📄 প্রত্যেক ফরজ নামাজের আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জান্নাত পাবে
যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতের প্রবেশের জন্য কেবল মৃত্যুটাই প্রতিবন্ধক হিসেবে হবে। অর্থ্যাৎ সে মৃত্যুর পরেই জান্নাতের সুখময় উদ্যানে চলে যাবে। হয়ে যাবে জান্নাতের সবুজ পাখি। এমনই সুসংবাদ ঝংকৃত হয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মায়াবী কথামালা থেকে।
আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে তার জন্য মৃত্যু ব্যতিত জান্নাতে যাওয়ার জন্য আর কোনো বাঁধা নেই।”
টিকাঃ
১৮৫. সুনানু নাসাঈ : ২৩২৩।
📄 সত্য কথা বলবে জান্নাত পাবে
হে যুবক! তুমি যদি সত্য কথা বলতে পারো আল্লাহ তায়ালা তোমাকে জান্নাত দান করবেন। তুমি কি চাও না জান্নাতের সবুজ পাখি হতে? আনন্দের ভেলায় চড়ে ঘুরে বেড়াতে তুমি কি চাও না? কি লাভ বলো মিথ্যা কথায়? একটা মিথ্যা বলতে গেলে আরো দশটা মিথ্যা বলতে হয় সেটাকে প্রমাণ করার জন্য।
আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় করে নাও। তাহলে জান্নাত পাবে। জান্নাতে যাওয়ার আরো একটি আমল রয়েছে। যেটা করলে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে আমাকে জান্নাত দান করবেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“আজকের এই দিনে সত্যবাদীদের সততা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্য রয়েছে এমন উদ্যান যার তলদেশে ঝর্ণা প্রবাহিত হবে; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই মহান সফলতা।”
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“তোমরা সত্য কথা বলবে, কেননা সত্য নেক কাজের দিকে নিয়ে যায়। আর নেক কাজ জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বলতে থাকে, আল্লাহ তায়ালার নিকট তাকে “সাদিক” বা সত্যবাদি লিখা হয়। আর তোমরা মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকবে, মিথ্যা বলবে না। কেননা মিথ্যা তোমাদেরকে পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপাচার তোমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলতে থাকে, আল্লাহর নিকট তাকে “কাজিব” বা মিথ্যুক লেখা হয়।”
টিকাঃ
১৮৬. সুরা মায়েদা: ১১৯।
১৮৭. সহিহ বুখারি: ৬০৯৪; সহিহ মুসলিম: ২৬০৭।
📄 ধৈর্য হারাবে না, জান্নাত তোমার হাতেই
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধৈর্যশীলদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি যখন আমার কোনো প্রিয় বান্দাকে দুঃখে-কষ্টে নিপতিত করি, অতঃপর বান্দা আমার দেয়া পরিক্ষার উপর ধৈর্যধারণ করে তখন আমি আমার প্রিয় বান্দার জন্য জান্নাত নির্ধারণ করে রাখি (সুবহানাল্লাহ)। এই ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানায় যদি কোনো ব্যক্তির প্রাণপাখি উড়ে যায় না ফেরার দেশে, সে তাতে ধৈর্যধারণ করে ও সওয়াবের কামনা কর তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত নির্ধারণ করে রাখেন।”
প্রিয় সাহাবি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “দুনিয়া থেকে যখন আমার বান্দাকে উঠিয়ে নিয়ে আসা হয়, আর তার হৃদয়ের বন্ধু তার বিরহ-বেদনার উপর ধৈর্যধারণ করে সওয়াবের আশায়; তাহলে আমি তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্ধারণ করে রাখি। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলাকে ধৈর্যের কারণে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।”
আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের সম্বোধন করে বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে তোমার উপর হাজারো কষ্ট নিপতিত হবে, সুতরাং তাতে তোমার ধৈর্যধারণ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“তোমাদের কি এ ধারনা যে, তোমরা জান্নাতে যাবে অথচ তোমরা সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করবে না যারা পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। তখন তারা এমনিভাবে শিহরিত হয়েছে যাতে নবি ও তার প্রতি যারা ইমান এনেছিলো তাদের পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? তোমরা শোনে নাও যে আল্লাহর সাহায্যই নিকটবর্তী।”
আলি বিন হুসাইন রা. বলেন, "কিয়ামতের দিন ধৈর্যশীলদেরকে ডাকা হবে, অতঃপর কিছু লোকদেরকে বলা হবে; হে অমুকেরা! তোমরা জান্নাতের সুখময় উদ্যানের দিকে চলে যাও, তারপর চলার পথে ফেরেস্তাকুলের সাথে সাক্ষাৎ হলে তারা বলবে আমরা আহলে সবর। ফেরেস্তারা জিজ্ঞেস করবে, তোমরা কিসের উপর ধৈর্যধারণ করেছো? তারা বলবে আমরা আনুগত্যের উপর ধৈর্যধারণ করেছি, গুনাহ না করার উপর ধৈর্যধারণ করেছি। তখন ফেরেস্তারা বলবে, যাও! জান্নাতে প্রবেশ করো। কতই উত্তম প্রতিদান তোমাদের জন্য."
টিকাঃ
১৮৮. সহিহ বুখারি: ৫৬৫৩।
১৮৯. সহিহ বুখারি: ৬৩৭।
১৯০. সুরা বাকারা: ২১৪।
১৯১. মুসনাদু আহমাদ: ৩4২৩।
📄 জান্নাতে কি হবে?
শুরু করছি আল্লাহর নামে। যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্য জান্নাতের মধ্যে যা প্রস্তুত রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- “নিশ্চয় পরহেযগাররা বাস করবে উদ্যান ও প্রস্রবণসমূহে। (তাদেরকে বলা হবে) তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তাতে প্রবেশ কর। আমি তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা থাকবে তা দূর করে দেব; তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে। সেথায় তাদেরকে অবসাদ স্পর্শ করবে না এবং তারা সেথা হতে বহিষ্কৃতও হবে না।”
তিনি আরও বলেন-
“হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। যারা আমার আয়াতে বিশ্বাস করেছিলে এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) ছিলে। তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর। স্বর্ণের থালা ও পান পাত্র নিয়ে ওদের মাঝে ফিরানো হবে, সেখানে রয়েছে এমন সমস্ত কিছু, যা মন চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে। এটিই জান্নাত, তোমরা তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ যার অধিকারী হয়েছো। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফলমূল, তা থেকে তোমরা আহার করবে।”
তিনি অন্য জায়গায় বলেন-
“নিশ্চয় সাবধানীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে-বাগানসমূহে ও ঝরনারাজিতে, ওরা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং মুখোমুখি হয়ে বসবে। এরূপই ঘটবে ওদের; আর আয়তলোচনা হুরদের সাথে তাদের বিবাহ দেব। সেখানে তারা নিশ্চিন্তে বিবিধ ফলমূল আনতে বলবে। (ইহকালে) প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন। (এ প্রতিদান) তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহস্বরূপ। এটিই তো মহা সাফল্য।”
আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেছেন-
“পুণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে। তারা সুসজ্জিত আসনে শায়িত থাকবে। তুমি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজিবতা দেখতে পাবে। তাদেরকে মোহর আঁটা বিশুদ্ধ মদিরা হতে পান করানো হবে। এর মোহর হচ্ছে কস্তুরীর। আর তা লাভের জন্যই প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করবে। এর মিশ্রণ হবে তাসনীমের (পানির)। এটা একটি প্রস্রবণ, যা হতে নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পান করবে।”
টিকাঃ
১৯২. সূরা হিজর : ৪৫-৪৮।
১৯৩. সুরা যুখরুফ: ৬৮-৭৩।
১৯৪. সুরা দুখান: ৫১-৫৭।
১৯৫. সুরা মুতাফফিফীন: ২২-২৮।