📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত পাওয়ার আশা করতে হবে...

📄 জান্নাত পাওয়ার আশা করতে হবে...


জান্নাত পাওয়ার আশা করতে হবে হৃদপিন্ডে শাহাদাতের কামনা থাকতে হবে:
প্রিয় যুবক! যদি জান্নাতের আশা করতে চাও, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাতের অমৃত সুধা পানের কামনা হৃদয়ে লালন করতে হবে। তাহলেই প্রেমময় প্রভু তোমাকে জান্নাতের সুখের নীড়ে বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। এমনই শুনেছি মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় কথামালা থেকে।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যদি কোন বান্দা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের কামনা বুকে লালন করে আল্লাহর দরবারে দোয়া-মুনাজাত করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে শহিদি মিছিলে অন্তর্ভুক্ত করে জান্নাত দান করবেন। যদিও সে বান্দা খুনরাঙ্গা পিচ্ছিল পথে যুদ্ধ করতে না যায় বরং নিজ বিছানাতেই ইন্তেকাল করেন (সুবহানাল্লাহ)।”

ইবনু আসিমিন রহ. ঐতিহাসিক গ্রন্থ 'রিয়াজুস সালেহিন' নামক কিতাবে বলেন, মানব যখন আল্লাহকে ডাকে আর বলে, 'হে আল্লাহ! আমি তোমার রাস্তায় শাহাদাতের অমৃত সুধাপানের কামনা করছি। তখন তার এ আবেগমাখা কথাগুলো শহিদদের ভান্ডারে রাখা হয় এবং তাকে শুহাদার মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। কেননা আল্লাহই ভালো জানেন তার হৃদপিন্ডে জমে থাকা কামনা সম্পর্কে। সেজন্য আল্লাহ তায়ালা তাকে শহিদি মর্যাদা দান করেন। যদিও সে খুনরাঙ্গা পিচ্ছিল পথে যুদ্ধ করতে নিজের শক্তিকে ব্যয় না করে নিজ বিছানায় ইন্তেকাল করেন। (আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দান করবেন কেবল শাহাদাতের কামনা করার জন্য)।

টিকাঃ
[৭৯] সহিহ মুসলিম: ১৫৭১।
[৮০] পৃষ্ঠা: ১/২৮৫।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 আসো জান্নাতে বাড়ি বানাই...

📄 আসো জান্নাতে বাড়ি বানাই...


আসো জান্নাতে বাড়ি বানাই মসজিদ নির্মাণ:
হে যুবক! তুমি যদি মসজিদ নির্মাণ করো, তাহলে আল্লাহ তায়ালাও তোমার জন্য জান্নাতের সুখময় উদ্যানে বাড়ি নির্মাণ করবেন। তুমিও হয়ে যাবে জান্নাতের বাড়িওয়ালা। হে যুবক! জানো ঐ জান্নাতে বাড়ির দাম কত? অংকটা কখনো কষবে না।

নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মসজিদ নির্মাণ করে যদিও তা ছোট্ট গর্তের মতো হয়ে থাকে, বা তার থেকেও ছোট্ট হয়। তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন।”

ইবনু হাজার আসকালানি রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসে নববিতে 'মসজিদ' শব্দটি নাকেরা তথা সাধারণভাবে উল্লেখ রয়েছে, তাই এ হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী মসজিদ ছোট হোক বা বড় হোক আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত নির্মাণ করে দিবেন।

আমি বলব—এমনকি যদি কেউ মসজিদ নির্মাণে একটি ইটও দান করেন, তার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিপুল সওয়াব দান করে তাকে জান্নাত দান করবেন। একথা সবারই জানা আছে যে, যার সামর্থ নেই সেও যদি আল্লাহর প্রেম ও জান্নাতের আশায় একটি ইটও দান করে। প্রিয়তম প্রভু তাকে প্রেমের ফসল হিসেবে জান্নাতে বিশাল বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। প্রিয় ভাই! আসো আমরা মসজিদ নির্মাণ করে জান্নাতের আলীশান বাড়ি বানিয়ে নেই।

টিকাঃ
[৮১] সহিহ আল-জা'মে: ৬১২৮।
[৮২] ফাতহুল বারি: ২/১৮৩।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাতের পথে চলুন

📄 জান্নাতের পথে চলুন


সকাল-সন্ধ্যা মসজিদের দিকে গমন:
হে যুবক ভাই! তুমি যদি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদের দিকে আসা-যাওয়া করতে পারো তাহলে তুমি তোমার জান্নাতের দিকে আসা-যাওয়া করলে। কেননা জান্নাতের সুখের নীড়ে বাড়ি নির্মাণ করার অন্যতম মাধ্যম হলো আল্লাহর প্রিয় ঘর মসজিদে আসা-যাওয়া। এমনই ঘোষণা করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
“যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদের দিকে গমন করবে, আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে তার জন্য মেহমানের ব্যবস্থা করে রাখবেন। যতবার মসজিদে গমন করবেন, ততবারই মেহমানদারির ব্যবস্থা করে দিবেন। (সুবহানাল্লাহ!)।”

ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসে মসজিদের দিকে গমনের দ্বারা সবই উদ্দেশ্য। যেমন সালাত, ইলম শিক্ষা ও অন্য কোনো দ্বীনি কাজও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম ও অন্য কোনো দ্বীনের কাজ করার জন্য মসজিদের দিকে গমন করলো আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে পান্থশালা নির্মাণ করে রাখবেন। প্রিয় ভাই! তুমি যদি প্রতিদিন মসজিদে শুধুমাত্র পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের জন্য গমন করো, আল্লাহ তোমার জন্য প্রতিদিন পাঁচটি পান্থশালা তৈরী করে রাখবেন.

আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়ার জন্য মসজিদের দিকে গমন করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি হজ্বের সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি নফলের জন্য মসজিদে গমন করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি ওমরার সওয়াব দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

টিকাঃ
[৮৩] সহিহ বুখারি: ৬৬২।
[৮৪] শরহে রিয়াজুস সালেহিন : ৩/২০২।
[৮৫] সহিহুল জামে : ৬৫৫৬।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাতের জন্য কিছু সময়

📄 জান্নাতের জন্য কিছু সময়


নামাজের জন্য কিছু সময়: এ দ্বীনকে সমুন্নত করতে জীবন দিয়েছেন অসংখ্য সাহাবায়ে কেরাম। বুকের তপ্ত রক্তের সয়লাবে যে পথ তারা ধুয়ে-মুছে দিয়েছেন, সে পথে আমরা আজো হাঁটছি। প্রতিদিনই তারা জীবন দিয়েছেন দ্বীন ও আল্লাহর ভালোবাসায়। জান্নাতের আশায়। হে যুবক! যদি আল্লাহ তায়ালার কদমে সিজদা করার জন্য কিছু সময় ব্যয় করো, তাহলে আল্লাহ তায়ালাও তোমাকে পরম বন্ধু বানিয়ে জান্নাতে বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে বান্দা আল্লাহর কদমে সিজদা করতে কাতারে নিজেকে আটকিয়ে রাখবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন.

প্রিয় বন্ধু, তুমি যদি প্রতিদিন পাঁচবার নামাজের জন্য কাতারে নিজেকে আটকিয়ে রাখো, তাহলে আল্লাহ তায়ালাও তোমার জন্য প্রতিদিন জান্নাতে পাঁচটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। যে বাড়িগুলো কেবল সুখের, তাতে কোনো দুঃখ-দুর্দশা নেই। তাহলে হিসাব করে দেখো—যদি তুমি সবসময় মসজিদে সালাত পড়ো তাহলে কতগুলো জান্নাত হবে। আল্লাহ তায়ালা কি সহজে তোমাকে জান্নাত দিচ্ছেন। তিনি কত দয়ালু। আছো কি কোনো যুবক? জান্নাতকে পেতে কিছু সময় দিবে? মাত্র তিন-চার মিনিটে তুমি পারবে জান্নাতের সুখময় উদ্যানে বাড়ি নির্মাণ করতে।

টিকাঃ
[৮৬] সিলাসিলা সহিহা: ১৮৯২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00