাতে প্রবিষ্ট করনি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাওনি?' অতঃপর আল্লাহ (হঠাৎ) পর্দা সরিয়ে দেবেন (এবং তারা তাঁর চেহারা দর্শন লাভ করবে)। সুতরাং জান্নাতের লব্ধ যাবতীয় সুখ-সামগ্রীর মধ্যে জান্নাতিদের নিকট তাদের প্রভুর দর্শন (দীদার)ই হবে সবচেয়ে বেশি প্রিয়।”
টিকাঃ
২১২. সহিহ মুসলিম: ১৯০৫।
📄 তাদের শেষ বাক্য
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস করেছে এবং ভাল কাজ করেছে তাদের প্রতিপালক তাদের বিশ্বাসের কারণে তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন, শান্তির উদ্যানসমূহে তাদের (বাসস্থানের) তলদেশ দিয়ে নদিমালা প্রবাহিত থাকবে। সেখানে তাদের বাক্য হবে, 'সুবহানাকাল্লাহুম্মা' (হে আল্লাহ! তুমি মহান পবিত্র)! এবং পরস্পরের অভিবাদন হবে সালাম। আর তাদের শেষ বাক্য হবে, 'আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' (সমস্ত প্রশংসা সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য)।
টিকাঃ
২১৩. সুরা ইউনুস: ৯-১০।
📄 যুবক ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ!
এ যুগে এটি খুবই আফসোসের বিষয় যে, বিধর্মী কাফের-মুশরিকরা দুনিয়ার চাকচিক্যতা, মান-মর্যাদা ও পৃথিবির কেন্দ্রীয় শাসন ক্ষমতায় নিজেদেরকে অধিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে শক্তি ও নেতৃত্বহারা যুবসমাজ, দিশেহারা জাতি নিজেদের শৌর্য-বীর্য বিসর্জন দিয়ে উন্মাদের মত তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের সর্বশেষ ধ্বংসের প্রহর গুনছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, গাফলতির মসনদে বসে দম্ভ ও অসার নীল স্বপ্নের পিছনে দিনাতিপাত করে নিজেদের মূল্যবান সময় ও জীবন দু'টিই নষ্ট করে চলেছে।
সুতরাং যুবক ভাইদের প্রতি প্রশ্ন-
০ হে যুবক! মাঠে-ময়দানে বলের পিছনে এলোপাতাড়িভাবে লাথি দেওয়া যায় এবং তার প্রতিউত্তরও দেওয়া যায়, কিন্তু সালাত আদায় করা যায় না কেন?
০ মুসলমানিত্ব দাবি করা যায় অথচ নিজে ইসলাম থেকে মুক্ত কেন?
০ সে মসজিদ জাঁকজমক করার প্রতি আগ্রহী কিন্তু তাকে মসজিদের কাতারে দেখা যায় না কেন?
০ সে গান শুনতে ভালবাসে-যা শয়তানের বার্তা। অথচ কুরআনুল কারীম-যা আল্লাহ তায়ালার অহি। যা অন্তরের সুস্থতা, মানুষের জন্য রহমত ও হেদায়াত, তা শ্রবণ করা তার সহ্য হয়না কেন?
০ গায়ক, নায়ক, খেলোয়াড়দের সকলকে পছন্দ হয় ও তাদের সংবাদ শুনতে মন চায়, এমনকি তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নাম পর্যন্ত মুখস্থ থাকে অথচ যে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাকে চিনি না কেন?
০ সে নির্লজ্জ কবিতার বই ও ভ্রান্ত বর্ণনা পাঠ করে এবং সমস্ত পত্র-পত্রিকা অধ্যয়ণ করে-যা ধ্বংস ডেকে আনে, অথচ মাসের পর মাস কেটে যায় সে কুরআন স্পর্শ করে না কেন?
০ সে উপদেশ শ্রবণ করে কিন্তু উপদেশ গ্রহণ করে না। সত্য দেখে কিন্তু মানে না। উপদেশ গ্রহণকারীদের প্রতি মনোযোগ দেয় কিন্তু যা বলা হয় তা বাস্তবায়ন করেনা কেন?
📄 যুবক ভাইদের প্রতি বিশেষ নসিহত...
১. দো'আকে নিজের উপর আবশ্যক করে নাও এবং তার নিকট প্রার্থনা কর—যেন তিনি তোমাকে হেদায়াত ও কবুলিয়াতের জন্য সাহায্য করেন এবং গুনাহ্র প্রতি তোমার আগ্রহকে ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন। আর আল্লাহর নিকট প্রার্থনার জন্য কিছু সময় নির্ধারণ কর-যেমন রাতের শেষ তৃতীয়াংশে এবং আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়।
২. যে সমস্ত বস্তু তোমাকে গুনাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখ এবং প্রতিটি নেক কাজ শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য কর এবং ধনী হওয়ার জন্য লালসার পথ থেকে নিজেকে দূরে রাখ। আর এ কথা সর্বদা স্মরণ রাখ-যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোন কিছু ত্যাগ করে আল্লাহ তাকে আরো উত্তম বস্তু দান করেন।
৩. দৈনন্দিন কুরআন তিলাওয়াত কর ও পাবন্দির সাথে যিকির-আযকার কর। সাথে সাথে ফরয ও নফল ইবাদতগুলিও পালনে মনযোগী হও।
৪. তোমার জন্য আবশ্যক হল জ্ঞানীদের সাথে চলাফেরা করা। আর তাদের সঠিক দিক-নির্দেশনা ও সুপরামর্শ অনুযায়ী ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা।
৫. অতীতের যে বন্ধু-বান্ধব তোমাকে গুনাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় তাদের থেকে বিরত থাক। অতঃপর যখন তুমি ভাল দ্বীনদার হবে এবং তোমার সকল দলিল প্রমাণ পাকাপোক্ত হবে এবং কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হলে তার উত্তর দিতে পারবে, তখন তাদেরকে হেদায়াতের পথে আহবান করতে থাক।
৬. তুমি একটি সময় নির্ধারণ কর যা তুমি ধর্মীয় গান শ্রবণ কিংবা সুস্থ-হালাল বিনোদনে ব্যয় করবে। কেননা এর দ্বারা ইমান শক্তিশালী হয় এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মযবুত হয়। সাথে সাথে উপকারী জ্ঞানও বৃদ্ধি পায়।
৭. যখন তোমার আশাপাশের কাউকে হতোদ্যম দেখবে, তখন তাদের অবস্থার উপর দয়ার দৃষ্টি দিও এটা ভেবে যে-তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে এবং আল্লাহ তায়ালার নিকট সকলের জন্য হেদায়াতের প্রার্থনা করবে। আর একথা স্মরণ রাখো-জান্নাতে কেবল মুমিন আত্মাই প্রবেশ করবে। মহান আল্লাহ বলেন-
“আর তোমরা ঐ দিনকে ভয় কর, যেদিন তোমরা সকলে আল্লাহর নিকটে ফিরে যাবে। অতঃপর সেদিন প্রত্যেকে স্ব স্ব কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না।”
আর কিয়ামতের মাঠের পাঁচটি প্রশ্নের প্রস্তুতি গ্রহণ কর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
"কিয়ামত দিবসে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার আগ পর্যন্ত আদম সন্তানের পদদ্বয় আল্লাহ তায়ালার নিকট হতে সরাতে পারবেনা। তার জীবনকাল সম্পর্কে-কিভাবে তা অতিবাহিত করেছে? তার যৌবনকাল সম্পর্কে-কি কাজে তা বিনাশ করেছে? তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে-কোথা হতে তা উপার্জন করেছে এবং তা কি কি খাতে খরচ করেছে। এবং সে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল সে মোতাবেক কি কি আমল করেছে?"
টিকাঃ
২১৪. সুরা বাকারা: ২৮১।
২১৫. সুনানু তিরমিযি: ২৪১৬।