📄 জান্নাতিদের মর্যাদার ব্যবধান
উক্ত রাবী (আবু সাঈদ খুদরি রা.) হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অবশ্যই জান্নাতিগণ তাদের উপরের বালাখানার অধিবাসীদের এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আকাশের পূর্ব অথবা পশ্চিম দিগন্তে উজ্জ্বল অস্তগামী তারকা গভীর দৃষ্টিতে দেখতে পাও। এটি হবে তাদের মর্যাদার ব্যবধানের জন্য।” (সাহাবিগণ) বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! এ তো নবীগণের স্থান; তাঁরা ছাড়া অন্যরা সেখানে পৌঁছতে পারবে না।' তিনি বললেন, “অবশ্যই, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! সেই লোকরাও (পৌঁছতে পারবে) যারা আল্লাহর প্রতি ইমান রেখে রাসুলগণকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে।”
আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে ধনুক পরিমাণ স্থান (দুনিয়ার) যেসব বস্তুর উপর সূর্য উদিত কিংবা অস্তমিত হচ্ছে সেসব বস্তু চেয়েও উত্তম।”
টিকাঃ
২০৩. সহিহ বুখারি : ১৮৯৬।
২০৪. সহিহ বুখারি-মুসলিম: ১৮৯৭।
📄 বায়ু প্রবাহের দ্বারা তাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে...
আনাস রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে একটি বাজার হবে, যেখানে জান্নাতিগণ প্রত্যেক শুক্রবার আসবে। তখন উত্তর দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হবে, যা তাদের চেহারায় ও কাপড়ে সুগন্ধ ছড়িয়ে দেবে। ফলে তাদের শোভা-সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে। অতঃপর তারা রূপ-সৌন্দর্যের বৃদ্ধি নিয়ে তাদের স্ত্রীগণের কাছে ফিরবে। তখন তারা তাদেরকে দেখে বলবে, 'আল্লাহর কসম! আপনাদের রূপ-সৌন্দর্য বেড়ে গেছে!' তারাও বলে উঠবে, 'আল্লাহর শপথ! আমাদের যাবার পর তোমাদেরও রূপ-সৌন্দর্য বেড়ে গেছে!”
টিকাঃ
২০৫. সহিহ মুসলিম: ১৮৯৮।
📄 জান্নাতিরা যেভাবে বালাখানা দেখবে...
সাহল ইবনু সা'দ রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতিগণ জান্নাতের বালাখানাগুলিকে এমন গভীরভাবে দেখবে, যেভাবে তোমরা আকাশের তারকা দেখে থাক।”
টিকাঃ
২০৬. সহিহ বুখারি, মুসলিম: ১৮৯৯।
📄 জান্নাতের নিয়ামত
উক্ত রাবী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, যেখানে তিনি জান্নাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তা সমাপ্ত করলেন এবং আলোচনার শেষে বললেন, “জান্নাতে এমন নিয়ামত (সুখ-সামগ্রী) বিদ্যমান আছে যা কোন চক্ষু দর্শন করেনি, কোন কর্ণ শ্রবণ করেনি এবং কোন মানুষের মনে তার ধারণার উদ্রেকও হয়নি। তারপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন, যার অর্থ হল—'তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক প্রদান করেছি তা হতে তারা দান করে। কেউ-ই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময় স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কি পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।”
টিকাঃ
২০৭. সুরা সাজদাহ: ১৬-১৭, সহিহ বুখারি: ১৯০০।