📄 জান্নাতের পথে চলুন
সকাল-সন্ধ্যা মসজিদের দিকে গমন:
হে যুবক ভাই! তুমি যদি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদের দিকে আসা-যাওয়া করতে পারো তাহলে তুমি তোমার জান্নাতের দিকে আসা-যাওয়া করলে। কেননা জান্নাতের সুখের নীড়ে বাড়ি নির্মাণ করার অন্যতম মাধ্যম হলো আল্লাহর প্রিয় ঘর মসজিদে আসা-যাওয়া। এমনই ঘোষণা করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
“যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদের দিকে গমন করবে, আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে তার জন্য মেহমানের ব্যবস্থা করে রাখবেন। যতবার মসজিদে গমন করবেন, ততবারই মেহমানদারির ব্যবস্থা করে দিবেন। (সুবহানাল্লাহ!)।”
ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসে মসজিদের দিকে গমনের দ্বারা সবই উদ্দেশ্য। যেমন সালাত, ইলম শিক্ষা ও অন্য কোনো দ্বীনি কাজও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম ও অন্য কোনো দ্বীনের কাজ করার জন্য মসজিদের দিকে গমন করলো আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে পান্থশালা নির্মাণ করে রাখবেন। প্রিয় ভাই! তুমি যদি প্রতিদিন মসজিদে শুধুমাত্র পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের জন্য গমন করো, আল্লাহ তোমার জন্য প্রতিদিন পাঁচটি পান্থশালা তৈরী করে রাখবেন.
আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়ার জন্য মসজিদের দিকে গমন করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি হজ্বের সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি নফলের জন্য মসজিদে গমন করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি ওমরার সওয়াব দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
টিকাঃ
[৮৩] সহিহ বুখারি: ৬৬২।
[৮৪] শরহে রিয়াজুস সালেহিন : ৩/২০২।
[৮৫] সহিহুল জামে : ৬৫৫৬।
📄 জান্নাতের জন্য কিছু সময়
নামাজের জন্য কিছু সময়: এ দ্বীনকে সমুন্নত করতে জীবন দিয়েছেন অসংখ্য সাহাবায়ে কেরাম। বুকের তপ্ত রক্তের সয়লাবে যে পথ তারা ধুয়ে-মুছে দিয়েছেন, সে পথে আমরা আজো হাঁটছি। প্রতিদিনই তারা জীবন দিয়েছেন দ্বীন ও আল্লাহর ভালোবাসায়। জান্নাতের আশায়। হে যুবক! যদি আল্লাহ তায়ালার কদমে সিজদা করার জন্য কিছু সময় ব্যয় করো, তাহলে আল্লাহ তায়ালাও তোমাকে পরম বন্ধু বানিয়ে জান্নাতে বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে বান্দা আল্লাহর কদমে সিজদা করতে কাতারে নিজেকে আটকিয়ে রাখবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন.
প্রিয় বন্ধু, তুমি যদি প্রতিদিন পাঁচবার নামাজের জন্য কাতারে নিজেকে আটকিয়ে রাখো, তাহলে আল্লাহ তায়ালাও তোমার জন্য প্রতিদিন জান্নাতে পাঁচটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। যে বাড়িগুলো কেবল সুখের, তাতে কোনো দুঃখ-দুর্দশা নেই। তাহলে হিসাব করে দেখো—যদি তুমি সবসময় মসজিদে সালাত পড়ো তাহলে কতগুলো জান্নাত হবে। আল্লাহ তায়ালা কি সহজে তোমাকে জান্নাত দিচ্ছেন। তিনি কত দয়ালু। আছো কি কোনো যুবক? জান্নাতকে পেতে কিছু সময় দিবে? মাত্র তিন-চার মিনিটে তুমি পারবে জান্নাতের সুখময় উদ্যানে বাড়ি নির্মাণ করতে।
টিকাঃ
[৮৬] সিলাসিলা সহিহা: ১৮৯২।
📄 জান্নাতের মিছিলে মিছিল দিও
দিন রাতে বারো রাকাআত সালাত
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি প্রতিদিন দিনে রাতে বারো রাকাআত সালাত আদায়ে অটল থাকবেন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যোহরের পূর্বে চার রাকাআত ও পরে দুই রাকাআত, মাগরিবের পরে দুই রাকাআত, ইশারের পরে দুই রাকাআত এবং ফজর নামাজের পূর্বে দুই রাকাআত।”
নোমান ইবনু সালিম রহ. তিনি আমির বিন আওস রহ. থেকে বর্ণনা করেন, আনবাসা ইবনু সুফিয়ান রহ. যে সময় ইন্তেকাল করেন তখন আমার কাছে বর্ণনা করে বলেন, আমি উম্মে হাবিবা রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন দিন-রাতে বারো রাকাআত সালাত আদায় করে সে কারণে আল্লাহর রহমতস্বরূপ তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করা হবে। উম্মে হাবিবা বলেন, আমি রাসুল থেকে এ হাদিস শোনার পরে আর কোনোদিন বারো রাকাআত ছেড়ে দেইনি. আমর বিন আনবাসা বলেন, আমিও তাই করেছি. আমর বিন আওস রহ. বলেন, আমি এ হাদিস শোনার পরে তার উপর আমল করেছি. নোমান ইবনু সালিম রহ. বলেন, আমি এ হাদিস শোনার পরে তার উপর আমল করেছি কখনো এ বারো রাকাআত ছেড়ে দিইনি.
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি সুন্নতের বারো রাকাআত আদায় করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের সুখময় উদ্যানে একটি ঘর নির্মাণ করে দিবেন। জোহরের পুর্বে চার রাকাআত ও পরে দুই রাকাআত, মাগরিবের পরে দুই রাকাআত, ইশারের পরে দুই রাকাআত এবং ফজর নামাজের পূর্বে দুই রাকাআত।”
ইবনু আসিমিন রহিমাহুল্লাহ্ বলেন, মনে রেখ, আল্লাহ তায়ালা মানুষের ফরজের পূর্ণতা দান করার জন্য অতিরিক্ত হিসেবে নফলকে শরিয়তসম্মত করেছেন। যদি তাই না হতো তাহলে সুন্নত ও নফলকে নব আবিস্কৃত বলে বিবেচিত হতো। নফলের অনেক প্রকার রয়েছে, তার মধ্যে বারো রাকাআত হলো নিয়মিত। যে ব্যক্তি বারো রাকাআত পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে সুবিশাল বিলাসবহুল নির্মাণ করে দিবেন—যেমন উম্মে হাবিবা রা. বলেছেন। সুতরাং প্রত্যেক মুক্তাদি ও ইমামের জন্য সুন্নতে রাওয়াতিবকে নিজগৃহে পড়া উত্তম। কেননা নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো ব্যক্তির সালাত তার বাড়িতে উত্তম। তবে মসজিদে ফরজ সালাত পড়া উত্তম.
টিকাঃ
[৮৭] সহিহ আল জা'মে: ৬১৮৩।
[৮৮] মুসলিম শরিফ: ১০১।
[৮৯] সুনান তিরমিযি শরিফ: ৪১৪।
📄 আসো জান্নাতে ঘর বানাই
চাশতের চার রাকাত সালাত:
প্রিয় বন্ধু, আর কত দুনিয়ায় বাড়ি নির্মাণ করবে? তোমার এ বাড়ি তো ক্ষণস্থায়ী। চিরস্থায়ী নয়। কিছুদিন পরেই এই বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমাতে হবে ওপারে। তবে ওপারে থাকার জন্য বাড়ি নির্মাণ করেছো কি? আসো জান্নাতে বাড়ি বানাই। তাহলে শোনো-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
“যে ব্যক্তি চাশতের চার রাকাআত ও জোহরের পুর্বে চার রাকাআত সালাত আদায় করবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন।”
আলবানি রহ. বলেন, এখানে শুরুর সালাত বলতে যোহরের সালাত। আল্লাহ ভালো জানেন.
যদি এরকম প্রতিদিন করতে পারো তাহলে প্রতিদিন জান্নাতে তোমার অনেক বাড়ি হবে। তুমি হবে জান্নাতে বাড়ির মালিক। আছো কোনো দরদী বন্ধু? যে একটু সময়ে জান্নাতে বাড়ি নির্মাণ করবে, যে বাড়ি নির্মাণ করতে মাত্র তিন থেকে চার মিনিট সময় লাগবে? যদি তুমি প্রতিদিন এমন আমল করো, তাহলে জান্নাতে বাড়ি হতেই থাকবে। যেমন এক রমজানে তোমার জান্নাতে ত্রিশটি বাড়ি নির্মিত হবে। (সুবহানাল্লাহ)
টিকাঃ
[১০] শরহে রিয়াজুস সালেহিন: ৩/১২১।
[৯১] সিলসিলা সহিহা : ২৩৪৯।