📄 সপ্তম উপদেশ...
কাবুস বিন ইবনু যাবয়ান রহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদিন আমরা আবু যাবয়ান রহিমাহুল্লাহ্র ইমামতিতে ফজর সালাত আদায় করি। আর মুআজ্জিন ছাড়া আমরা সকলেই ছিলাম যুবক। তিনি সালাম ফিরিয়ে আমাদের দিকে ঘুরে বসেন। এবং আমাদেরকে প্রশ্ন করতে থাকলেন। তুমি কে? তুমি কে? এবং সকলকে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেয়ার লক্ষ্যে বললেন— নিশ্চয় কোন নবিকে যুবক বানানো ছাড়া প্রেরণ করা হয়নি। আর যুবক অবস্থার চেয়ে উত্তম ইলম কাউকে দেওয়া হয়নি।”
এখানে আবু যাবয়ান রহিমাহুল্লাহ যৌবনকালের কল্যাণ ও বরকতের সঠিক ব্যবহার করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। আর নিশ্চয় যৌবনকাল এমনই একটি সময় যা পরকালের পাথেয় অর্জন ও ইলম হাসিলের সঠিক সময় এবং আত্মীক প্রফুল্লতা ও শারীরিক শক্তি-সামর্থকে কাজে লাগানোর মোক্ষম সময়।
টিকাঃ
[১৩২] আবু খায়সামার কিতাবুল ইলম: ৮০।
📄 অষ্টম উপদেশ
ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ আবদুল ওয়াহহাব আসসাকাফি হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আইয়ুব সাখতিয়ানি রহিমাহুল্লাহ আমাদের কাছে তাশরিফ এনে বলতেন, হে যুবসম্প্রদায়! তোমরা পেশাকে গ্রহণ কর। তাহলে তোমাদের এসব আমিরদের তোষামোদী ও চাটুকারিতার প্রয়োজন পড়বে না।”
অর্থাৎ এখানে আইয়ুব সাখতিয়ানি রহিমাহুল্লাহ বুঝাতে চেয়েছেন যে, ইলম অর্জনের পাশাপাশি কোন একটা পেশা থাকা উচিত, যাতে সে টাকা-পয়সা ধন-সম্পদ অর্জন করতে পারে। এবং রিজিক অন্বেষণ করে নিজের প্রয়োজন মিটাতে পারে—এমনকি পরবর্তীতে পরিবার সন্তানাদি ইত্যাদির খোরপোষ দিতে পারে। আর পরিবারকে অন্যের উপর বোঝা না বানানো উচিত। যাতে করে বয়োবৃদ্ধ হওয়ার পরও অমুক লোকের কাছে তমুক লোকের কাছে সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য হাত না পাততে হয়। আর নিজের হাতে উপার্জিত রিজিক সবচেয়ে বেশি বরকতপূর্ণ ও বেশি উপকারি এবং সবচেয়ে বেশি পবিত্র।
টিকাঃ
[১৩৩] কিতাবুল ওয়ার-ই: ৯৩।
📄 নবম উপদেশ
জাফর রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সাবিত আল বুনানি রহিমাহুল্লাহ আমাদের কাছে তাশরিফ আনলেন। তখন আমরা কিবলার দিকে পিঠ লাগিয়ে বসা ছিলাম। তিনি আমাদেরকে বলতে লাগলেন- হে যুবসম্প্রদায়! আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর রহম করুন। আমি ও আমার রবের ইবাদত এবং রবের প্রতি একনিষ্ঠ সিজদার মাঝে তোমরা আমার প্রতিবন্ধক হয়ে আছো। সাবিত বুনানি রহিমাহুল্লাহ্র কাছে সালাত আদায় করা খুব পছন্দের ছিল।”
এখানে সাবিত আল বুনানি রহিমাহুল্লাহ সেসব যুবকদের প্রতি ইশারা করেছেন—যারা বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠিদের সাথে মসজিদে সাক্ষাত করে এবং সেখানেই জমায়েত হয়। এবং তারা তাদের বন্ধুদের সাক্ষাতকে সুযোগ মনে করে মসজিদের মাঝেই সমুচ্চস্বরে গালগল্পে মেতে উঠে। এতে করে আসে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসে এবং স্বীয় সালাতে একনিষ্ঠতা, বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করে থাকে তাদের সালাত ও ইবাদতের মাঝে এসব যুবকরা প্রতিবন্ধক হয়ে থাকে। তাদের শোরগোলের কারণে সালাতের খুশু খুজু বা বিনয় ও নম্রতা চলে যায়।
বর্তমান যুগ হল সাইন্স, টেকনোলজি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। এ যুগের যুবকরা পকেটে মোবাইল ফোন নিয়েই মসজিদে প্রবেশ করে। আর তাদের মোবাইলের রিংটোনের আওয়াজে মুসল্লিদের সালাতের খুশু খুজু ও একাগ্রতা বরবাদ হয়ে যায়। কখনো কখনো মোবাইলে উঁচু আওয়াজে কথা বলে মসজিদের বেহুরমতি করা হয় ও সালাতে ব্যাঘাত ঘটায়। এভাবেই প্রশান্তি, শীতলতা ও আরামের জায়গা মসজিদের পরিবেশকে অশান্তি ও অসহ্যকর এক পরিবেশে রূপ দেয়।
টিকাঃ
[১৩৪] হিলয়াতুল আউলিয়া: ২/৩২২
📄 দশম উপদেশ...
মুহাম্মাদ ইবনু সুওকা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মায়মুন বিন মিহরান আমার সাথে সাক্ষাত করেন। আমি বললাম- হায়াকাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। অতঃপর এটা শুনে তিনি বললেন, এটি যুবকদের সালাম। তুমি বরং বল, 'আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ'।”
অথচ নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেন, “যে সালামের আগে কথা বলে তার কথার জবাব দিও না।” ইহা যুবকদের সালাম অর্থাৎ কতেক যুবক নিজের সাথি ও বন্ধুদের সাথে মোলাকাতের সময় এ ধরণের অভিবাদন পছন্দ করে থাকে। আর মনে করে এটিই উত্তম সম্ভাষণ। তাই তারা ইসলামের সালাম পদ্ধতিকে ছেড়ে দিয়ে সেই সব সম্ভাষণ পদ্ধতির দিকে ধাবিত হয় যেগুলো ইসলামে বর্ণিত সালাম পদ্ধতি বা সম্ভাষণ নয়। এবং এটিকে যথেষ্ঠ মনে করে সালামকে বর্জন করে। আর অনেক সময় তো সালাম দেয় কথা বলার পর।
টিকাঃ
[১৩৫] হিলয়াতুল আউলিয়া: ৪/৮৬।
[১৩৬] আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাহ: ২১৩, সিলসিলাতু আস সহিহাহ: ৮১৬।