📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত ওয়াজিব হবে

📄 জান্নাত ওয়াজিব হবে


আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করতে শুনে বলেন-
“এই ব্যক্তির উপর ওয়াজিব হয়েছে। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কি ওয়াজিব হয়েছে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে।”

আনাস রা. বলেন-
“এক ব্যক্তি নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি সুরা ইখলাসকে তিলাওয়াত করতে ভালোবাসি। তখন নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই এই সুরা তিলাওয়াত করতে ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে."

টিকাঃ
[৯৬] মুয়াত্তায়ে মালেক, সহিহ আত তারগিব : ১৪৭৮।
[৯৭] সুনানু তিরমিযি: ২৯০১।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 আল্লাহকে ভালোবাসার নিদর্শন

📄 আল্লাহকে ভালোবাসার নিদর্শন


যে সুরা ইখলাসকে তিলাওয়াত করতে ভালোবাসে সে আল্লাহকে ভালোবাসে, কেননা সুরা ইখলাসে আল্লাহর গুণাগুণ সম্বলিত রয়েছে। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই বলেছেন।

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন-
“নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কোনো এক যুদ্ধের আমির নিযুক্ত করে পাঠালেন। ঐ ব্যক্তি যুদ্ধের সফরকালে তার সাথীদের ইমামতি করতেন এবং সুরা ইখলাসের মাধ্যমে সালাত পূর্ণ করতেন। অতঃপর তারা (সাহাবায়ে কেরাম) যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টা জানালেন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করো সে এ কাজ কেন করেছে? সাহাবায়ে কেরাম তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, সুরা ইখলাস পাঠ করার কারণ হলো এই সুরাতে আল্লাহর গুণবাচক নাম রয়েছে। তাই এ সুরাকে আমি ভালোবাসি। তখন নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা তাকে সুসংবাদ প্রদান করো-আল্লাহ তায়ালাও তাকে খুব ভালোবাসে।”

টিকাঃ
[৯৮] সহিহ বুখারি: ৭৩৭৫; সহিহ মুসলিম: ২৬৩।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 স্বল্প সময়ে জান্নাত মিলবে...

📄 স্বল্প সময়ে জান্নাত মিলবে...


সাহল মুআজ বিন আনাস রা., তিনি সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
“যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস দশবার পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের সুখময় উদ্যানে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন।” ওমর বিন খাত্তাব রা. জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদি আমরা এর চেয়েও অধিক পরিমাণে পাঠ করি, তাহলে?” উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা অধিক ও উত্তম দান করবেন।”

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
“যে ব্যক্তি কুরআনুল কারিমের একটি হরফ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে একটি নেকি দান করবেন। আর ঐ নেকির বিনিময়ে আরো দশ নেকি সমপরিমাণ দান করা হয়। কুরআনুল কারিমের 'আলিফ লাম মিম'-কে আমি এক হরফ বলি না। বরং 'আলিফ' একটি হরফ, 'লাম' একটি হরফ এবং 'মিম' একটি হরফ।”

আব্দুল্লাহ ইবনু হাবিব রা. বলেন, “একদা আমরা অন্ধকার বৃষ্টির রাতে বের হয়ে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তালাশ করছিলাম, অতঃপর আমরা তার দেখা পেলাম। তিনি বলেন, তুমি বলো, আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি কি বলব? তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি মুআওয়্যিযাতাইন (সুরা নাস ও ফালাক) পাঠ করো। সকালে- বিকেলে তিনবার পাঠ করবে, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।”

উকবা বিন আমের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে উকবা! আমি কি তোমাকে এমন সুরা শিক্ষা দিবো না, যে সুরাটির মতো তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও ফুরকানে এমন কোনো সুরা নাযিল হয়নি। হে উকবা! তোমার থেকে যেন এমন রাতও না যায়, যে রাতে তুমি এ সুরাটি তিলাওয়াত করোনি। তা হলো সুরা ইখলাস।” উকবা রা. আরো বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে উকবা! নাস, ফালাক, ইখলাস, এই তিনটি সুরার মত অন্য কোন সুরার মাধ্যমে কেউ আশ্রয় কামনা করে না।”

আবু হুরায়রা রা. বলেন- “নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকাতে সুরা কাফিরুন ও ইখলাস তিলাওয়াত করতেন।” জাবের বিন সামুরা রা. বলেন- “নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর রাতে মাগরিবের নামাজে সুরা কাফিরুন ও সুরা ইখলাস পাঠ করতেন।”

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন- “নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রতিরাতে বিছানাতে আসতেন তখন তিনি তার উভয় হাত মুবারককে একত্র করতেন অতঃপর সুরা নাস, ফালাক, ইখলাস পাঠ করতেন এবং তাতে ফুঁ দিয়ে শরিরের যেখানে যতটুকু সম্ভব সেখানে হাত মোবারক স্পর্শ করাতেন। এভাবে তিনবার করতেন।”

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আরো বলেন, “নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অসুস্থ হতেন, তখন মুআইয়্যিযাতানের (নাস, ফালাক) মাধ্যমে ফুঁ দিতেন, আর হাতের মাধ্যমে শরির মোবারক মুছতেন। যে অসুখে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরম বন্ধুর সান্নিধ্যে পাড়ি জমান তখন আমি মুআইয়্যিযাতানের (নাস, ফালাক) মাধ্যমে ফুঁ দিয়ে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত মোবারক দিয়ে সর্বত্র মাসেহ করিয়েছি। আয়েশা রা. বলেন, যখন আহলে বাইত কেউ অসুস্থ হতেন তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা নাস ও ফালাকের মাধ্যমে ঝাড়-ফুঁক দিতেন।”

উকবা বিন আমের রা. বলেন- “প্রিয় নবি আমাকে প্রতি নামাজের শেষে মুআইয়্যিযাতাইন (নাস, ফালাক) পড়ার আদেশ করেছেন।”

প্রিয় বন্ধু! তুমি যদি জান্নাতের সুখময় উদ্যানে বাড়ি নির্মাণ করতে চাও, তাহলে সুরা ইখলাসের আমল বেশি-বেশি করতে হবে। দেখেছো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা ইখলাসের উপর কি কঠোর আমল করেছেন? তুমি যদি আখেরাতের বাড়ি নির্মাণ করতে না পারো তাহলে আখেরাতে কার ঘরে তুমি বাস করবে? কেউ তোমাকে তার গৃহে জায়গা দিবে না। দেখো না! দুনিয়ার কেউ কারো বাড়িতে জায়গা দেয় না। তাইতো রাস্তা-ঘাট, পথে, বাজারে কত গৃহহীন মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে আছে। তাই এসব আমল করে জান্নাতে তোমার বাড়ি বানিয়ে নিও। নতুবা পরকালে তুমি কেবল নিঃস্ব হয়ে থাকবে।

টিকাঃ
[৯৯] মুসনাদু আহমাদ, তৃতীয় খন্ড, হাদিস নং: ৪৩৭।
[১০০] সুনানু তিরমিযী: ২৯১০। সনদ সহিহ।
[১০১] সহিহ আল জামে: ১৫৩৪।
[১০২] সিলসিলা সাহিহা: ৮৯১।
[১০৩] সহিহ মুসলিম: ৯৮।
[১০৪] মিশকাতুল মাসাবিহ: ৮৪৯।
[১০৫] সুনানু আবু দাউদ: ৫০৫৬।
[১০৬] সহিহ বুখারি: ৫০১৭।
[১০৭] সুনানু তিরমিযি: ২৯০৩।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাতিদের আমল

📄 জান্নাতিদের আমল


মিষ্টি কথা, লোকদের খাবার খাওয়ানো
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “জান্নাতে এমন স্বচ্ছ ঘর থাকবে, যেটার আলো তার থেকে নিচের ব্যক্তিরাও দেখতে পাবে, এমনিভাবে ভিতরের অংশও উপরের থেকে দেখা যাবে। একথা শুনে এক গ্রাম্য ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সেই জান্নাত কার জন্য? উত্তরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে মিষ্টি কথা বলে, লোকদের খানা খাওয়ায়, সবসময় রোজা রাখে, রাতের আঁধারে সালাত পড়ে অথচ মানুষ তখনও ঘুমের আবেশে মুগ্ধ।”

উপরোক্ত হাদিসে “ত্ব-বাল কালাম” বা মিষ্টি কথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করা। খাবার খাওয়ানো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী, ইয়াতিমসহ অনান্য ব্যক্তিদের খাবার খাওয়ানো। রাতের সালাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রাতে কমপক্ষে দুই রাকাত সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে যাওয়া। কৃপণতা না করা।

কবি তো আবৃত্তি করেছে দরদমাখা কণ্ঠে-
কে কিনিবে জান্নাত সুখের বাড়ি ভাই!
নির্মিত আছে সে জান্নাত ফেরদাউসে তাই।
দামতো নয় একদম ফ্রি ও বন্ধুগণ!
রাতের সিজদায় প্রিয়তমের কদমে ভেঙ্গে পড়ো।

কবি আরো বলেছেন-
জান্নাত ডাকছে তোমায় সুখেরই আকাশে,
থাকবে তুমি জনম-জনম সুখেরই আবেশে।
জীবন তোমার রঙ্গিন হবে সেখানে যাওয়াতে,
থাকবে তুমি সেখানেতে আরামের হাওয়াতে।

প্রিয় যুবক ভাই! যে জান্নাতুল ফেরদাউস ক্রয় করতে চায় সে যেন রাতের আঁধারে মালিকের কদমে সিজদা করে জান্নাতকে ক্রয় করে নেয়। একটু ভেবে দেখোতো, যদি এরকম আমল তুমি প্রতিদিন করো তাহলে তোমার কতগুলো জান্নাত অর্জিত হবে। বিশেষ করে রামাদান মাসে অনেক জান্নাত হবে।

টিকাঃ
[১০৮] সহিহুল জা'মে: ২১২৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00