📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 প্রতিবেশির সাথে ভালো ব্যবহার

📄 প্রতিবেশির সাথে ভালো ব্যবহার


প্রতিবেশির সাথে ভালো ব্যবহার করলে আল্লাহ তোমাকে আমাকে জান্নাত দান করবেন। সুতরাং যারা জান্নাতে যেতে চায় তারা যেন কাউকে কষ্ট না দেয়।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো ইয়া রাসুলুল্লাহ! অমুক মহিলা দিনে রোযা রাখে, রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে, কিন্তু সে তার প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'সে জাহান্নামি।' সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন-অন্য এক মহিলা যে শুধু ফরজ নামাজ আদায় করে, আর পনিরের এক টুকরা করে দান করে। কিন্তু সে তার প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয় না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে জান্নাতি।”

টিকাঃ
১৮৪. মুসনাদু আহমাদ: ১৩৬।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 প্রত্যেক ফরজ নামাজের আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জান্নাত পাবে

📄 প্রত্যেক ফরজ নামাজের আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জান্নাত পাবে


যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতের প্রবেশের জন্য কেবল মৃত্যুটাই প্রতিবন্ধক হিসেবে হবে। অর্থ্যাৎ সে মৃত্যুর পরেই জান্নাতের সুখময় উদ্যানে চলে যাবে। হয়ে যাবে জান্নাতের সবুজ পাখি। এমনই সুসংবাদ ঝংকৃত হয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মায়াবী কথামালা থেকে।

আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে তার জন্য মৃত্যু ব্যতিত জান্নাতে যাওয়ার জন্য আর কোনো বাঁধা নেই।”

টিকাঃ
১৮৫. সুনানু নাসাঈ : ২৩২৩।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 সত্য কথা বলবে জান্নাত পাবে

📄 সত্য কথা বলবে জান্নাত পাবে


হে যুবক! তুমি যদি সত্য কথা বলতে পারো আল্লাহ তায়ালা তোমাকে জান্নাত দান করবেন। তুমি কি চাও না জান্নাতের সবুজ পাখি হতে? আনন্দের ভেলায় চড়ে ঘুরে বেড়াতে তুমি কি চাও না? কি লাভ বলো মিথ্যা কথায়? একটা মিথ্যা বলতে গেলে আরো দশটা মিথ্যা বলতে হয় সেটাকে প্রমাণ করার জন্য।

আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় করে নাও। তাহলে জান্নাত পাবে। জান্নাতে যাওয়ার আরো একটি আমল রয়েছে। যেটা করলে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে আমাকে জান্নাত দান করবেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“আজকের এই দিনে সত্যবাদীদের সততা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্য রয়েছে এমন উদ্যান যার তলদেশে ঝর্ণা প্রবাহিত হবে; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই মহান সফলতা।”

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“তোমরা সত্য কথা বলবে, কেননা সত্য নেক কাজের দিকে নিয়ে যায়। আর নেক কাজ জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বলতে থাকে, আল্লাহ তায়ালার নিকট তাকে “সাদিক” বা সত্যবাদি লিখা হয়। আর তোমরা মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকবে, মিথ্যা বলবে না। কেননা মিথ্যা তোমাদেরকে পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপাচার তোমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলতে থাকে, আল্লাহর নিকট তাকে “কাজিব” বা মিথ্যুক লেখা হয়।”

টিকাঃ
১৮৬. সুরা মায়েদা: ১১৯।
১৮৭. সহিহ বুখারি: ৬০৯৪; সহিহ মুসলিম: ২৬০৭।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 ধৈর্য হারাবে না, জান্নাত তোমার হাতেই

📄 ধৈর্য হারাবে না, জান্নাত তোমার হাতেই


রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধৈর্যশীলদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি যখন আমার কোনো প্রিয় বান্দাকে দুঃখে-কষ্টে নিপতিত করি, অতঃপর বান্দা আমার দেয়া পরিক্ষার উপর ধৈর্যধারণ করে তখন আমি আমার প্রিয় বান্দার জন্য জান্নাত নির্ধারণ করে রাখি (সুবহানাল্লাহ)। এই ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানায় যদি কোনো ব্যক্তির প্রাণপাখি উড়ে যায় না ফেরার দেশে, সে তাতে ধৈর্যধারণ করে ও সওয়াবের কামনা কর তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত নির্ধারণ করে রাখেন।”

প্রিয় সাহাবি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “দুনিয়া থেকে যখন আমার বান্দাকে উঠিয়ে নিয়ে আসা হয়, আর তার হৃদয়ের বন্ধু তার বিরহ-বেদনার উপর ধৈর্যধারণ করে সওয়াবের আশায়; তাহলে আমি তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্ধারণ করে রাখি। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলাকে ধৈর্যের কারণে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।”

আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের সম্বোধন করে বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে তোমার উপর হাজারো কষ্ট নিপতিত হবে, সুতরাং তাতে তোমার ধৈর্যধারণ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“তোমাদের কি এ ধারনা যে, তোমরা জান্নাতে যাবে অথচ তোমরা সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করবে না যারা পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। তখন তারা এমনিভাবে শিহরিত হয়েছে যাতে নবি ও তার প্রতি যারা ইমান এনেছিলো তাদের পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? তোমরা শোনে নাও যে আল্লাহর সাহায্যই নিকটবর্তী।”

আলি বিন হুসাইন রা. বলেন, "কিয়ামতের দিন ধৈর্যশীলদেরকে ডাকা হবে, অতঃপর কিছু লোকদেরকে বলা হবে; হে অমুকেরা! তোমরা জান্নাতের সুখময় উদ্যানের দিকে চলে যাও, তারপর চলার পথে ফেরেস্তাকুলের সাথে সাক্ষাৎ হলে তারা বলবে আমরা আহলে সবর। ফেরেস্তারা জিজ্ঞেস করবে, তোমরা কিসের উপর ধৈর্যধারণ করেছো? তারা বলবে আমরা আনুগত্যের উপর ধৈর্যধারণ করেছি, গুনাহ না করার উপর ধৈর্যধারণ করেছি। তখন ফেরেস্তারা বলবে, যাও! জান্নাতে প্রবেশ করো। কতই উত্তম প্রতিদান তোমাদের জন্য."

টিকাঃ
১৮৮. সহিহ বুখারি: ৫৬৫৩।
১৮৯. সহিহ বুখারি: ৬৩৭।
১৯০. সুরা বাকারা: ২১৪।
১৯১. মুসনাদু আহমাদ: ৩4২৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00