📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাতের মালিক তুমিও হবে

📄 জান্নাতের মালিক তুমিও হবে


আল্লাহর ভয়: আল্লাহর প্রতি তাকওয়া বা ভয় মানুষকে জান্নাতের পথে পথিকৃত করে। বিশেষ করে রমজান মাসে রোযার মাধ্যমে প্রভুর ভয়-ভীতি হৃদয়ে বদ্ধমূল করা সহজ হয়ে থাকে। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
“হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর ফরয করা হয়েছিলো। যেন তোমরা পরহেযগারী হতে পারো।”

যারা প্রভুর তাকওয়া বা প্রভুকে ভয় করবে, তারা জান্নাতের হাজারো নেয়ামতের সাগরের অতলে ডুবে যাবে। তাদের মুখে ফুটবে আনন্দ ও খুশির ঢেউ। ম্লান হবে দুনিয়ার হাজারো কষ্ট। তারা কখনো কষ্টে নিপতিত হবে না, এমনই ওয়াদা করেছেন মহান প্রভু। পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“যারা পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্য নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের উপর প্রাসাদ। এগুলোর তলদেশে নদি প্রবাহিত। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করবেন না।”

ইবনু কাসির রহ. উপরোক্ত আয়াতে বলেন, জান্নাতে তাকওয়া অর্জনকারীর এমন কুঠির ও শাহী মহল হবে, যা একটি অপেক্ষা অন্যটি উঁচু ও আলীশান।

তাকওয়ার চমৎকার একটি ব্যাখা করতে গিয়ে প্রিয় সাহাবি আলি রা. বলেন, প্রভুর ভয় হৃদয়ে গেঁথে নেওয়া, আল্লাহর নাযিলকৃত জিনিষের উপর আমল করা, আল্লাহর দেয়া সমস্ত নেয়ামতের সন্তুষ্টি ও জগতের মায়া ত্যাগ করতঃ পরকালের জন্য পাথেয় গ্রহণ করতে চেষ্টার নাম হলো তাকওয়া বা খোদার ভয়।

ইবনু মাসউদ রা. “তোমরা আল্লাহকে ভয় করার মতো ভয় করো।” (সুরা আলে ইমরান: ১০২) এ আয়াতের ব্যাখা করতে গিয়ে বলেন, আল্লাহর আনুগত্য করা, তার বিরোধিতা না করা, আল্লাহকে স্মরণ করা, তাকে ভুলে না যাওয়া এবং তাঁর দেয়া নেয়ামতের উপর শোকর করা, অকৃতজ্ঞ না হওয়া হলো তাকওয়ার অর্থ। কিন্তু যদি প্রভুর নেয়ামতের শোকর করা হয়, তাহলে তার মধ্যে সবই অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ শোকর করলে আল্লাহকে স্মরণ হয়।

তালক বিন হাবিব রা. বলেন, তাকওয়া বা খোদাভীতি হলো আল্লাহর প্রেমের প্রতিদান ও তার কঠোর আজাবের ভয় এবং তার নুরের (আলোর) আশায় গুনাহ ও পাপকে ছেড়ে দেওয়া। আবু দারদা রা. বলেন, আল্লাহকে পরিপূর্ণভাবে ভয় করা। এমনকি ক্ষুদ্র থেকে অতি ক্ষুদ্র পরিমাণের বিষয়েও তাকে ভয় করা হলো তাকওয়া। এমনিভাবে কোনো কাজ হারাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সেটাকে হারাম মনে করে ছেড়ে দেওয়া এবং এটাও মনে করা যে, হয়ত এ সামান্য হারাম আমার এবং আল্লাহর মাঝে প্রতিবন্ধক হতে পারে। এগুলো হলো তাকওয়ার অর্থ। কেননা আল্লাহ তায়ালা হালাল-হারাম সবকিছুই সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
“কোনো ব্যক্তি অণু পরিমান ভালো কাজ করলে, তাও আখেরাতে দেখতে পাবে। আবার কেউ অণু পরিমাণ অসৎ কর্ম করে তাও দেখতে পাবে।”

উপরোক্ত আয়াতে এটাই বুঝা যায় যে, কোনো ভালো কাজ সামান্য হলেও তা করে যাওয়া এবং কোনো খারাপ কাজ সামান্য হলেও তা না করে বেঁচে থাকা হলো “তাকওয়া”।

সুফিয়ান সাওরি রহ. বলেন, মুমিনকে মুত্তাকি এই জন্য বলা হয় যে, তারা এমন জিনিষ থেকে বেঁচে থাকে যা অন্যান্য ব্যক্তিরা বাঁচতে সক্ষম হয় না। ইবনু আব্বাস রা. বলেন, মুত্তাকি বলা হয় তাদেরকে, যারা আল্লাহর শাস্তির ভয়ে নিজেরা যেটাকে ভালো মনে করে সেটাকে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ যা আদেশ করেন সেটা থেকে রহমত কামনা করে। আর আল্লাহ যা আদেশ করেছেন সে অনুযায়ী আমল করে।

হাসান বসরি রহ. বলেন, তাকওয়া হলো—আল্লাহ যা হারাম করেছেন সেগুলো থেকে নিজেকে সংযত রাখা, আর আল্লাহ যা আদেশ করেছেন সেগুলোকে আদায় করে যাওয়া।

ওমর বিন আব্দুল আজিজ রহ. বলেন, শুধু দিনের বেলায় মুখে কোনো খাবার না দেওয়া রাতের আধাঁরে নামাজে দাড়ানোর নাম তাকওয়া নয়, তাকওয়া হলো আল্লাহ যা আদেশ করেছেন সেগুলো করে যাওয়া এবং তিনি যা হারাম করেছেন সেগুলোকে ছেড়ে দেওয়া। এরপর ভালো কাজ করতে পারলে ভালো।

মুসা ইবনু আয়য়ূন রহিমাহুল্লাহু বলেন, যারা আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজে পতিত হওয়ার ভয়ে হালাল কাজকে বর্জন করে, তারাই হলো প্রকৃত তাকওয়া অর্জনকারী।

আসলে তাকওয়া শব্দটি সাধারণত গুনাহ থেকে বিরত থাকার অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আবু হুরায়রা রা.-কে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তুমি কোনো কাজ করতে গেলে সন্দেহের মধ্যে পতিত হও? বলা হলো জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তুমি এ কাজ কিভাবে করো? তুমি যখন কোনো সন্দেহের পথ দেখবে তখন সেটা থেকে দুরে চলে যাবে বা এড়িয়ে চলবে। এটাই তাকওয়া।

আওন বিন আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, তাকওয়া হলো আমল করার জন্য যেগুলো অজানা সেগুলো জানতে অনবরত ইচ্ছা করে যাওয়া। মারুফ কারখি রহ. বলেন, যখন তোমার মন চায় সুদ খেতে, বা কোনো পরনারির সাথে সাক্ষাত করতে, অথবা দৃষ্টিকে নিবদ্ধ রাখতে মন না চায়। তাহলে মনে রেখ! এগুলো থেকে বিরত থাকার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখার নামই হলো তাকওয়া।

ইবনু রজব হাম্বলি রহ. বলেন—বান্দার উপর আল্লাহর যেসব কারণে রাগ ও ক্রোধ জেগে থাকে সেগুলোকে ছেড়ে দেওয়া, আর যেসব কাজে হৃদয় সাগরে আল্লাহর প্রেম জাগে সেগুলো করে যাওয়া হলো তাকওয়া।

টিকাঃ
[৭৫] সুরা বাকারা: ১৮৩।
[৭৬] সুরা যুমার: ২০।
[৭৭] তাফসিরে ইবনু কাসির: ৪/৬৪।
[৭৮] সুরা যিলযাল: ৭-৮।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত পাওয়ার আশা করতে হবে...

📄 জান্নাত পাওয়ার আশা করতে হবে...


জান্নাত পাওয়ার আশা করতে হবে হৃদপিন্ডে শাহাদাতের কামনা থাকতে হবে:
প্রিয় যুবক! যদি জান্নাতের আশা করতে চাও, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাতের অমৃত সুধা পানের কামনা হৃদয়ে লালন করতে হবে। তাহলেই প্রেমময় প্রভু তোমাকে জান্নাতের সুখের নীড়ে বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। এমনই শুনেছি মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় কথামালা থেকে।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যদি কোন বান্দা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের কামনা বুকে লালন করে আল্লাহর দরবারে দোয়া-মুনাজাত করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে শহিদি মিছিলে অন্তর্ভুক্ত করে জান্নাত দান করবেন। যদিও সে বান্দা খুনরাঙ্গা পিচ্ছিল পথে যুদ্ধ করতে না যায় বরং নিজ বিছানাতেই ইন্তেকাল করেন (সুবহানাল্লাহ)।”

ইবনু আসিমিন রহ. ঐতিহাসিক গ্রন্থ 'রিয়াজুস সালেহিন' নামক কিতাবে বলেন, মানব যখন আল্লাহকে ডাকে আর বলে, 'হে আল্লাহ! আমি তোমার রাস্তায় শাহাদাতের অমৃত সুধাপানের কামনা করছি। তখন তার এ আবেগমাখা কথাগুলো শহিদদের ভান্ডারে রাখা হয় এবং তাকে শুহাদার মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। কেননা আল্লাহই ভালো জানেন তার হৃদপিন্ডে জমে থাকা কামনা সম্পর্কে। সেজন্য আল্লাহ তায়ালা তাকে শহিদি মর্যাদা দান করেন। যদিও সে খুনরাঙ্গা পিচ্ছিল পথে যুদ্ধ করতে নিজের শক্তিকে ব্যয় না করে নিজ বিছানায় ইন্তেকাল করেন। (আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দান করবেন কেবল শাহাদাতের কামনা করার জন্য)।

টিকাঃ
[৭৯] সহিহ মুসলিম: ১৫৭১।
[৮০] পৃষ্ঠা: ১/২৮৫।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 আসো জান্নাতে বাড়ি বানাই...

📄 আসো জান্নাতে বাড়ি বানাই...


আসো জান্নাতে বাড়ি বানাই মসজিদ নির্মাণ:
হে যুবক! তুমি যদি মসজিদ নির্মাণ করো, তাহলে আল্লাহ তায়ালাও তোমার জন্য জান্নাতের সুখময় উদ্যানে বাড়ি নির্মাণ করবেন। তুমিও হয়ে যাবে জান্নাতের বাড়িওয়ালা। হে যুবক! জানো ঐ জান্নাতে বাড়ির দাম কত? অংকটা কখনো কষবে না।

নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মসজিদ নির্মাণ করে যদিও তা ছোট্ট গর্তের মতো হয়ে থাকে, বা তার থেকেও ছোট্ট হয়। তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন।”

ইবনু হাজার আসকালানি রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসে নববিতে 'মসজিদ' শব্দটি নাকেরা তথা সাধারণভাবে উল্লেখ রয়েছে, তাই এ হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী মসজিদ ছোট হোক বা বড় হোক আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত নির্মাণ করে দিবেন।

আমি বলব—এমনকি যদি কেউ মসজিদ নির্মাণে একটি ইটও দান করেন, তার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিপুল সওয়াব দান করে তাকে জান্নাত দান করবেন। একথা সবারই জানা আছে যে, যার সামর্থ নেই সেও যদি আল্লাহর প্রেম ও জান্নাতের আশায় একটি ইটও দান করে। প্রিয়তম প্রভু তাকে প্রেমের ফসল হিসেবে জান্নাতে বিশাল বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। প্রিয় ভাই! আসো আমরা মসজিদ নির্মাণ করে জান্নাতের আলীশান বাড়ি বানিয়ে নেই।

টিকাঃ
[৮১] সহিহ আল-জা'মে: ৬১২৮।
[৮২] ফাতহুল বারি: ২/১৮৩।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাতের পথে চলুন

📄 জান্নাতের পথে চলুন


সকাল-সন্ধ্যা মসজিদের দিকে গমন:
হে যুবক ভাই! তুমি যদি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদের দিকে আসা-যাওয়া করতে পারো তাহলে তুমি তোমার জান্নাতের দিকে আসা-যাওয়া করলে। কেননা জান্নাতের সুখের নীড়ে বাড়ি নির্মাণ করার অন্যতম মাধ্যম হলো আল্লাহর প্রিয় ঘর মসজিদে আসা-যাওয়া। এমনই ঘোষণা করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
“যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদের দিকে গমন করবে, আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে তার জন্য মেহমানের ব্যবস্থা করে রাখবেন। যতবার মসজিদে গমন করবেন, ততবারই মেহমানদারির ব্যবস্থা করে দিবেন। (সুবহানাল্লাহ!)।”

ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসে মসজিদের দিকে গমনের দ্বারা সবই উদ্দেশ্য। যেমন সালাত, ইলম শিক্ষা ও অন্য কোনো দ্বীনি কাজও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম ও অন্য কোনো দ্বীনের কাজ করার জন্য মসজিদের দিকে গমন করলো আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে পান্থশালা নির্মাণ করে রাখবেন। প্রিয় ভাই! তুমি যদি প্রতিদিন মসজিদে শুধুমাত্র পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের জন্য গমন করো, আল্লাহ তোমার জন্য প্রতিদিন পাঁচটি পান্থশালা তৈরী করে রাখবেন.

আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়ার জন্য মসজিদের দিকে গমন করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি হজ্বের সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি নফলের জন্য মসজিদে গমন করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি ওমরার সওয়াব দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

টিকাঃ
[৮৩] সহিহ বুখারি: ৬৬২।
[৮৪] শরহে রিয়াজুস সালেহিন : ৩/২০২।
[৮৫] সহিহুল জামে : ৬৫৫৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00