📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 হে যুবক! যে পথে পাবে সফলতা...

📄 হে যুবক! যে পথে পাবে সফলতা...


নিশ্চয় প্রত্যেকটি মানুষের দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে নানা ধরণের চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও নানাবিধ আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকে। এর রকমফেরের কোন শেষ নেই। আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য মানুষের মনে নানামুখী উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন কিলবিল করতে থাকে। আর এটাই স্বাভাবিক যে, মানুষ স্বভাবগতভাবে আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নগুলো তড়িৎ করতে এবং সফল ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে নানা পথ ও পন্থা বেছে নেয়। কিন্তু জীবনের বিস্তীর্ণ ময়দান এমন একটি যুদ্ধক্ষেত্র—যাতে রয়েছে নানা রকম কষ্ট-ক্লেশ, বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন- “নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে।”

এ বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে অনেকেরই স্বপ্ন ভঙ্গ হতে পারে, অনেকের স্বপ্ন স্নান বা ফিকে হয়ে যেতে পারে। আবার কারো স্বপ্ন ধরা দেয় বাস্তবে। লক্ষ্যণীয় হল, যখনই দুনিয়ার সফলতা মানুষের হাতে ধরা দেয়, সাধারণত তখনই সে আখেরাত থেকে বিমুখ হতে থাকে। যার ফলে দুনিয়াবী জীবনে সফলতা সত্ত্বেও প্রকৃতপক্ষে সে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হতে থাকে। ফলে কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায়। দুনিয়ার জীবন ক্রমান্বয়ে খুব দ্রুত এগিয়ে চলছে। আর ব্যক্তির মান-মর্যাদা, সুনাম-সুখ্যাতি, সফলতা, ধন-সম্পদ অর্জন ও পদমর্যাদা তো তখনই সফল বাস্তবায়ন হয়--যখন সে পরিপূর্ণরূপে ঈমানি পোষাক পরিধান করে দয়াবান প্রভুর আনুগত্যে প্রবেশ করে। একজন মুসলিম যুবকও এর ব্যতিক্রম নয়। অতএব সবসময় দুনিয়ার বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও সংকীর্ণতার মধ্য দিয়েই যৌবন অতিবাহিত হয়। নিম্নে একজন মুসলিম যুবকের সফলতার সোপান সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:

১. আল্লাহ তায়ালার প্রতি পূর্ণ আস্থা, উত্তম ধারনা পোষণ ও তাঁর রহমতের আশায় বুক বাঁধা।
যখন কোন যুবক তার রিযিকের ক্ষেত্রে ও নিজের সকল বিষয় আল্লাহর প্রতি সোপর্দ করার ব্যাপারে পূর্ণ আস্থাশীল হয় এবং এ বিশ্বাস পোষণ কর যে— প্রকৃত রিযিকদাতা ও মহা দানশীল কেবল তিনিই। তখন আল্লাহ তায়ালা তার জন্য রিযিকের দরজা খুলে দেন এবং অকল্পনীয় স্থান থেকে তার জন্য রিযিকের ব্যবস্থা করেন।

২. সময়মত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা
যৌবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হলো সময়মত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা। কেননা সালাত সকল কল্যাণের চাবিকাঠি ও মুসলিম জীবনে সকল নেক কাজের উৎস এবং বরকত লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

৩. মহা মহীয়ান আল্লাহর নিকট দো'আ প্রার্থনা করা
অতি দয়ালু, বদান্য, দানশীল মহান প্রতিপালক আল্লাহকে তাঁর সিফাতি নাম ও গুণাবলীসহ দো'আ প্রার্থনা করার মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করা বাঞ্চনীয়। কেননা দো'আ মানুষের রিযিক বৃদ্ধি ও কষ্ট দূর করার অন্যতম একটি মাধ্যম।

৪. পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা
পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা, কথাবার্তা ও কাজ কর্ম দ্বারা তাদের প্রতি ইহসান করা ও তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা। তাদের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করার ব্যাপারেও সর্বাত্মক চেষ্টা করা এবং তাদেরকে মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষী রাখা এবং তাদেরকে পরিপূর্ণরূপে শ্রদ্ধা করা বিশেষ করে যখন তারা বার্ধক্যে পৌঁছে যায়।

৫. আল্লাহর নিকট অধিক পরিমাণে তওবা, ইস্তেগফার করা
আল্লাহর নিকট অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার ও তওবা করা। কেননা মুসলিম যুবকের ইস্তেগফার তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে এবং রিযিকের দরজা খুলে দেয় ও তার উপর রহমত বর্ষিত হয়।

৬. দান-সদকা
ফকির-মিসকিনদেরকে দান সদকা করা এবং সাধ্যানুযায়ী সাধারণ মানুষকে প্রতিটি কাজে সহযোগিতা করা। যেমন সুফারিশ, উপদেশ, সঠিক পথ প্রদর্শন, দুশ্চিন্তা মুক্ত করা, ঋণ-পরিশোধ ইত্যাদি। অর্থনৈতিক উন্নতির পিছনে দান-সদকার বিরাট প্রভাব রয়েছে।

৭. পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা
প্রতিটি কাজের পেছনে পূর্ব পরিকল্পনা, চিন্তা-ফিকির, সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি ও লক্ষ্যস্থল নির্ধারণসহ দূরদর্শিতা নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

৮. অলসতা ও অপারগতা প্রকাশ না করা
কোন কাজে সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সেই কাজে অব্যাহতভাবে লেগে থাকা ও দিন দিন তৎপরতা বৃদ্ধি করা। রিযিক তালাশ করার ক্ষেত্রে চেষ্টা করা এবং বাপ-দাদার সম্মান ও অন্যের উপকারের প্রতি ভরসা করে অলসতা ও অপারগতার উপর নির্ভর না করা।

৯. জ্ঞানীগুণীদের পরামর্শ ও জামা'আতবদ্ধ জীবনযাপন করা
ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজকর্মের ক্ষেত্রে জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে পরামর্শ কর যাতে কর্ম পরিচালনায় এমন সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পার যে, সার্বিক পরিস্থিতি তোমার শক্তি-সামর্থের অনুকূলে হয়।

১০. অনর্থক আড্ডাবাজি পরিত্যাগ করা
সফল জীবনের জন্য অনর্থক আড্ডাবাজি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। শয়তানের ফাঁদে পড়া থেকে নিজেকে হেফাযত কর। যেমন অবৈধ প্রেম-ভালবাসা, মদ সেবন এবং এ জাতীয় খারাপ বিষয়াদি।

টিকাঃ
১৪৩. সুরা বালাদ : ৪।
১৪৪. সুরা তালাক: ২-৩।
১৪৫. সুনানু তিরমিযি: ২৩৪৪।
১৪৬. সুনানু তিরমিযি : ২৪৬৬।
১৪৭. সুরা ত্বহা: ১৩২।
১৪৮. সুরা আনকাবুত : ৪৫।
১৪৯. মুসনাদু আহমাদ: ৯৭৭৮।
১৫০. সহিহ বুখারি : ৬৩৮৯।
১৫১. সুরা বনি ইসরাঈল: ২৩-২৪।
১৫২. সহিহ বুখারি : ৫৯৮৬।
১৫৩. সুরা নূহ: ১০-১২।
১৫৪. সহিহ বুখারি: ৬৩০৭।
১৫৫. সুরা সাবা: ৩৯।
১৫৬. সহিহ বুখারি: ৫৩৫২।
১৫৭. সহিহ বুখারি: ১৪৪২।
১৫৮. সুরা আলে-ইমরান: ১৯১।
১৫৯. সুরা নাজম: ৩৯-৪০।
১৬০. সুনানু ইবনু মাজাহ: ৭৯।
১৬১. সহিহ বুখারি: ১৪৭১।
১৬২. সুরা আলে ইমরান: ১৫৯।
১৬৩. সুরা নাহল: ৪৩।
১৬৪. সুরা আলে ইমরান: ১০৪।
১৬৫. সুনানু তিরমিজি: ২১৬৫।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত লাভের দোয়া

📄 জান্নাত লাভের দোয়া


প্রিয় বন্ধু, জান্নাতের সেই সুখময় উদ্যানে যেতে হলে আল্লাহ তায়ালার কাছে জান্নাত লাভের দোয়া করতে হবে। জান্নাতে যাওয়ার একেবারে সহজ একটি আমল।

হযরত আবু মুসা আশআরি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম একদিন আমাকে বললেন, 'আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভান্ডারের একটি বাক্য বলে দিব?' আমি বললাম, জ্বী, অবশ্যই বলে দিন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-
“লা হাওলা ওয়া লা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গোনাহ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমল করা সম্ভব না।)

টিকাঃ
১৬৬. সহিহ মুসলিম: ৭০৪৩।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত তোমার হাতেই...

📄 জান্নাত তোমার হাতেই...


প্রিয় বন্ধু জান্নাত তোমার হাতেই। পিতা-মাতার খেদমত হলো তোমার জান্নাতে যাওয়ার এক অন্যতম মাধ্যম। যদি তুমি পিতা-মাতার খেদমত করতে পারো; তাহলে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের সুখের নীড়ে তোমার আবাসস্থল করে দিবেন। রাতের আধাঁরে একটু ভেবে দেখো, পৃথিবীতে মা-বাবার মতো আর আপন কেউ নেই। একটি সন্তান ভুমিষ্ঠ হয়ে; যখন এ পৃথিবীর আলোর মুখ দেখে তখন শত কষ্ট, ব্যথা, যন্ত্রণা সহ্য করার পরও সবচেয়ে খুশি হয় মা-জননী। আদরের সন্তান তুমি এবং আমাকে বুকে জড়িয়ে ভুলে যান দশ মাস দশ দিনের প্রসব বেদনার যন্ত্রনা। তিনি অনবরত হেসেই যান, যেন কোনো দুঃখ নেই তার মনের দর্পণে। বন্ধুরে..! কত রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দেন তোমার আমার ঐ মা-জননী। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তোমাকে তার ঐ আদরের বুকে আগলে রেখেছেন মা-জননী। আর বাবা তোমার শত চাওয়া পূরণে করতে ব্যস্ত থাকেন। পৃথিবির নিখাদ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এক মাত্র বাবা-মায়েরই। যা পৃথিবীর অন্য কোথাও সে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া যায় না। তোমার মা-বাবাই তোমার জান্নাত। পিতা-মাতার এ ঋণ শোধ হবার নয়।

পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- “আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার সাথে সদ্বব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের কষ্ট করে গর্ভধারণ করেছে, তার দুধ ছাড়ানো হয় দু'বছরে। আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।”

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “পিতা-মাতা হচ্ছে জান্নাতের দরজাসম্মূহের থেকে মধ্যম দরজা। অতএব তুমি সে দরজা ইচ্ছা করলে নষ্ট করতেও পারো বা সংরক্ষণ করতে পারো তা তোমার ইচ্ছে।” রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “মা-বাবা হলো তোমার জান্নাত এবং তোমার জাহান্নাম।”

অন্য হাদিসে আছে—“একজন লোক নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে আসলো, জিজ্ঞাসা করলেন, হে প্রিয়তম! আমার কাছ থেকে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিকারী কে? উত্তরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার মা। সে আবার জিজ্ঞস করলেন, তারপর কে? উত্তরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার মা। সে আবারো জিজ্ঞাস করলো, তারপর কে? উত্তরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার মা। আবার জিজ্ঞেস করলো, এরপরে কে? তোমার পিতা।"

টিকাঃ
১৬৭. সুরা লোকমান: ১৪।
১৬৮. তিরমিযি শরিফ: ১৯০০।
১৬৯. মিশকাত শরিফ: ৪২১।
১৭০. সহিহ বুখারি: ৫৯১৭।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 বৃদ্ধাশ্রমে কেন পিতা-মাতা!

📄 বৃদ্ধাশ্রমে কেন পিতা-মাতা!


আজকাল আমরা আমাদের মা-বাবাকে মোটেও সেবা-যত্ন করি না। যারা নিজেদের সবটুকু ঢেলে দিয়ে আমাদের আগলে রাখেন, আমরা তাকে ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে রাখবো তো দূরের কথা, তাদেরকে আমরা আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে আসি। পরিত্যক্ত ময়লার ন্যায় নিক্ষেপ করি ঐ বৃদ্ধাশ্রম নামে ময়লার ডাস্টবিনে। আমরা ভুলে যাই অতিত, ভুলে যাই শৈশবসহ সবকিছু।

নবি মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “ঐ লোক হতভাগ্য! ঐ লোক হতভাগ্য! ঐ লোক হতভাগ্য! জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কোন লোক হতভাগ্য? উত্তরে নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে লোক পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ বয়সে পেলো কিন্তু সে জান্নাতে প্রবেশ করলো না; সে লোক হতভাগ্য।”

হে যুবক! তোমাকেই আবারো বলছি, তোমার হাতে থাকা জান্নাতকে তুমি বিনষ্ট করে দিয়ো না। তুমি যদি তোমার পিতা-মাতার আনুগত্য ও সেবা-যত্ন করো তাহলে প্রেমময় প্রভু তোমাকে আখেরাতের সেই সুখের নীড়ে জান্নাত দান করবেন এবং এ ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানায় তোমাকে অনেক কষ্ট থেকেও মুক্তি দান করেন।

টিকাঃ
১৭১. সহিহ মুসলিম: ২৫৫১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00