📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 দশম উপদেশ...

📄 দশম উপদেশ...


মুহাম্মাদ ইবনু সুওকা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মায়মুন বিন মিহরান আমার সাথে সাক্ষাত করেন। আমি বললাম- হায়াকাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। অতঃপর এটা শুনে তিনি বললেন, এটি যুবকদের সালাম। তুমি বরং বল, 'আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ'।”

অথচ নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেন, “যে সালামের আগে কথা বলে তার কথার জবাব দিও না।” ইহা যুবকদের সালাম অর্থাৎ কতেক যুবক নিজের সাথি ও বন্ধুদের সাথে মোলাকাতের সময় এ ধরণের অভিবাদন পছন্দ করে থাকে। আর মনে করে এটিই উত্তম সম্ভাষণ। তাই তারা ইসলামের সালাম পদ্ধতিকে ছেড়ে দিয়ে সেই সব সম্ভাষণ পদ্ধতির দিকে ধাবিত হয় যেগুলো ইসলামে বর্ণিত সালাম পদ্ধতি বা সম্ভাষণ নয়। এবং এটিকে যথেষ্ঠ মনে করে সালামকে বর্জন করে। আর অনেক সময় তো সালাম দেয় কথা বলার পর।

টিকাঃ
[১৩৫] হিলয়াতুল আউলিয়া: ৪/৮৬।
[১৩৬] আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাহ: ২১৩, সিলসিলাতু আস সহিহাহ: ৮১৬।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 একাদশতম উপদেশ

📄 একাদশতম উপদেশ


আবুল মালিহ বলেন, “আমরা মায়মুন বিন মিহরানের পাশে বসা ছিলাম। তখন তিনি আমাদেরকে বলেন, হে যুবসম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের যৌবনকালের শক্তি ও সামর্থ এবং প্রফুল্লতা আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের মাঝে ব্যয় কর। হে বৃদ্ধমহল! এভাবে আর কতদিন চলবে?”

তিনি যুবকদেরকে অসিয়ত করেছেন—তারা যেন তাদের শক্তি, সামর্থ ও প্রফুল্লতা, দুরন্তপনাকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে তাঁর অনুসরণ ও ইবাদতে লেগে থাকে। অতঃপর বলেছেন, হে বৃদ্ধমহল! আর কতদিন চলবে? এভাবে আর কত অপেক্ষা করবে? আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুসরণ না করে আর কতদিন বসে থাকবে?

টিকাঃ
[১৩৭] হিলয়াতুল আউলিয়া: ৪/৭৮।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 দ্বাদশতম উপদেশ

📄 দ্বাদশতম উপদেশ


ফিরয়াবি বলেন, “একদিন সুফিয়ান ছাওরি রহিমাহুল্লাহ সালাতের ইমামতি শেষে যুবকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন, এখন যদি তোমরা সালাত না আদায়ে রত হও তাহলে আর কবে?”

এখানে সুফিয়ান ছাওরি রহিমাহুল্লাহ যুবকদেরকে জোর তাকিদ দিয়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হওয়ার উপদেশ করেছেন। যদি যুবকরা এই সময়টাতে আল্লাহর সিজদা না দেয়, আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ না করে, তাহলে তার ওপর এমন অবস্থা পতিত হওয়ার আশংকা আছে, এমন বয়সে সে উপনীত হবে যে, শারীরিক দুর্বলতা ও রোগের কারণে তখন ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিনের সিজদা করতে সক্ষম হবে না। তাই রহিমাহুল্লাহ বলেন, এখন যদি তোমরা সালাত না আদায়ে রত হও তাহলে আর কবে?

টিকাঃ
[১৩৮] হিলয়াতুল আউলিয়া: ৭/৫৯।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 ত্রয়োদশতম উপদেশ

📄 ত্রয়োদশতম উপদেশ


রবিয়াহ বিন কুলসুম বলেন, “আমরা হাসান আল বসরি রহিমাহুল্লাহ্র পাশে জমা হয়ে বসা ছিলাম। তিনি যুবকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, হে যুবসম্প্রদায়! তোমরা কি ডাগর ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট জান্নাতি হুরের আশা কর না?”

এখানে হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ খুবই সুক্ষ্ম ও চমৎকারভাবে যুবকদের দৃষ্টিকে জান্নাত লাভ ও তার নিয়ামত অর্জনের প্রতি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছেন। আর জান্নাতের মাঝে রয়েছে সবরকম সুস্বাদু খাবার, আরাম আয়েশের উপকরণ এবং রয়েছে ডাগর ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট অনিন্দ সুন্দরী, আনতনয়না পূর্ণযৌবনা, রূপসী হুর। যাতে করে যুবকদের মনে জান্নাত লাভের প্রফুল্লতা ও তার প্রতি আগ্রহ অন্তরে দানা বাঁধে, আগ্রহ জাগে মনে। আর যখন যুবকদের অন্তরে জান্নাত লাভের আশা পয়দা হবে তখন আল্লাহপাকের তাওফিক ও অনুগ্রহে সে আখিরাত হাসিলের জন্য নেক আমল করার প্রতি ধাবিত হবে এবং জান্নাত লাভে সচেষ্ট হবে।

আর আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন বলেন, “আর যারা আখিরাত কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় তার যথাসাধ্য চেষ্টা সাধনা করে এমন লোকদের চেষ্টাই স্বীকৃত হয়ে থাকে।”

টিকাঃ
১৩৯. ইবনু আবিদ্দুনিয়া প্রণিত সিফাতুল জান্নাহ: ৩১২।
১৪০. সুরা আল ইসরা: ১৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00