📄 দ্বাদশতম উপদেশ
ফিরয়াবি বলেন, “একদিন সুফিয়ান ছাওরি রহিমাহুল্লাহ সালাতের ইমামতি শেষে যুবকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন, এখন যদি তোমরা সালাত না আদায়ে রত হও তাহলে আর কবে?”
এখানে সুফিয়ান ছাওরি রহিমাহুল্লাহ যুবকদেরকে জোর তাকিদ দিয়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হওয়ার উপদেশ করেছেন। যদি যুবকরা এই সময়টাতে আল্লাহর সিজদা না দেয়, আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ না করে, তাহলে তার ওপর এমন অবস্থা পতিত হওয়ার আশংকা আছে, এমন বয়সে সে উপনীত হবে যে, শারীরিক দুর্বলতা ও রোগের কারণে তখন ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিনের সিজদা করতে সক্ষম হবে না। তাই রহিমাহুল্লাহ বলেন, এখন যদি তোমরা সালাত না আদায়ে রত হও তাহলে আর কবে?
টিকাঃ
[১৩৮] হিলয়াতুল আউলিয়া: ৭/৫৯।
📄 ত্রয়োদশতম উপদেশ
রবিয়াহ বিন কুলসুম বলেন, “আমরা হাসান আল বসরি রহিমাহুল্লাহ্র পাশে জমা হয়ে বসা ছিলাম। তিনি যুবকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, হে যুবসম্প্রদায়! তোমরা কি ডাগর ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট জান্নাতি হুরের আশা কর না?”
এখানে হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ খুবই সুক্ষ্ম ও চমৎকারভাবে যুবকদের দৃষ্টিকে জান্নাত লাভ ও তার নিয়ামত অর্জনের প্রতি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছেন। আর জান্নাতের মাঝে রয়েছে সবরকম সুস্বাদু খাবার, আরাম আয়েশের উপকরণ এবং রয়েছে ডাগর ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট অনিন্দ সুন্দরী, আনতনয়না পূর্ণযৌবনা, রূপসী হুর। যাতে করে যুবকদের মনে জান্নাত লাভের প্রফুল্লতা ও তার প্রতি আগ্রহ অন্তরে দানা বাঁধে, আগ্রহ জাগে মনে। আর যখন যুবকদের অন্তরে জান্নাত লাভের আশা পয়দা হবে তখন আল্লাহপাকের তাওফিক ও অনুগ্রহে সে আখিরাত হাসিলের জন্য নেক আমল করার প্রতি ধাবিত হবে এবং জান্নাত লাভে সচেষ্ট হবে।
আর আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন বলেন, “আর যারা আখিরাত কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় তার যথাসাধ্য চেষ্টা সাধনা করে এমন লোকদের চেষ্টাই স্বীকৃত হয়ে থাকে।”
টিকাঃ
১৩৯. ইবনু আবিদ্দুনিয়া প্রণিত সিফাতুল জান্নাহ: ৩১২।
১৪০. সুরা আল ইসরা: ১৯।
📄 চতুর্দশতম উপদেশ
হাসান আল বসরি রহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, “তিনি বলেন, হে যুবসম্প্রদায়! তোমরা কাজের বিলম্বিতকরণ হতে বাঁচো, যে কাজটা শিগগির করে নেব, শিগগির করে নেব।”
হাসান রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'তোমরা কাজের বিলম্বিতকরণ হতে বাঁচো'। এটি বলার কারণ হল তাসউইফ বা বিলম্বিতকরণ। এটি এমন একটি খতরনাক রোগ, যে কারণে অধিকাংশ যুবক ধ্বংস হয়েছে। যেমন কেউ বলে— অতিসত্বর তাওবা করে নেব, অতিসত্বর সালাতের প্রতি যত্নবান হবো এবং পিতামাতার সদাচরণ ও তাদের হক আদায় করব। যারা এমন বলে এ ধরণের লোকেরা তা করতে পারে না, কোন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে না এবং সময়ের যথাযথ মূল্যায়ণ ও তাকে সঠিক কাজে লাগাতে পারে না। বরং সে কাজকে বিলম্বিত করে, রেখে দেয় পরবর্তী সময়ের জন্য। অতঃপর যখন স্বীয় গাফলতি হতে তাওবা করার মনস্থ করে এবং সালাতে মনোযোগি হতে চায় তখনই মুসিবত এসে পতিত হয়। তাকে সরিয়ে দেয় তার সদিচ্ছা হতে, সরিয়ে দেয় তাওবা ও সালাতে মনোযোগি হওয়া থেকে। আর সে কাজকে বিলম্বিত ও স্থগিত করতে থাকে। আর এমতাবস্থাতেই তার বরকতপূর্ণ সময় যৌবনকাল শেষ হয়ে যায়। আর কতেক লোক তো তাওবা করাকে বিলম্বিত করতে করতে শেষবয়সের জন্য রেখে দেয়। অতঃপর সেই বয়স আসার আগেই মৃত্যু তাকে নিয়ে যায় ছোঁ মেরে।
টিকাঃ
১৪১. কিসারুল আমাল লিইবনি আবিদ্দুনিয়া: ২১২।
📄 পঞ্চদশতম উপদেশ...
হাফসা বিনতে সিরিন রহিমাহাল্লাহ বলেন, “হে যুবসম্প্রদায়! তোমরা যৌবনকালে খুব বেশি বেশি ইবাদত করে আত্মতৃপ্তি লাভ কর। রাব্বে কারিমের কসম! আমি যৌবনকাল ছাড়া আমলের ভাল সময় দেখিনি।”
হাফসা রহিমাহাল্লাহ বলেছেন— “আমি যৌবনকাল ছাড়া আমলের ভাল সময় দেখিনি অর্থাৎ যৌবনকাল হল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। এটি তার জন্য উত্তম সময়কাল, যদি সে আল্লাহপাকের তাওফিকে এর উত্তম ব্যবহার করতে পারে। পক্ষান্তরে যদি যুবক সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে না লাগায়, উপরন্তু এ সময়টির অবহেলা করে এবং এই মূল্যবান সময়কে নষ্ট করে কুপ্রবৃত্তি ও লালসা এবং নফসের অনুসরণে, বিশেষত হারাম কাজ করে তাহলে সে স্বহস্তেই স্বীয় যৌবনকাল নষ্ট করল ও তার ভবিষ্যৎ বরবাদ করল।
যেমন কোন বক্তা বলেন- “যৌবনকালের কামনা-বাসনা যুবকের জন্য হয়ে থাকে খুবই চমৎকার, বৃদ্ধকালে তা হয় আজাবের কারণ।”
সুতরাং যৌবনকালের কাম্যবস্তু খুবই চমৎকার থাকে। যাকে যুবকরা খুবই স্বাদযুক্ত, চটকদার মনে করে। অতঃপর যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তখন সেসব আর তার কাছে ভাল লাগে না। তা তার কাছে একদম অসহ্য ও অস্বস্তিকর এবং আজাব মনে হয়। আর একথা স্বতঃসিদ্ধ যে- যৌবনকাল প্রত্যেকের জীবনের মহামূল্যবান সময়। তাই যুবকের উপর আবশ্যক হল- সে এই সময়টাকে সুন্দরভাবে গুজরান করবে এবং তার যথাযথ মূল্যায়ণ ও সঠিক ব্যবহার করবে। যৌবনকালের পূর্ণাঙ্গ খায়র ও বরকত পাওয়ার জন্য গভীর চেষ্টা ও সাধনা করবে। আল্লাহ তায়ালার সাহায্য ও তাওফিক চাইবে যৌবনকাল সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য। আর একথা মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিয়ামত দিবসে এই যৌবনকাল সম্পর্কে কঠিন থেকে কঠিনতর প্রশ্ন করবেন।
টিকাঃ
১৪২. মুখতাসারু কিয়ামিল লাইল: ৪৯।