📄 জান্নাতের মালিক হতে হলে...
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি তার কোনো রুগ্ন ভাইকে দেখতে যায় অথবা তার সাক্ষাতে গমন করে তখন একজন ঘোষক ডেকে-ডেকে ঘোষণা দেন যে, তুমি উত্তম কাজ করেছো, উত্তম তোমার চলনটাও। তুমি জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করলে।”
হে যুবক! এত অল্প সময় আছে কি তোমার? যে জান্নাতের মালিক অল্প সময়ে হওয়া যায়? প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিটে যদি এ কাজটি করতে পারো তাহলে জান্নাতে তোমার কতো বাড়ি হবে ভেবে দেখেছো?
টিকাঃ
[১১০] তিরমিযি শরিফ: ২০০৮।
📄 জান্নাতের আমল সবখানেই
জান্নাতে যাওয়া তোমার জন্য একদম সহজ। সবখানেই তোমার জন্য জান্নাতে যাওয়ার আমল রয়েছে, যেমন তুমি বাজারে প্রবেশের সময় আল্লাহকে ভুলে না গিয়ে যদি তাকে স্মরণ করো তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাকেও ভুলে যাবে না। তিনি খুশি হয়ে তোমাকে জান্নাত দান করবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশের সময় এই দোয়াটি পাঠ করবে-
“আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, যিনি এক ও অদ্বিতীয়। রাজত্ব ও প্রশংসা সব তার জন্যই। তিনি এমন সত্তা যে মানবজাতিকে জীবিত করেন আবার মৃত্যু দান করেন, তিনি সর্বদা জীবিত, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। তিনি সব কাজের উপর ক্ষমতাশীল।' আল্লাহ তাকে হাজার-হাজার সওয়াব দান করবেন ও অনেক পাপ এবং গুনাহকে ক্ষমা করে দিবেন। এবং তার জন্য জান্নাতে বাড়ি করে দিবেন।”
যদি তুমি এই আমলটি প্রতিদিন করতে পারো তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমার জন্য জান্নাতে অনেক বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। তুমি যদি প্রতিনিয়ত বাজারে প্রবেশের সময় প্রভুকে ভুলে না গিয়ে এ দোয়া পাঠ করতে পারো তবে আল্লাহ তায়ালা তোমার জন্য প্রতিবারই জান্নাতে বাড়ি নির্মাণ করবেন।
আমার আকুতি শোনো-
জগতের উপর করো না আফসোস ছুটো না এর পিছু,
একদিন তোমার চলে যেতে হবে ছাড়তে হবে সবকিছু।
যে জন ছুটেছে এই দুনিয়ার পিছনে করেছে সম্পদ জমা,
একদিন তো চলে যাবে সে নিজেকে করাতে পারবে না ক্ষমা।
মন যে কখনো ভরে না দুনিয়ায় করতে চায় আরো জমা,
তবে কিছু মানব আছে স্বল্পতেই খুশি, পেয়ে যাবে তারা ক্ষমা।
জান্নাতি কাজ করে যাও তুমি পাবে পরকালে পার,
জান্নাতেরই বন্ধু আহমাদ, রহমান বানানেওয়ালা।
জান্নাতেরই ঘ্রাণ হবে মেশকের মতো, মাটি হবে সোনার,
ঘাস হবে যে যাফরানের মধু ও দুধের হবে সমুদ্রের।
মজার খাবার থাকবে যে তাতে জারি, পাখি ডালে গাইবে গান,
আল্লাহ-আল্লাহ মধুর গানে জুড়াবে তোমার প্রাণ।
কে কিনেবে এই জান্নাত নির্মিত সু-উচ্চ মিনার,
ছায়াপথে থাকবে তোমরা গাইবে গান বীণার।
টিকাঃ
[১১১] সুনানু তিরমিযি : ৩৪২৯।
📄 শেষ কথা...
হে যুবক! তুমি যদি আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসে জান্নাতের আমল করে জান্নাতকে কিনে নাও তাহলে সৃষ্টিকুলে শ্রেষ্ঠ মানবের অমিয় বাণীটি স্মরণ করিও, যেখানে তিনি বলেছেন-
“যে ব্যক্তি কাউকে কোনো ভালো কাজের সন্ধান দেয়, তাহলে যে সন্ধান দিল সে ততটুকু সওয়াব পাবে যতটুকু আমলকারী পাবে।”
সুসংবাদ সেসব সৌভাগ্যবান মানবের জন্য যারা পথহারা ব্যক্তিকে জান্নাতের পথে ডাকে ও পথ দেখায়। আর যে আল্লাহকে ভয় করে এবং মানুষকে সঠিক পথে পথিকৃত করেন কেবল আল্লাহর ভালোবাসা ও তার সন্তুষ্টির কামনায়। চাই তা ইন্টারনেট, অনুবাদ ও লেখালেখির মাধ্যমে। তার জন্য প্রিয় নবিজির সে হাদিসই যথেষ্ট যেখানে তিনি বলেছেন-
“আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে প্রফুল্লচিত্ত ও সুখে-শান্তিতে রাখুন যে আমার হাদিস শুনলো এবং তা মুখস্থ করে অন্যের নিকট পৌঁছে দেন। কেননা যার কাছে কোনো হাদিস থাকে তার চেয়ে ঐ ব্যক্তি কখনো অনেক বুঝবান হয়ে থাকে যার কাছে হাদিস পৌঁছানো হয়ে থাকে। আর অনেক ফকিহওয়ালা আছেন যারা ফকিহ নন।"
দরদীর কথা ভুলে যেও না-
আমি তো মরে যাবো রেখে যাবো লিখেছি যা আমি,
হে আমার প্রিয় বন্ধু! আমার জন্য দোয়া করো তুমি।
আল্লাহ হয়ত ক্ষমা করে দিবেন মোরে,
রাখবেন না আমায় তিনি পাপ সাগরে ডুবে।
টিকাঃ
[১১২] সহিহ মুসলিম : ১৩৩।
📄 প্রথম উপদেশ
আবুল আহওয়াস হতে বর্ণিত, আবু ইসহাক (তিনি হলেন আমর সাবিয়ী) বলেছেন, “হে যুবসম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের যৌবনকালকে গণিমত মনে করে তার সঠিক ব্যবহার কর ও সঠিকভাবে কাজে লাগাও। খুব কম রাতই আমার এমন অতিবাহিত হয়েছে যে রাতে হতে আমি একহাজার আয়াত কুরআন তিলাওয়াত করিনি। আর অবশ্যই আমি এক রাকাতে সুরা বাকারা তিলাওয়াত করে থাকি। এবং আশহুরুল হুরুম তথা নিষিদ্ধ মাসসমূহ ও প্রতি মাসে তিনদিন এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবার সাওম পালন করে থাকি। অতঃপর তিলাওয়াত করেন- আর তুমি তোমার রবের নিআমত বর্ণনা কর।"
আবু ইসহাক রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'প্রতিরাতে আমি এক হাজার আয়াত কুরআন তিলাওয়াত করে থাকি' এ কথার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, একহাজার অথবা তার কাছাকাছি সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত প্রদানকরণ; নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধকরণ নয়। অর্থাৎ তিনি প্রতি সপ্তাহে একবার কুরআন খতম করতেন। আর প্রতি সপ্তাহে একবার কুরআন শরিফ খতম করা অধিকাংশ পূর্বসুরি সালাফদের তরিকা।
সালাফগণ অপর ভাইয়ের প্রতি নেক আমলের উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে নিজের আমলের কথা উল্লেখ করতেন। হাকিম আবু আবদিল্লাহ নিশাপুরি রহিমাহুল্লাহ তার মুস্তাদরাকে বর্ণনা করেছেন- আমর বিন মায়মুন কোন মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাত হলে বলতেন—গত রজনীতে আল্লাহপাক আমাকে এত রাকাত সালাত আদায় করার তাওফিক দিয়েছেন এবং অমুক অমুক উত্তম কাজ করার তাওফিক দিয়েছেন।
আবু আবদিল্লাহ হাকিম উল্লিখিত আছার দুটি তার কিতাব মুস্তাদরাকে আনার পর বলেন—আমর ইবনু উবায়দুল্লাহ আসসাবিয়ি ও আমর ইবনু মায়মুন আল আওদিকে আল্লাহপাক রহম করুন। অবশ্যই তারা এমন অসিয়ত বর্ণনা করেছেন, যা যুবকদেরকে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল হতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে।
আর আছার দুটিতে তরবিয়াতি আদর্শ ও নমুনা পেশ করা হয়েছে। যুবকরাও এই মাকাম ও মর্যাদা পেতে আগ্রহী। এর উল্লেখের কারণ—যাতে যুবকরা নেক আমলে উৎসাহিত হয়, আর এতে তাদের জন্য দ্বীনের উপর চলা সহজ হয়ে যায়। তবে শিক্ষক বা গুরুজনের উচিত হল তারা তাদের নিয়্যাতকে খালিস করা ও সুন্দর ইচ্ছার প্রতি জোর দেওয়া, যাতে সে রিয়া- লোক দেখানোতে পতিত না হয়, অহংকার না করে, অন্যথায় এই অহংকার বা লৌকিকতার কারণে তার আমলসমূহ বরবাদ হয়ে যাবে।
টিকাঃ
[১১৭] মুস্তাদরাকে লিল হাকিম: ৩৯৪৭।
[১১৮] মুস্তাদরাকে লিল হাকিম: ৪৮।