📄 জান্নাতিদের পাত্র হবে স্বর্ণের...
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “[জান্নাতে] তাদের পাত্র হবে স্বর্ণের, তাদের গায়ের ঘাম হবে কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধময়। তাদের প্রত্যেকের জন্য এমন দুজন স্ত্রী থাকবে, যাদের সৌন্দর্যের দরুণ মাংস ভেদ করে পায়ের নলার হাড়ের মজ্জা দেখা যাবে। তাদের মধ্যে কোন মতভেদ থাকবে না। পারস্পরিক বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের সকলের অন্তর একটি অন্তরের মত হবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় তাসবিহ পাঠে রত থাকবে।”
টিকাঃ
১৯৮. সহিহ মুসলিম: ২৮৩৪।
📄 জান্নাতিদের মধ্যে সবচে’ নিম্ন মানের ব্যক্তি...
মুগিরা ইবনু শু'বা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুসা স্বীয় প্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'জান্নাতিদের মধ্যে সবচেয়ে নিম্নমানের জান্নাতি কে হবে?' আল্লাহ তায়ালা উত্তর দিলেন, সে হবে এমন একটি লোক, যে সমস্ত জান্নাতিগণ জান্নাতে প্রবেশ করার পর (সর্বশেষে) আসবে। তখন তাকে বলা হবে, 'তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর।' সে বলবে, 'হে প্রভু! আমি কিভাবে (কোথায়) প্রবেশ করব? অথচ সমস্ত লোক নিজ নিজ জায়গা দখল করেছে এবং নিজ নিজ অংশ নিয়ে ফেলেছে।' তখন তাকে বলা হবে, 'তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে, পৃথিবির রাজাদের মধ্যে কোনো রাজার মত তোমার রাজত্ব হবে?' সে বলবে, 'প্রভু! আমি এতেই সন্তুষ্ট।' তখন আল্লাহ বলবেন, 'তোমার জন্য তাই দেওয়া হল। আর ওর সমতুল্য, ওর সমতুল্য, ওর সমতুল্য, ওর সমতুল্য (অর্থাৎ ওর চার গুণ রাজত্ব দেওয়া হল)।' সে পঞ্চমবারে বলবে, 'হে আমার প্রভু! আমি (ওতেই) সন্তুষ্ট।' তখন আল্লাহ বলবেন, 'তোমার জন্য এটা এবং এর দশগুণ (রাজত্ব তোমাকে দেওয়া হল)। এ ছাড়াও তোমার জন্য রইল সেসব বস্তু, যা তোমার অন্তর কামনা করবে এবং তোমার চক্ষু তৃপ্তি উপভোগ করবে।' তখন সে বলবে, 'আমি ওতেই সন্তুষ্ট, হে প্রভু!'
(মুসা আ.) বললেন, 'হে আমার প্রতিপালক! আর সর্বোচ্চ স্তরের জান্নাতি কারা হবে?' আল্লাহ তায়ালা বললেন, 'তারা হবে সেই সব বান্দা, যাদেরকে আমি চাই। আমি স্বহস্তে যাদের জন্য সম্মান-বৃক্ষ রোপণ করেছি এবং তার উপর সীলমোহর অংকিত করে দিয়েছি (যাতে তারা ব্যতিরেকে অন্য কেউ তা দেখতে না পায়)। সুতরাং কোন চক্ষু তা দর্শন করেনি, কোন কর্ণ তা শ্রবণ করেনি এবং কোন মানুষের মনে তা কল্পিতও হয়নি।”
টিকাঃ
১৯৯. সহিহ মুসলিম : ১৮৯২।
📄 সর্বশেষ যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে জান্নাতে প্রবেশ করবে
ইবনু মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সর্বশেষে যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তার সম্পর্কে অবশ্যই আমার জানা আছে। এক ব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে [বা বুকে ভর দিয়ে] চলে জাহান্নাম থেকে বের হবে। তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, 'যাও জান্নাতে প্রবেশ কর।' সুতরাং সে জান্নাতের কাছে এলে তার ধারণা হবে যে, জান্নাত পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে সে ফিরে এসে বলবে, 'হে প্রভু! জান্নাত তো পরিপূর্ণ দেখলাম।' আল্লাহ তায়ালা বলবেন, 'যাও, জান্নাতে প্রবেশ কর।' তখন সে জান্নাতের কাছে এলে তার ধারণা হবে যে, জান্নাত তো ভরে গেছে। তাই সে আবার ফিরে এসে বলবে, 'হে প্রভু! জান্নাত তো ভর্তি দেখলাম।' তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, 'যাও জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমার জন্য থাকল পৃথিবির সমতুল্য এবং তার দশগুণ (পরিমাণ বিশাল জান্নাত)! অথবা তোমার জন্য পৃথিবীর দশগুণ (পরিমাণ বিশাল জান্নাত রইল)!' তখন সে বলবে, 'হে প্রভু! তুমি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছ? অথবা আমার সাথে হাসি-মজাক করছ অথচ তুমি বাদশাহ (হাসি-ঠাট্টা তোমাকে শোভা দেয় না)।” বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনভাবে হাসতে দেখলাম যে-তাঁর চোয়ালের দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে গেল। তিনি বললেন, “এ হল সর্বনিম্ন মানের জান্নাতি।”
টিকাঃ
২০০. সহিহ মুসলিম : ১৮৯৩।
📄 মুমিনদের জন্য একাধিক স্ত্রী থাকবে
আবু মুসা আশআরি রা. হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় জান্নাতে মুমিনদের জন্য একটি শূণ্যগর্ভ মোতির তাঁবু থাকবে, যার দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল। এর মধ্যে মুমিনদের জন্য একাধিক স্ত্রী থাকবে। যাদের সকলের সাথে মুমিন সহবাস করবে। কিন্তু তাদের কেউ কাউকে দেখতে পাবে না।”
টিকাঃ
২০১. সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম: ১৮৯৪।