📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 অষ্টম উপদেশ

📄 অষ্টম উপদেশ


ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ আবদুল ওয়াহহাব আসসাকাফি হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আইয়ুব সাখতিয়ানি রহিমাহুল্লাহ আমাদের কাছে তাশরিফ এনে বলতেন, হে যুবসম্প্রদায়! তোমরা পেশাকে গ্রহণ কর। তাহলে তোমাদের এসব আমিরদের তোষামোদী ও চাটুকারিতার প্রয়োজন পড়বে না।”

অর্থাৎ এখানে আইয়ুব সাখতিয়ানি রহিমাহুল্লাহ বুঝাতে চেয়েছেন যে, ইলম অর্জনের পাশাপাশি কোন একটা পেশা থাকা উচিত, যাতে সে টাকা-পয়সা ধন-সম্পদ অর্জন করতে পারে। এবং রিজিক অন্বেষণ করে নিজের প্রয়োজন মিটাতে পারে—এমনকি পরবর্তীতে পরিবার সন্তানাদি ইত্যাদির খোরপোষ দিতে পারে। আর পরিবারকে অন্যের উপর বোঝা না বানানো উচিত। যাতে করে বয়োবৃদ্ধ হওয়ার পরও অমুক লোকের কাছে তমুক লোকের কাছে সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য হাত না পাততে হয়। আর নিজের হাতে উপার্জিত রিজিক সবচেয়ে বেশি বরকতপূর্ণ ও বেশি উপকারি এবং সবচেয়ে বেশি পবিত্র।

টিকাঃ
[১৩৩] কিতাবুল ওয়ার-ই: ৯৩।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 নবম উপদেশ

📄 নবম উপদেশ


জাফর রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সাবিত আল বুনানি রহিমাহুল্লাহ আমাদের কাছে তাশরিফ আনলেন। তখন আমরা কিবলার দিকে পিঠ লাগিয়ে বসা ছিলাম। তিনি আমাদেরকে বলতে লাগলেন- হে যুবসম্প্রদায়! আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর রহম করুন। আমি ও আমার রবের ইবাদত এবং রবের প্রতি একনিষ্ঠ সিজদার মাঝে তোমরা আমার প্রতিবন্ধক হয়ে আছো। সাবিত বুনানি রহিমাহুল্লাহ্র কাছে সালাত আদায় করা খুব পছন্দের ছিল।”

এখানে সাবিত আল বুনানি রহিমাহুল্লাহ সেসব যুবকদের প্রতি ইশারা করেছেন—যারা বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠিদের সাথে মসজিদে সাক্ষাত করে এবং সেখানেই জমায়েত হয়। এবং তারা তাদের বন্ধুদের সাক্ষাতকে সুযোগ মনে করে মসজিদের মাঝেই সমুচ্চস্বরে গালগল্পে মেতে উঠে। এতে করে আসে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসে এবং স্বীয় সালাতে একনিষ্ঠতা, বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করে থাকে তাদের সালাত ও ইবাদতের মাঝে এসব যুবকরা প্রতিবন্ধক হয়ে থাকে। তাদের শোরগোলের কারণে সালাতের খুশু খুজু বা বিনয় ও নম্রতা চলে যায়।

বর্তমান যুগ হল সাইন্স, টেকনোলজি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। এ যুগের যুবকরা পকেটে মোবাইল ফোন নিয়েই মসজিদে প্রবেশ করে। আর তাদের মোবাইলের রিংটোনের আওয়াজে মুসল্লিদের সালাতের খুশু খুজু ও একাগ্রতা বরবাদ হয়ে যায়। কখনো কখনো মোবাইলে উঁচু আওয়াজে কথা বলে মসজিদের বেহুরমতি করা হয় ও সালাতে ব্যাঘাত ঘটায়। এভাবেই প্রশান্তি, শীতলতা ও আরামের জায়গা মসজিদের পরিবেশকে অশান্তি ও অসহ্যকর এক পরিবেশে রূপ দেয়।

টিকাঃ
[১৩৪] হিলয়াতুল আউলিয়া: ২/৩২২

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 দশম উপদেশ...

📄 দশম উপদেশ...


মুহাম্মাদ ইবনু সুওকা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মায়মুন বিন মিহরান আমার সাথে সাক্ষাত করেন। আমি বললাম- হায়াকাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। অতঃপর এটা শুনে তিনি বললেন, এটি যুবকদের সালাম। তুমি বরং বল, 'আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ'।”

অথচ নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেন, “যে সালামের আগে কথা বলে তার কথার জবাব দিও না।” ইহা যুবকদের সালাম অর্থাৎ কতেক যুবক নিজের সাথি ও বন্ধুদের সাথে মোলাকাতের সময় এ ধরণের অভিবাদন পছন্দ করে থাকে। আর মনে করে এটিই উত্তম সম্ভাষণ। তাই তারা ইসলামের সালাম পদ্ধতিকে ছেড়ে দিয়ে সেই সব সম্ভাষণ পদ্ধতির দিকে ধাবিত হয় যেগুলো ইসলামে বর্ণিত সালাম পদ্ধতি বা সম্ভাষণ নয়। এবং এটিকে যথেষ্ঠ মনে করে সালামকে বর্জন করে। আর অনেক সময় তো সালাম দেয় কথা বলার পর।

টিকাঃ
[১৩৫] হিলয়াতুল আউলিয়া: ৪/৮৬।
[১৩৬] আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাহ: ২১৩, সিলসিলাতু আস সহিহাহ: ৮১৬।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 একাদশতম উপদেশ

📄 একাদশতম উপদেশ


আবুল মালিহ বলেন, “আমরা মায়মুন বিন মিহরানের পাশে বসা ছিলাম। তখন তিনি আমাদেরকে বলেন, হে যুবসম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের যৌবনকালের শক্তি ও সামর্থ এবং প্রফুল্লতা আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের মাঝে ব্যয় কর। হে বৃদ্ধমহল! এভাবে আর কতদিন চলবে?”

তিনি যুবকদেরকে অসিয়ত করেছেন—তারা যেন তাদের শক্তি, সামর্থ ও প্রফুল্লতা, দুরন্তপনাকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে তাঁর অনুসরণ ও ইবাদতে লেগে থাকে। অতঃপর বলেছেন, হে বৃদ্ধমহল! আর কতদিন চলবে? এভাবে আর কত অপেক্ষা করবে? আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুসরণ না করে আর কতদিন বসে থাকবে?

টিকাঃ
[১৩৭] হিলয়াতুল আউলিয়া: ৪/৭৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00