📄 স্বল্প সময়ে জান্নাত মিলবে...
সাহল মুআজ বিন আনাস রা., তিনি সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
“যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস দশবার পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের সুখময় উদ্যানে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন।” ওমর বিন খাত্তাব রা. জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদি আমরা এর চেয়েও অধিক পরিমাণে পাঠ করি, তাহলে?” উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা অধিক ও উত্তম দান করবেন।”
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
“যে ব্যক্তি কুরআনুল কারিমের একটি হরফ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে একটি নেকি দান করবেন। আর ঐ নেকির বিনিময়ে আরো দশ নেকি সমপরিমাণ দান করা হয়। কুরআনুল কারিমের 'আলিফ লাম মিম'-কে আমি এক হরফ বলি না। বরং 'আলিফ' একটি হরফ, 'লাম' একটি হরফ এবং 'মিম' একটি হরফ।”
আব্দুল্লাহ ইবনু হাবিব রা. বলেন, “একদা আমরা অন্ধকার বৃষ্টির রাতে বের হয়ে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তালাশ করছিলাম, অতঃপর আমরা তার দেখা পেলাম। তিনি বলেন, তুমি বলো, আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি কি বলব? তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি মুআওয়্যিযাতাইন (সুরা নাস ও ফালাক) পাঠ করো। সকালে- বিকেলে তিনবার পাঠ করবে, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।”
উকবা বিন আমের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে উকবা! আমি কি তোমাকে এমন সুরা শিক্ষা দিবো না, যে সুরাটির মতো তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও ফুরকানে এমন কোনো সুরা নাযিল হয়নি। হে উকবা! তোমার থেকে যেন এমন রাতও না যায়, যে রাতে তুমি এ সুরাটি তিলাওয়াত করোনি। তা হলো সুরা ইখলাস।” উকবা রা. আরো বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে উকবা! নাস, ফালাক, ইখলাস, এই তিনটি সুরার মত অন্য কোন সুরার মাধ্যমে কেউ আশ্রয় কামনা করে না।”
আবু হুরায়রা রা. বলেন- “নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকাতে সুরা কাফিরুন ও ইখলাস তিলাওয়াত করতেন।” জাবের বিন সামুরা রা. বলেন- “নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর রাতে মাগরিবের নামাজে সুরা কাফিরুন ও সুরা ইখলাস পাঠ করতেন।”
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন- “নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রতিরাতে বিছানাতে আসতেন তখন তিনি তার উভয় হাত মুবারককে একত্র করতেন অতঃপর সুরা নাস, ফালাক, ইখলাস পাঠ করতেন এবং তাতে ফুঁ দিয়ে শরিরের যেখানে যতটুকু সম্ভব সেখানে হাত মোবারক স্পর্শ করাতেন। এভাবে তিনবার করতেন।”
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আরো বলেন, “নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অসুস্থ হতেন, তখন মুআইয়্যিযাতানের (নাস, ফালাক) মাধ্যমে ফুঁ দিতেন, আর হাতের মাধ্যমে শরির মোবারক মুছতেন। যে অসুখে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরম বন্ধুর সান্নিধ্যে পাড়ি জমান তখন আমি মুআইয়্যিযাতানের (নাস, ফালাক) মাধ্যমে ফুঁ দিয়ে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত মোবারক দিয়ে সর্বত্র মাসেহ করিয়েছি। আয়েশা রা. বলেন, যখন আহলে বাইত কেউ অসুস্থ হতেন তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা নাস ও ফালাকের মাধ্যমে ঝাড়-ফুঁক দিতেন।”
উকবা বিন আমের রা. বলেন- “প্রিয় নবি আমাকে প্রতি নামাজের শেষে মুআইয়্যিযাতাইন (নাস, ফালাক) পড়ার আদেশ করেছেন।”
প্রিয় বন্ধু! তুমি যদি জান্নাতের সুখময় উদ্যানে বাড়ি নির্মাণ করতে চাও, তাহলে সুরা ইখলাসের আমল বেশি-বেশি করতে হবে। দেখেছো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা ইখলাসের উপর কি কঠোর আমল করেছেন? তুমি যদি আখেরাতের বাড়ি নির্মাণ করতে না পারো তাহলে আখেরাতে কার ঘরে তুমি বাস করবে? কেউ তোমাকে তার গৃহে জায়গা দিবে না। দেখো না! দুনিয়ার কেউ কারো বাড়িতে জায়গা দেয় না। তাইতো রাস্তা-ঘাট, পথে, বাজারে কত গৃহহীন মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে আছে। তাই এসব আমল করে জান্নাতে তোমার বাড়ি বানিয়ে নিও। নতুবা পরকালে তুমি কেবল নিঃস্ব হয়ে থাকবে।
টিকাঃ
[৯৯] মুসনাদু আহমাদ, তৃতীয় খন্ড, হাদিস নং: ৪৩৭।
[১০০] সুনানু তিরমিযী: ২৯১০। সনদ সহিহ।
[১০১] সহিহ আল জামে: ১৫৩৪।
[১০২] সিলসিলা সাহিহা: ৮৯১।
[১০৩] সহিহ মুসলিম: ৯৮।
[১০৪] মিশকাতুল মাসাবিহ: ৮৪৯।
[১০৫] সুনানু আবু দাউদ: ৫০৫৬।
[১০৬] সহিহ বুখারি: ৫০১৭।
[১০৭] সুনানু তিরমিযি: ২৯০৩।
📄 জান্নাতিদের আমল
মিষ্টি কথা, লোকদের খাবার খাওয়ানো
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “জান্নাতে এমন স্বচ্ছ ঘর থাকবে, যেটার আলো তার থেকে নিচের ব্যক্তিরাও দেখতে পাবে, এমনিভাবে ভিতরের অংশও উপরের থেকে দেখা যাবে। একথা শুনে এক গ্রাম্য ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সেই জান্নাত কার জন্য? উত্তরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে মিষ্টি কথা বলে, লোকদের খানা খাওয়ায়, সবসময় রোজা রাখে, রাতের আঁধারে সালাত পড়ে অথচ মানুষ তখনও ঘুমের আবেশে মুগ্ধ।”
উপরোক্ত হাদিসে “ত্ব-বাল কালাম” বা মিষ্টি কথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করা। খাবার খাওয়ানো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী, ইয়াতিমসহ অনান্য ব্যক্তিদের খাবার খাওয়ানো। রাতের সালাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রাতে কমপক্ষে দুই রাকাত সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে যাওয়া। কৃপণতা না করা।
কবি তো আবৃত্তি করেছে দরদমাখা কণ্ঠে-
কে কিনিবে জান্নাত সুখের বাড়ি ভাই!
নির্মিত আছে সে জান্নাত ফেরদাউসে তাই।
দামতো নয় একদম ফ্রি ও বন্ধুগণ!
রাতের সিজদায় প্রিয়তমের কদমে ভেঙ্গে পড়ো।
কবি আরো বলেছেন-
জান্নাত ডাকছে তোমায় সুখেরই আকাশে,
থাকবে তুমি জনম-জনম সুখেরই আবেশে।
জীবন তোমার রঙ্গিন হবে সেখানে যাওয়াতে,
থাকবে তুমি সেখানেতে আরামের হাওয়াতে।
প্রিয় যুবক ভাই! যে জান্নাতুল ফেরদাউস ক্রয় করতে চায় সে যেন রাতের আঁধারে মালিকের কদমে সিজদা করে জান্নাতকে ক্রয় করে নেয়। একটু ভেবে দেখোতো, যদি এরকম আমল তুমি প্রতিদিন করো তাহলে তোমার কতগুলো জান্নাত অর্জিত হবে। বিশেষ করে রামাদান মাসে অনেক জান্নাত হবে।
টিকাঃ
[১০৮] সহিহুল জা'মে: ২১২৩।
📄 জান্নাতের সবুজ পাখি হতে হলে
হে যুবক তুমি জান্নাতি হতে চাও, পেতে চাও আখেরাতের নেয়ামত, জান্নাতের সফলতার জীবন, হতে চাও বেহেশতের সবুজ পাখি, তাহলে জান্নাতিদের আমল করো। জান্নাতি হতে হলে তোমার প্রিয়নবির কথার উপর আমল করতে হবে।
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তির অন্যের সাথে ঝগড়া করার অধিকার থাকা সত্বেও ঝগড়াকে ছেড়ে দেয়, আমি ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের টিলায় একটি বাড়ি নির্মাণ করার জিম্মাদার হব। আর যে ব্যক্তি মিথ্যাকে ছেড়ে দেয়, তার জন্যও জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করার দায়িত্ব নিব। এমনিভাবে সে ব্যক্তির জন্য জান্নাতের বাড়ির জিম্মাদার হবো-যে হাসির পাত্র হওয়া সত্বেও মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করে।”
উপরোক্ত হাদিসে বুঝা যায়-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তির জান্নাতের যিম্মাদার হবেন, যে ব্যক্তি অন্যের সাথে ঝগড়ার অধিকার থাকা সত্বেও ঝগড়াতে লিপ্ত হয় না। ঐ ব্যক্তির জান্নাতের যিম্মাদার হবেন যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে মিথ্যাকে পরিত্যাগ করে। আর যার সাথে হাসি-ঠাট্টা, মশকরা ইত্যাদি করা সত্ত্বেও যে মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করেন তার জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং নিজেই যিম্মাদার হবেন। প্রিয় ভাই! তুমি যদি এ গুণে গুনান্বিত হতে পারো, তাহলে প্রতিটি ক্ষণে-ক্ষণে তোমার জন্য জান্নাতে বাড়ি হবে।
টিকাঃ
[১০৯] সুনানু আবু দাউদ: ৪৮০০।
📄 জান্নাতের মালিক হতে হলে...
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি তার কোনো রুগ্ন ভাইকে দেখতে যায় অথবা তার সাক্ষাতে গমন করে তখন একজন ঘোষক ডেকে-ডেকে ঘোষণা দেন যে, তুমি উত্তম কাজ করেছো, উত্তম তোমার চলনটাও। তুমি জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করলে।”
হে যুবক! এত অল্প সময় আছে কি তোমার? যে জান্নাতের মালিক অল্প সময়ে হওয়া যায়? প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিটে যদি এ কাজটি করতে পারো তাহলে জান্নাতে তোমার কতো বাড়ি হবে ভেবে দেখেছো?
টিকাঃ
[১১০] তিরমিযি শরিফ: ২০০৮।