📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান

📄 আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান


জান্নাত যেতে হলে সবার আগে ইমান থাকতে হবে। প্রত্যেক মুমিনই প্রেমময় প্রভুর প্রতি ইমান এনে থাকে, কিন্তু জান্নাত পেতে হলে মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ইমানের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা বদ্ধমুল করে নিতে হবে। হৃদয়ের প্রতিটি দরজা-জানালাতে আল্লাহর প্রতি ইমানের বাতাস বয়ে দিতে হবে। কেবল শুধু ইমান আনলেই হবে না, বরং সবকিছুকে হৃদপিন্ডে গেঁথে নিতে হবে। তবেই সে পাবে জান্নাতের ঠিকানা। যে হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস, ভরপুর ইমান নিয়ে এই জগত ত্যাগ করবে; পরকালে প্রভু তার জন্য জান্নাতের সুখময় উদ্যানে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। কেনইবা দিবেন না সুখের নীড়ে একটি বাড়ি? কারণ, এমনই সুসংবাদ জানা গেছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখনিঃসৃত বরকতময় কথামালা থেকে।

নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
'মুমিনের জন্য জান্নাতে হীরা-মুক্তা খচিত একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়, যার দীর্ঘতা হচ্ছে আকাশসম। জান্নাতিদের জন্য কিছু লোকও থাকবে যারা তাদের চারদিকে ঘুরতে থাকবে; কিন্তু কেও কাউকে দেখতে পাবে না."

প্রিয় বন্ধু! যদি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ইমান নিয়ে আমরা এই ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানা থেকে বিদায় নিতে পারি, তবেই আমরা জান্নাতের টিকেট পেয়ে চলে যেতে পারবো জান্নাতের সুখময় উদ্যানে।

টিকাঃ
[৬৯] সহিহ বুখারি: ৩২৮৩; সহিহ মুসলিম: ২৮৩৮।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 নেক আমল করতে হবে

📄 নেক আমল করতে হবে


আল্লাহর প্রতি ইমান আনার পর জান্নাত পেতে হলে সবচেয়ে সেরা আমল হলো সৎকর্ম ও নেক আমল করে যাওয়া। বিশেষ করে রমজান মাসে নেক আমলের সওয়াব অনেক বেশি। আল্লাহ তায়ালা তা দ্বিগুণ করে দেন। জান্নাতের সুসংবাদে পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
“তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করবে না। তবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারা তাদের কর্মের বহুগুণ প্রতিদান পাবে। এবং তারা সুউচ্চ প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে."

উপরোক্ত আয়াতে ইবনু কাসির রহিমাহুল্লাহ বলেন, যারা এই ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানায় আল্লাহর জন্য আমল করে যাবেন, তারা আল্লাহর দরবারে আলীশান জান্নাতে সুখের নীড়ে থাকবেন, যেখানে তারা সকল ভয়-ভীতি, শঙ্কা, কষ্ট-ক্লেশ ও ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবে। সেখানে কেবল তারা সুখের সাগরে ভাসতে থাকবে। সে সুখ শেষ হবার মতো নয়, ফুরিয়ে যাবার মতোও নয়।

টিকাঃ
[৭০] সুরা সাবা: ৩৭।
[৭১] ইবনু কাসির : ৩/৭১৪।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 যে আমলে জান্নাত মিলে

📄 যে আমলে জান্নাত মিলে


নেক আমল এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের মাধ্যমেই আল্লাহর জান্নাত পাওয়া যায়। পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“হে মুমিনগণ! তোমাদের কি এমন এক বাণিজ্যের সংবাদ দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দিবে? তা এই যে তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে (জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ) নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ দিয়ে জিহাদ করবে, এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝো। তিনি তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং জান্নাতে দাখিল করাবেন, যার পাদদেশে নদি প্রবাহিত এবং বসবাসের জান্নাতে উত্তম বাসগৃহে। এটা মহাসাফল্য।”

ইবনু কাসির রহ. উপরোক্ত আয়াতের ক্ষেত্রে বলেন, আমি তোমাদের যে সব বিষয়ে আদেশ করেছি, যদি তোমরা সে সব পথে হেঁটে চলতে পারো, তাহলে তুমি পেয়ে যাবে সফলতার পথ; জান্নাতের সুখের নীড়। আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন তোমার যত অন্যায়, পাপ। অর্জন হবে তোমার জন্য জান্নাতের সোনালি স্থান। আলীশান মর্যাদায় থাকবে তুমি। যা তুমি আজ অবদি দেখোনি। কল্পনাও করোনি কখনো তুমি।

টিকাঃ
[৭২] সুরা সাফ: ১০-১২।
[৭৩] তাফসিরে ইবনু কাসির: ৪/৪৬৪।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাত যদি পেতে চাও

📄 জান্নাত যদি পেতে চাও


নবিগণকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা: তুমি যদি জান্নাতের সেই সুখময় উদ্যান পেতে চাও, যেখানে কোনো বিরক্তির আওয়াজ ও কোনো সাড়া-শব্দ নেই। সেখানটা কেবল গাছ-গাছালি, ফুল-ফলে ভরা। ডালে-ডালে পাখ পাখালির মিষ্টি কলরব। ছন্দময় সুরে বয়ে যাওয়া ঝর্ণাধারা। জোৎস্না রাতে চাঁদের সাথে মাটির সবুজ প্রকৃতির অপূর্ব-অদ্ভুত মিতালি। তাহলে নবিগণের প্রতি তোমার বিশ্বাস থাকতে হবে। তবেই পাবে তুমি জান্নাত।

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
“নিশ্চয় জান্নাতের অধিবাসিরা তাদের উপরের অধিবাসিদের দেখেতে পাবে, যেমন উজ্জল চাঁদকে দিগন্তের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত দেখা যায়; তাদের মাঝে অনেক দুরত্ব থাকা সত্ত্বেও। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সেখানে তো কেবল নবিরাই থাকবে। উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার হাতে আমার জীবন, তার কসম করে বলছি, সেখানে ঐ সকল ব্যক্তিরাও থাকবে যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করেছে এবং নবিগণকে বিশ্বাস করেছে."

টিকাঃ
[৭৪] সহিহ বুখারি: ৩২৫৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00