📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত তোমার হাতেই...

📄 জান্নাত তোমার হাতেই...


প্রিয় বন্ধু জান্নাত তোমার হাতেই। পিতা-মাতার খেদমত হলো তোমার জান্নাতে যাওয়ার এক অন্যতম মাধ্যম। যদি তুমি পিতা-মাতার খেদমত করতে পারো; তাহলে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের সুখের নীড়ে তোমার আবাসস্থল করে দিবেন। রাতের আধাঁরে একটু ভেবে দেখো, পৃথিবীতে মা-বাবার মতো আর আপন কেউ নেই। একটি সন্তান ভুমিষ্ঠ হয়ে; যখন এ পৃথিবীর আলোর মুখ দেখে তখন শত কষ্ট, ব্যথা, যন্ত্রণা সহ্য করার পরও সবচেয়ে খুশি হয় মা-জননী। আদরের সন্তান তুমি এবং আমাকে বুকে জড়িয়ে ভুলে যান দশ মাস দশ দিনের প্রসব বেদনার যন্ত্রনা। তিনি অনবরত হেসেই যান, যেন কোনো দুঃখ নেই তার মনের দর্পণে। বন্ধুরে..! কত রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দেন তোমার আমার ঐ মা-জননী। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তোমাকে তার ঐ আদরের বুকে আগলে রেখেছেন মা-জননী। আর বাবা তোমার শত চাওয়া পূরণে করতে ব্যস্ত থাকেন। পৃথিবির নিখাদ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এক মাত্র বাবা-মায়েরই। যা পৃথিবীর অন্য কোথাও সে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া যায় না। তোমার মা-বাবাই তোমার জান্নাত। পিতা-মাতার এ ঋণ শোধ হবার নয়।

পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- “আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার সাথে সদ্বব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের কষ্ট করে গর্ভধারণ করেছে, তার দুধ ছাড়ানো হয় দু'বছরে। আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।”

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “পিতা-মাতা হচ্ছে জান্নাতের দরজাসম্মূহের থেকে মধ্যম দরজা। অতএব তুমি সে দরজা ইচ্ছা করলে নষ্ট করতেও পারো বা সংরক্ষণ করতে পারো তা তোমার ইচ্ছে।” রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “মা-বাবা হলো তোমার জান্নাত এবং তোমার জাহান্নাম।”

অন্য হাদিসে আছে—“একজন লোক নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে আসলো, জিজ্ঞাসা করলেন, হে প্রিয়তম! আমার কাছ থেকে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিকারী কে? উত্তরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার মা। সে আবার জিজ্ঞস করলেন, তারপর কে? উত্তরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার মা। সে আবারো জিজ্ঞাস করলো, তারপর কে? উত্তরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার মা। আবার জিজ্ঞেস করলো, এরপরে কে? তোমার পিতা।"

টিকাঃ
১৬৭. সুরা লোকমান: ১৪।
১৬৮. তিরমিযি শরিফ: ১৯০০।
১৬৯. মিশকাত শরিফ: ৪২১।
১৭০. সহিহ বুখারি: ৫৯১৭।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 বৃদ্ধাশ্রমে কেন পিতা-মাতা!

📄 বৃদ্ধাশ্রমে কেন পিতা-মাতা!


আজকাল আমরা আমাদের মা-বাবাকে মোটেও সেবা-যত্ন করি না। যারা নিজেদের সবটুকু ঢেলে দিয়ে আমাদের আগলে রাখেন, আমরা তাকে ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে রাখবো তো দূরের কথা, তাদেরকে আমরা আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে আসি। পরিত্যক্ত ময়লার ন্যায় নিক্ষেপ করি ঐ বৃদ্ধাশ্রম নামে ময়লার ডাস্টবিনে। আমরা ভুলে যাই অতিত, ভুলে যাই শৈশবসহ সবকিছু।

নবি মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “ঐ লোক হতভাগ্য! ঐ লোক হতভাগ্য! ঐ লোক হতভাগ্য! জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কোন লোক হতভাগ্য? উত্তরে নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে লোক পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ বয়সে পেলো কিন্তু সে জান্নাতে প্রবেশ করলো না; সে লোক হতভাগ্য।”

হে যুবক! তোমাকেই আবারো বলছি, তোমার হাতে থাকা জান্নাতকে তুমি বিনষ্ট করে দিয়ো না। তুমি যদি তোমার পিতা-মাতার আনুগত্য ও সেবা-যত্ন করো তাহলে প্রেমময় প্রভু তোমাকে আখেরাতের সেই সুখের নীড়ে জান্নাত দান করবেন এবং এ ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানায় তোমাকে অনেক কষ্ট থেকেও মুক্তি দান করেন।

টিকাঃ
১৭১. সহিহ মুসলিম: ২৫৫১।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 ঐ যে জান্নাত তোমাকে ডাকছে

📄 ঐ যে জান্নাত তোমাকে ডাকছে


হ্যাঁ, ঐ যে জান্নাত তোমাকে ডাকছে। জান্নাত হাতছানি দিয়ে যুবক বন্ধু তোমাকেই ডাকছে। জান্নাত তোমাকে উদ্দেশ্য করে বলছে- প্রিয় যুবক বন্ধু! তুমি আর কতকাল দূরে থাকবে? আমি তোমাকেই ডাকছি প্রতিটি ক্ষণে-ক্ষণে। তুমি আর দূরে-দূরে থেকো না। এখন থেকে আমার রাস্তায় চলো। তুমি আমার কোলে চলে আসবে। আমি তোমাকে আমার ভালোবাসার চাদরে ডেকে রাখবো। তাই তুমি জান্নাতের ডাকে সাড়া দাও না! জান্নাতের বুকে ফিরে যেতে হলে তোমাকে সঠিক সময়ে সালাত আদায় করতে হবে, তাহলে জান্নাত তোমাকে তার সুখের বুকে টেনে নিবে। প্রিয়তম রাসুল এমনই বলেছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি প্রিয় রাসুলকে জিজ্ঞাসা করেছি রাসুল হে! কোন আমল জান্নাতের অতি নিকটবর্তী করে দেয়? উত্তরে নবি মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সময়মত সালাত আদায় করা।”

টিকাঃ
১৭২. সহিহ মুসলিম: ২৬৩।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 ফিরে এসো জান্নাতের পথে

📄 ফিরে এসো জান্নাতের পথে


হে যুবক! তোমার রবের দিকে ফিরে এসো। ফিরে এসো জান্নাতের পথে। ফিরে এসো সফলতার পথে। তুমি ফিরে এসো সুখ-শান্তির পথে। হে যুবক! জীবনে অনেক গুনাহ করেছো! অনেক পাপ করেছো! অনর্থক কাজে নিজের জীবনের মহামূল্যবান সময় নষ্ট করেছো! হে প্রিয় যুবক! তোমাকেই বলছি- এখন কি সময় হয়নি তোমার তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে আসার! এখনো কি সময় হয়নি তোমার প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তন করার! ঐ মায়াবী ও দয়ার প্রভু তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, ঐ জান্নাত তোমার প্রতিক্ষা করছে। জান্নাতের হাজারো নেয়ামত তোমার প্রতিক্ষায়ই আছে। তোমার প্রভু তোমাকে তার দিকে অনুতপ্তের জন্য ডাকছে। তিনি বলছেন— আছো কোনো যুবক ক্ষমা প্রার্থনা করবে? আমি তাকে আমার ভালোবাসার চাদরে ডেকে নিবো। আমার ঐ জান্নাতের নেয়ামতের সাগরে ডুবিয়ে দিব।

প্রিয় যুবক! আর কত তুমি গুনাহয় বিভোর হয়ে থাকবে? আর কত সময় পাপের সমুদ্রে হাবুডুবু খাবে? আর কত সময় তুমি তোমার প্রভুর থেকে উদাসীন হয়ে থাকবে? হে যুবক! তুমি পাহাড় সমপরিমাণ গুনাহ করে ফেলেছো! পৃথিবির এমন কোনো খারাপ কাজ নেই তুমি করোনি, তুমি মনে মনে ভাবছো— আল্লাহ তায়ালা তোমাকে ক্ষমা করবেন না? তুমি কি আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নৈরাশ হয়ে গেছো? না যুবক, এমনটা নয়; পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“জেনে রাখুন, আল্লাহ সেসব লোকদের তাওবাই কবুল করেন, যারা না জেনে বা ভুল করে মন্দ কাজ করে ফেলে এবং পরক্ষণেই ভীষণ অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে; এরাই সেসব লোক যাদের তাওবা আল্লাহ কবুল করেন। আর আল্লাহ তো সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।”

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে আরো ইরশাদ করেন-
“হে ইমানদারগণ! তোমরা যারা ইমান এনেছো, তোমরা আমার কাছে তাওবা করো, বিশুদ্ধ তাওবা। (আল্লাহ তায়ালা) হয়তো তোমাদের আমলনামা থেকে খারাপ কাজগুলো মুছে দিবেন ও তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”

টিকাঃ
১৭৩. সুরা নিসা: ১৭।
১৭৪. সুরা তাহরিম: ৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00