📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাতের মিছিলে মিছিল দিও

📄 জান্নাতের মিছিলে মিছিল দিও


দিন রাতে বারো রাকাআত সালাত
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি প্রতিদিন দিনে রাতে বারো রাকাআত সালাত আদায়ে অটল থাকবেন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যোহরের পূর্বে চার রাকাআত ও পরে দুই রাকাআত, মাগরিবের পরে দুই রাকাআত, ইশারের পরে দুই রাকাআত এবং ফজর নামাজের পূর্বে দুই রাকাআত।”

নোমান ইবনু সালিম রহ. তিনি আমির বিন আওস রহ. থেকে বর্ণনা করেন, আনবাসা ইবনু সুফিয়ান রহ. যে সময় ইন্তেকাল করেন তখন আমার কাছে বর্ণনা করে বলেন, আমি উম্মে হাবিবা রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন দিন-রাতে বারো রাকাআত সালাত আদায় করে সে কারণে আল্লাহর রহমতস্বরূপ তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করা হবে। উম্মে হাবিবা বলেন, আমি রাসুল থেকে এ হাদিস শোনার পরে আর কোনোদিন বারো রাকাআত ছেড়ে দেইনি. আমর বিন আনবাসা বলেন, আমিও তাই করেছি. আমর বিন আওস রহ. বলেন, আমি এ হাদিস শোনার পরে তার উপর আমল করেছি. নোমান ইবনু সালিম রহ. বলেন, আমি এ হাদিস শোনার পরে তার উপর আমল করেছি কখনো এ বারো রাকাআত ছেড়ে দিইনি.

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি সুন্নতের বারো রাকাআত আদায় করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের সুখময় উদ্যানে একটি ঘর নির্মাণ করে দিবেন। জোহরের পুর্বে চার রাকাআত ও পরে দুই রাকাআত, মাগরিবের পরে দুই রাকাআত, ইশারের পরে দুই রাকাআত এবং ফজর নামাজের পূর্বে দুই রাকাআত।”

ইবনু আসিমিন রহিমাহুল্লাহ্ বলেন, মনে রেখ, আল্লাহ তায়ালা মানুষের ফরজের পূর্ণতা দান করার জন্য অতিরিক্ত হিসেবে নফলকে শরিয়তসম্মত করেছেন। যদি তাই না হতো তাহলে সুন্নত ও নফলকে নব আবিস্কৃত বলে বিবেচিত হতো। নফলের অনেক প্রকার রয়েছে, তার মধ্যে বারো রাকাআত হলো নিয়মিত। যে ব্যক্তি বারো রাকাআত পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে সুবিশাল বিলাসবহুল নির্মাণ করে দিবেন—যেমন উম্মে হাবিবা রা. বলেছেন। সুতরাং প্রত্যেক মুক্তাদি ও ইমামের জন্য সুন্নতে রাওয়াতিবকে নিজগৃহে পড়া উত্তম। কেননা নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো ব্যক্তির সালাত তার বাড়িতে উত্তম। তবে মসজিদে ফরজ সালাত পড়া উত্তম.

টিকাঃ
[৮৭] সহিহ আল জা'মে: ৬১৮৩।
[৮৮] মুসলিম শরিফ: ১০১।
[৮৯] সুনান তিরমিযি শরিফ: ৪১৪।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 আসো জান্নাতে ঘর বানাই

📄 আসো জান্নাতে ঘর বানাই


চাশতের চার রাকাত সালাত:
প্রিয় বন্ধু, আর কত দুনিয়ায় বাড়ি নির্মাণ করবে? তোমার এ বাড়ি তো ক্ষণস্থায়ী। চিরস্থায়ী নয়। কিছুদিন পরেই এই বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমাতে হবে ওপারে। তবে ওপারে থাকার জন্য বাড়ি নির্মাণ করেছো কি? আসো জান্নাতে বাড়ি বানাই। তাহলে শোনো-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
“যে ব্যক্তি চাশতের চার রাকাআত ও জোহরের পুর্বে চার রাকাআত সালাত আদায় করবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন।”

আলবানি রহ. বলেন, এখানে শুরুর সালাত বলতে যোহরের সালাত। আল্লাহ ভালো জানেন.

যদি এরকম প্রতিদিন করতে পারো তাহলে প্রতিদিন জান্নাতে তোমার অনেক বাড়ি হবে। তুমি হবে জান্নাতে বাড়ির মালিক। আছো কোনো দরদী বন্ধু? যে একটু সময়ে জান্নাতে বাড়ি নির্মাণ করবে, যে বাড়ি নির্মাণ করতে মাত্র তিন থেকে চার মিনিট সময় লাগবে? যদি তুমি প্রতিদিন এমন আমল করো, তাহলে জান্নাতে বাড়ি হতেই থাকবে। যেমন এক রমজানে তোমার জান্নাতে ত্রিশটি বাড়ি নির্মিত হবে। (সুবহানাল্লাহ)

টিকাঃ
[১০] শরহে রিয়াজুস সালেহিন: ৩/১২১।
[৯১] সিলসিলা সহিহা : ২৩৪৯।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত পেতে হলে...

📄 জান্নাত পেতে হলে...


জান্নাত পেতে হলে সুরা ইখলাস পাঠ:
জান্নাতকে পেতে হলে সুরা ইখলাস পাঠ করা চাই। সুরা ইখলাস পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দান করবেন। এমনই সুসংবাদ দিয়েছেন আখেরি নবি মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস দশবার পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন।” (সুবহানাল্লাহ)

দুনিয়ার মানুষের জন্য এত অল্প সময়ে জান্নাত লাভের আশায় কি পরিমান মেহনত করা দরকার। বাহ! আল্লাহ তায়ালা কত দয়া করেছেন মানবের উপর। আল্লাহ তায়ালা খুব স্বল্প সময়ে কত বড় জান্নাত দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে জান্নাতের আমল করে জান্নাতি হওয়ার তাওফিক দান করুন.

প্রিয় যুবক ভাই! তুমি যদি এ কাজ প্রতিদিন করতে পারো তাহলে জান্নাতে তোমার জন্য অসংখ্য বাড়ি নির্মিত হবে। তাই আর দেরি নয় এবার জান্নাতের সুখময় উদ্যানে শান্তির জন্য জান্নাতি আমল শুরু করে দাও।

টিকাঃ
[৯২] সিলসিলা সহিহা: ৫৮৯।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 সূরা ইখলাসের ফযিলত

📄 সূরা ইখলাসের ফযিলত


আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “তোমাদের কেউ কি রাতের মধ্যে পুরো কুরআনের তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে সক্ষম হয়? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে রাসুল! এক রাতে কি কুরআনের তৃতীয়াংশ পাঠ করা যায়? (কিভাবে তা সম্ভব?) তখন নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সুরা ইখলাসই কুরআনের এক তৃতীয়াংশ সমপরিমাণ হয়ে থাকে।”

আনাস রা. থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে বান্দা সুরা কাফিরুন তিলাওয়াত করবেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে পুরো কুরআনুল কারিমের এক চতুর্থাংশ পড়ার সওয়াব দান করবেন। আর যে বান্দা সুরা ইখলাস পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে পুরো কুরআনুল করিম পড়ার এক তৃতীয়াংশ সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন।”

টিকাঃ
[৯৩] সহিহ মুসলিম: ২১২৭।
[৯৪] সুনানে তিরমিযি: ২৮৯৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00