📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত তোমাকে স্বাগতম জানাবে

📄 জান্নাত তোমাকে স্বাগতম জানাবে


তুমি যদি দুনিয়ায় বেশি-বেশি সালাম বিনিময় করতে পারো, তাহলে জান্নাত তোমাকে তার আপন করে নিবে ও তোমাকে স্বাগতম জানাবে। জান্নাতের স্বাগতম বড় মিষ্টি ও মধুর। আছো কি কোনো দরদী বন্ধু! জান্নাতের স্বাগতমের প্রতিক্ষায়? তাহলে আমরা দুনিয়াতে মুসলমানদের পরস্পর বেশি-বেশি সালাম বিনিময় করব। কেননা সালাম বিনিময়কারী জান্নাতি হবে। এই দুনিয়াতে সালামের দ্বারা মানুষের মধ্যে প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং পরস্পর সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রিয়তম মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের সালামের আদেশ করেছেন-

ইবনু সালাম রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে মানবমন্ডলী! তোমারা পরস্পর সালাম বিনিময় কর, মানুষকে আহার করাও, যখন মানবজাতি ঘুমের ঘোরে থাকে তখন সালাত আদায় করো, তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে."

সালাম তোমাকে তোমাদের পরস্পর ভালোবাসার চাদরে ডেকে রাখবে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতি হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি ইমানদার না হবে, আর ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ইমানদার হবে না যতক্ষণ না তোমরা একে-অপরকে ভালো না বাসবে। আর আমি কি তোমাদের এমন একটি জিনিষ বলে দিব, যা তোমরা একে-অপরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।”

টিকাঃ
১৮১. সুনানু তিরমিযি: ২০৩৩৯।
১৮২. সহিহ মুসলিম: ৫৪।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 ক্ষমা করে দিন জান্নাত আপনার প্রতিক্ষায়

📄 ক্ষমা করে দিন জান্নাত আপনার প্রতিক্ষায়


যারা নিজের ক্রোধকে হজম করে, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাছ থেকেও প্রতিশোধ না নিয়ে তাদের ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাত দান করেন। যদি কেউ কারো অন্যায়কে ক্ষমা করতে পারে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সোনালি সূর্যের আলোয় আলোকিত করবেন। জান্নাতের সেই সুখময় উদ্যানে তাকে ডাকা হবে, যে জান্নাত কেবল অনাবিল প্রশান্তির, সে জান্নাত শেষ হবার নয়। জান্নাতের সেই ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট রমণীদের থেকে যাকে ইচ্ছে তাকে গ্রহণ করার ইচ্ছে প্রদান করা হবে। প্রিয় বন্ধু! তুমি কি চাও জান্নাতের সেই রমণী? যে রমণীকে দেখলে তোমার মনের বদ্ধ জানালা খুলে যাবে। যে রমণী কেবল তোমাকে আদর সোহাগ আর ভালোবাসার চাদরে ডেকে রাখবে। তাহলে মানুষকে ক্ষমা করে দাও।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায়

📄 জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায়


প্রিয় যুবক তোমাকেই বলছি, জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায়। তুমি তার দিকে অগ্রসর হতে থাকো, যৌবনে ভরা তারুণ্যের মিছিলে আর কত সময় দিবে। সময়ের মতো সময় চলে যাচ্ছে, সময়ের গতিতে তোমার জীবনের ঘড়ির কাঁটাটাও ফুরিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই হয়ত কোনোদিন নিভে যাবে জীবন বাতি। আচমকা আসা ধমকা বাতাসে তুমি বুঝতে পারবে তখন জগত ও পরজগত। বুঝতে শিখে আমাদের সৃষ্টির রহস্য কি? কেন প্রভু আমাদেরকে মানব হিসাবে রুপ দিলেন, কিন্তু তোমার সেই সময়টায় বুঝে কোনো লাভ হবে না। তোমাকে আর প্রেরণ করা হবে না এই জগতে। খুব সহজেই আখেরাতের ময়দানে বুঝতে পারবে কেউ কারো নয়।

তুমি সেদিনকে ভয় করো; জান্নাতের আমল করে যাও, তুমি জান্নাতের সুখের নীড়ে বাস করতে পারবে। সমুদ্রের অনেক ঝিনুকে মুক্তা থাকে—ঠিক তোমার মধ্যেও জান্নাতে যাওয়ার গুণ রয়েছে। জান্নাতে যাওয়ার আরেকটা আমল হলো- চরিত্রবান ও মুত্তাকি লোকেরা জান্নাতে যাবে। যারা আল্লাহকে ভয় করবে এবং মানুষের সাথে ইসলামের বিধান অনুযায়ী উত্তম অচরণ করবে। অধিকাংশ মানুষকে তার মুখ ও লজ্জাস্থান জাহান্নামে প্রবেশ করাবে। এমনটাই খুঁজে পাওয়া যায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কথামালা থেকে।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "কোন আমলের কারণে লোক সর্বাধিক জান্নাতে প্রবেশ করবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “তাকওয়া (খোদা ভীতি) ও উত্তম চরিত্র।”

টিকাঃ
১৮৩. সুনানু তিরমিযি: ৬৪৩।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 প্রতিবেশির সাথে ভালো ব্যবহার

📄 প্রতিবেশির সাথে ভালো ব্যবহার


প্রতিবেশির সাথে ভালো ব্যবহার করলে আল্লাহ তোমাকে আমাকে জান্নাত দান করবেন। সুতরাং যারা জান্নাতে যেতে চায় তারা যেন কাউকে কষ্ট না দেয়।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো ইয়া রাসুলুল্লাহ! অমুক মহিলা দিনে রোযা রাখে, রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে, কিন্তু সে তার প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'সে জাহান্নামি।' সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন-অন্য এক মহিলা যে শুধু ফরজ নামাজ আদায় করে, আর পনিরের এক টুকরা করে দান করে। কিন্তু সে তার প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয় না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে জান্নাতি।”

টিকাঃ
১৮৪. মুসনাদু আহমাদ: ১৩৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00