📄 জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায়
প্রিয় যুবক তোমাকেই বলছি, জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায়। তুমি তার দিকে অগ্রসর হতে থাকো, যৌবনে ভরা তারুণ্যের মিছিলে আর কত সময় দিবে। সময়ের মতো সময় চলে যাচ্ছে, সময়ের গতিতে তোমার জীবনের ঘড়ির কাঁটাটাও ফুরিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই হয়ত কোনোদিন নিভে যাবে জীবন বাতি। আচমকা আসা ধমকা বাতাসে তুমি বুঝতে পারবে তখন জগত ও পরজগত। বুঝতে শিখে আমাদের সৃষ্টির রহস্য কি? কেন প্রভু আমাদেরকে মানব হিসাবে রুপ দিলেন, কিন্তু তোমার সেই সময়টায় বুঝে কোনো লাভ হবে না। তোমাকে আর প্রেরণ করা হবে না এই জগতে। খুব সহজেই আখেরাতের ময়দানে বুঝতে পারবে কেউ কারো নয়।
তুমি সেদিনকে ভয় করো; জান্নাতের আমল করে যাও, তুমি জান্নাতের সুখের নীড়ে বাস করতে পারবে। সমুদ্রের অনেক ঝিনুকে মুক্তা থাকে—ঠিক তোমার মধ্যেও জান্নাতে যাওয়ার গুণ রয়েছে। জান্নাতে যাওয়ার আরেকটা আমল হলো- চরিত্রবান ও মুত্তাকি লোকেরা জান্নাতে যাবে। যারা আল্লাহকে ভয় করবে এবং মানুষের সাথে ইসলামের বিধান অনুযায়ী উত্তম অচরণ করবে। অধিকাংশ মানুষকে তার মুখ ও লজ্জাস্থান জাহান্নামে প্রবেশ করাবে। এমনটাই খুঁজে পাওয়া যায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কথামালা থেকে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "কোন আমলের কারণে লোক সর্বাধিক জান্নাতে প্রবেশ করবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “তাকওয়া (খোদা ভীতি) ও উত্তম চরিত্র।”
টিকাঃ
১৮৩. সুনানু তিরমিযি: ৬৪৩।
📄 প্রতিবেশির সাথে ভালো ব্যবহার
প্রতিবেশির সাথে ভালো ব্যবহার করলে আল্লাহ তোমাকে আমাকে জান্নাত দান করবেন। সুতরাং যারা জান্নাতে যেতে চায় তারা যেন কাউকে কষ্ট না দেয়।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো ইয়া রাসুলুল্লাহ! অমুক মহিলা দিনে রোযা রাখে, রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে, কিন্তু সে তার প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'সে জাহান্নামি।' সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন-অন্য এক মহিলা যে শুধু ফরজ নামাজ আদায় করে, আর পনিরের এক টুকরা করে দান করে। কিন্তু সে তার প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয় না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে জান্নাতি।”
টিকাঃ
১৮৪. মুসনাদু আহমাদ: ১৩৬।
📄 প্রত্যেক ফরজ নামাজের আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জান্নাত পাবে
যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতের প্রবেশের জন্য কেবল মৃত্যুটাই প্রতিবন্ধক হিসেবে হবে। অর্থ্যাৎ সে মৃত্যুর পরেই জান্নাতের সুখময় উদ্যানে চলে যাবে। হয়ে যাবে জান্নাতের সবুজ পাখি। এমনই সুসংবাদ ঝংকৃত হয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মায়াবী কথামালা থেকে।
আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে তার জন্য মৃত্যু ব্যতিত জান্নাতে যাওয়ার জন্য আর কোনো বাঁধা নেই।”
টিকাঃ
১৮৫. সুনানু নাসাঈ : ২৩২৩।
📄 সত্য কথা বলবে জান্নাত পাবে
হে যুবক! তুমি যদি সত্য কথা বলতে পারো আল্লাহ তায়ালা তোমাকে জান্নাত দান করবেন। তুমি কি চাও না জান্নাতের সবুজ পাখি হতে? আনন্দের ভেলায় চড়ে ঘুরে বেড়াতে তুমি কি চাও না? কি লাভ বলো মিথ্যা কথায়? একটা মিথ্যা বলতে গেলে আরো দশটা মিথ্যা বলতে হয় সেটাকে প্রমাণ করার জন্য।
আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় করে নাও। তাহলে জান্নাত পাবে। জান্নাতে যাওয়ার আরো একটি আমল রয়েছে। যেটা করলে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে আমাকে জান্নাত দান করবেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“আজকের এই দিনে সত্যবাদীদের সততা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্য রয়েছে এমন উদ্যান যার তলদেশে ঝর্ণা প্রবাহিত হবে; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই মহান সফলতা।”
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“তোমরা সত্য কথা বলবে, কেননা সত্য নেক কাজের দিকে নিয়ে যায়। আর নেক কাজ জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বলতে থাকে, আল্লাহ তায়ালার নিকট তাকে “সাদিক” বা সত্যবাদি লিখা হয়। আর তোমরা মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকবে, মিথ্যা বলবে না। কেননা মিথ্যা তোমাদেরকে পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপাচার তোমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলতে থাকে, আল্লাহর নিকট তাকে “কাজিব” বা মিথ্যুক লেখা হয়।”
টিকাঃ
১৮৬. সুরা মায়েদা: ১১৯।
১৮৭. সহিহ বুখারি: ৬০৯৪; সহিহ মুসলিম: ২৬০৭।