📄 ফিরে এসো জান্নাতের পথে
হে যুবক! তোমার রবের দিকে ফিরে এসো। ফিরে এসো জান্নাতের পথে। ফিরে এসো সফলতার পথে। তুমি ফিরে এসো সুখ-শান্তির পথে। হে যুবক! জীবনে অনেক গুনাহ করেছো! অনেক পাপ করেছো! অনর্থক কাজে নিজের জীবনের মহামূল্যবান সময় নষ্ট করেছো! হে প্রিয় যুবক! তোমাকেই বলছি- এখন কি সময় হয়নি তোমার তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে আসার! এখনো কি সময় হয়নি তোমার প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তন করার! ঐ মায়াবী ও দয়ার প্রভু তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, ঐ জান্নাত তোমার প্রতিক্ষা করছে। জান্নাতের হাজারো নেয়ামত তোমার প্রতিক্ষায়ই আছে। তোমার প্রভু তোমাকে তার দিকে অনুতপ্তের জন্য ডাকছে। তিনি বলছেন— আছো কোনো যুবক ক্ষমা প্রার্থনা করবে? আমি তাকে আমার ভালোবাসার চাদরে ডেকে নিবো। আমার ঐ জান্নাতের নেয়ামতের সাগরে ডুবিয়ে দিব।
প্রিয় যুবক! আর কত তুমি গুনাহয় বিভোর হয়ে থাকবে? আর কত সময় পাপের সমুদ্রে হাবুডুবু খাবে? আর কত সময় তুমি তোমার প্রভুর থেকে উদাসীন হয়ে থাকবে? হে যুবক! তুমি পাহাড় সমপরিমাণ গুনাহ করে ফেলেছো! পৃথিবির এমন কোনো খারাপ কাজ নেই তুমি করোনি, তুমি মনে মনে ভাবছো— আল্লাহ তায়ালা তোমাকে ক্ষমা করবেন না? তুমি কি আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নৈরাশ হয়ে গেছো? না যুবক, এমনটা নয়; পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“জেনে রাখুন, আল্লাহ সেসব লোকদের তাওবাই কবুল করেন, যারা না জেনে বা ভুল করে মন্দ কাজ করে ফেলে এবং পরক্ষণেই ভীষণ অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে; এরাই সেসব লোক যাদের তাওবা আল্লাহ কবুল করেন। আর আল্লাহ তো সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।”
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে আরো ইরশাদ করেন-
“হে ইমানদারগণ! তোমরা যারা ইমান এনেছো, তোমরা আমার কাছে তাওবা করো, বিশুদ্ধ তাওবা। (আল্লাহ তায়ালা) হয়তো তোমাদের আমলনামা থেকে খারাপ কাজগুলো মুছে দিবেন ও তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”
টিকাঃ
১৭৩. সুরা নিসা: ১৭।
১৭৪. সুরা তাহরিম: ৮।
📄 হে যুবক! জাহান্নাম থেকে বাঁচো
হে যুবক! জাহান্নাম কি জানো? তাহলে শোনো, চির দুঃখ-কষ্ট, পেরেশানী, অপমান, বিড়ম্বনা, লজ্জা, শরম, ক্ষুধা-পিপাসা, আগুন, অশান্তি, হতাশ, নিরাশা, চিৎকার, কান্নাকাটি, শাস্তি, অভিশাপ, আযাব-গযবের নাম হলো জাহান্নাম। শান্তির লেশ মাত্র নেই সেখানে। হাত-পা ও ঘাড়-গলা শিকলে বেঁধে বেড়ি পরিয়ে দলে-দলে জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষপ করা হবে। যেখানে শুধু তেজ ও দাহ্য শক্তিম্পন্ন আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। দোযখের অগ্নিশিখা তাদেরকে উপর, নীচ এবং ডান ও বাম থেকে স্পর্শ করবে, জ্বালাতে-পোড়াতে থাকবে। একবার চামড়া পুড়ে গেলে আবারো নতুন চামড়া গজাবে— যেন বার বার আগুনের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে। পিপাসায় পেটের নাড়ি-ভুড়ি গলে যাবে। এ হচ্ছে আযাবের উপর আযাব।
যাক্কুম এবং কাঁটাযুক্ত ঘাস ও গিসলিন হবে জাহান্নামীদের খাদ্য। ক্ষুধার তাড়নায় জঠর জ্বালায় তা ভক্ষণ করতে গেলে পেটের ভেতর আরো যন্ত্রণা বাড়াবে। অতিশয় ঠান্ডা এবং হীম প্রবাহ দ্বারাও আরেক প্রকার শাস্তি দেওয়া হবে। বরফের চাইতেও আরো ঠান্ডা যামহারীরে তাদেরকে রাখা হবে। তারা শাস্তির মধ্যে মৃত্যু কামনা করবে, কিন্তু কিছুতেই তা কবুল করা হবে না। নিরুপায় হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে যেতে চাইবে, কিন্তু আজ তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- “তুমি কি জানো জাহান্নাম কি? তা শান্তিতে থাকতে দেয় না, ছেড়েও দেয় না, চামড়া ঝলসে দেয়। উনিশজন ফেরেস্তা তার প্রহরী হবে।” অন্যত্র আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন- “জাহান্নামে জাহান্নামিরা মরবেও না, আবার জিবিতও থাকবে না।” আরো ইরশাদ হয়েছে- “তারা সেখানে যখন নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার ক্ষিপ্রতার গর্জন শুনবে ও উথাল-পাতাল করতে থাকবে, ক্রোধ-আক্রোশে এমন অবস্থা ধারণ করবে— মনে হবে তা গোস্বায় ফেটে পরবে।”
“জাহান্নাম যখন দূর হতে তাদেরকে (জাহান্নামীদের) দেখতে পাবে তখন তারা তার ক্রোধ ও তেজস্বী আওয়াজ শুনতে পাবে, অতঃপর যখন তাদেরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা কেবল সেখানে মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে।” “নিশ্চয় জাহান্নাম একটি ঘাঁটি। আল্লাহদ্রোহীদের জন্য আশ্রয়স্থল। সেখানে তারা যুগ-যুগ ধরে অবস্থান করবে।”
প্রিয় যুবক! সেদিন তোমার প্রতি কোন রহমের আচরণ করা হবে না। সেদিন আল্লাহর নাম থাকবে 'কাহ্হার'। দোস্ত! ঐ দুর্দিনে আমাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে জান্নাতের কাছ থেকে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- “এরা হচ্ছে সেই সব লোক, যারা সঠিক বিনিময়ে ভুল পথ এবং ক্ষমার বিনিময়ে শান্তি বদলে নিয়েছে। জাহান্নামের দগ্ধ আগুন সহ্য করতে এদের কতই না ধৈর্য।”
টিকাঃ
১৭৫. সুরা মুদ্দাসসিরঃ ২৭-৩০।
১৭৬. সুরা আলা: ১৩।
১৭৭. সুরা মূলক: ৭-৮।
১৭৮. সুরা ফুরকান: ১২-১৩।
১৭৯. সুরা নাবা: ২১-২৩।
১৮০. সুরা বাকারা: ১৭৫।
📄 জান্নাত তোমাকে স্বাগতম জানাবে
তুমি যদি দুনিয়ায় বেশি-বেশি সালাম বিনিময় করতে পারো, তাহলে জান্নাত তোমাকে তার আপন করে নিবে ও তোমাকে স্বাগতম জানাবে। জান্নাতের স্বাগতম বড় মিষ্টি ও মধুর। আছো কি কোনো দরদী বন্ধু! জান্নাতের স্বাগতমের প্রতিক্ষায়? তাহলে আমরা দুনিয়াতে মুসলমানদের পরস্পর বেশি-বেশি সালাম বিনিময় করব। কেননা সালাম বিনিময়কারী জান্নাতি হবে। এই দুনিয়াতে সালামের দ্বারা মানুষের মধ্যে প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং পরস্পর সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রিয়তম মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের সালামের আদেশ করেছেন-
ইবনু সালাম রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে মানবমন্ডলী! তোমারা পরস্পর সালাম বিনিময় কর, মানুষকে আহার করাও, যখন মানবজাতি ঘুমের ঘোরে থাকে তখন সালাত আদায় করো, তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে."
সালাম তোমাকে তোমাদের পরস্পর ভালোবাসার চাদরে ডেকে রাখবে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতি হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি ইমানদার না হবে, আর ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ইমানদার হবে না যতক্ষণ না তোমরা একে-অপরকে ভালো না বাসবে। আর আমি কি তোমাদের এমন একটি জিনিষ বলে দিব, যা তোমরা একে-অপরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।”
টিকাঃ
১৮১. সুনানু তিরমিযি: ২০৩৩৯।
১৮২. সহিহ মুসলিম: ৫৪।
📄 ক্ষমা করে দিন জান্নাত আপনার প্রতিক্ষায়
যারা নিজের ক্রোধকে হজম করে, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাছ থেকেও প্রতিশোধ না নিয়ে তাদের ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাত দান করেন। যদি কেউ কারো অন্যায়কে ক্ষমা করতে পারে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সোনালি সূর্যের আলোয় আলোকিত করবেন। জান্নাতের সেই সুখময় উদ্যানে তাকে ডাকা হবে, যে জান্নাত কেবল অনাবিল প্রশান্তির, সে জান্নাত শেষ হবার নয়। জান্নাতের সেই ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট রমণীদের থেকে যাকে ইচ্ছে তাকে গ্রহণ করার ইচ্ছে প্রদান করা হবে। প্রিয় বন্ধু! তুমি কি চাও জান্নাতের সেই রমণী? যে রমণীকে দেখলে তোমার মনের বদ্ধ জানালা খুলে যাবে। যে রমণী কেবল তোমাকে আদর সোহাগ আর ভালোবাসার চাদরে ডেকে রাখবে। তাহলে মানুষকে ক্ষমা করে দাও।