📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 শেষ কথা...

📄 শেষ কথা...


প্রিয় যুবক বন্ধু! তুমি যদি আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসে জান্নাতের আমল করে জান্নাতকে কিনে নাও তাহলে সৃষ্টিকুলে শ্রেষ্ঠ মানবের অমিয় বাণীটি স্মরণ করিও, যেখানে তিনি বলেছেন-
“যে ব্যক্তি কাউকে কোনো ভালো কাজের সন্ধান দেয়, তাহলে যে সন্ধান দিল সে ততটুকু সওয়াব পাবে যতটুকু আমলকারী পাবে।”

সুসংবাদ সে সব সৌভাগ্যবান মানবের জন্য যারা পথহারা ব্যক্তিকে জান্নাতের পথে ডাকে ও পথ দেখায়। চাই তা ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে হোক, বা যে কোনো উপায় হোক, তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির কামনা করে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে এবং মানুষকে সঠিক পথে পথিকৃৎ করেন কেবল আল্লাহর ভালোবাসা ও তার সন্তুষ্টির কামনায়। চাই তা ইন্টারনেট, অনুবাদ ও লেখালেখির মাধ্যমে অথবা প্রিয় নবির হাদিসের মাধ্যমে ডাকে জান্নাতের আশায়। তার জন্য প্রিয় নবিজির সে হাদিসই যথেষ্ট যেখানে তিনি বলেছেন-
“আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে প্রফুল্লচিত্ত ও সুখে-শান্তিতে রাখুন যে আমার হাদিস শুনলো এবং তা মুখস্থ করে অন্যের নিকট পৌঁছে দেন।”

টিকাঃ
[৬৭] মুসনাদু আহমাদ: ১৭০৮৪।
[৬৮] সহিহুল জামে: ৬৭৬৪।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান

📄 আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান


জান্নাত যেতে হলে সবার আগে ইমান থাকতে হবে। প্রত্যেক মুমিনই প্রেমময় প্রভুর প্রতি ইমান এনে থাকে, কিন্তু জান্নাত পেতে হলে মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ইমানের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা বদ্ধমুল করে নিতে হবে। হৃদয়ের প্রতিটি দরজা-জানালাতে আল্লাহর প্রতি ইমানের বাতাস বয়ে দিতে হবে। কেবল শুধু ইমান আনলেই হবে না, বরং সবকিছুকে হৃদপিন্ডে গেঁথে নিতে হবে। তবেই সে পাবে জান্নাতের ঠিকানা। যে হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস, ভরপুর ইমান নিয়ে এই জগত ত্যাগ করবে; পরকালে প্রভু তার জন্য জান্নাতের সুখময় উদ্যানে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। কেনইবা দিবেন না সুখের নীড়ে একটি বাড়ি? কারণ, এমনই সুসংবাদ জানা গেছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখনিঃসৃত বরকতময় কথামালা থেকে।

নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
'মুমিনের জন্য জান্নাতে হীরা-মুক্তা খচিত একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়, যার দীর্ঘতা হচ্ছে আকাশসম। জান্নাতিদের জন্য কিছু লোকও থাকবে যারা তাদের চারদিকে ঘুরতে থাকবে; কিন্তু কেও কাউকে দেখতে পাবে না."

প্রিয় বন্ধু! যদি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ইমান নিয়ে আমরা এই ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানা থেকে বিদায় নিতে পারি, তবেই আমরা জান্নাতের টিকেট পেয়ে চলে যেতে পারবো জান্নাতের সুখময় উদ্যানে।

টিকাঃ
[৬৯] সহিহ বুখারি: ৩২৮৩; সহিহ মুসলিম: ২৮৩৮।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 নেক আমল করতে হবে

📄 নেক আমল করতে হবে


আল্লাহর প্রতি ইমান আনার পর জান্নাত পেতে হলে সবচেয়ে সেরা আমল হলো সৎকর্ম ও নেক আমল করে যাওয়া। বিশেষ করে রমজান মাসে নেক আমলের সওয়াব অনেক বেশি। আল্লাহ তায়ালা তা দ্বিগুণ করে দেন। জান্নাতের সুসংবাদে পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
“তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করবে না। তবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারা তাদের কর্মের বহুগুণ প্রতিদান পাবে। এবং তারা সুউচ্চ প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে."

উপরোক্ত আয়াতে ইবনু কাসির রহিমাহুল্লাহ বলেন, যারা এই ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানায় আল্লাহর জন্য আমল করে যাবেন, তারা আল্লাহর দরবারে আলীশান জান্নাতে সুখের নীড়ে থাকবেন, যেখানে তারা সকল ভয়-ভীতি, শঙ্কা, কষ্ট-ক্লেশ ও ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবে। সেখানে কেবল তারা সুখের সাগরে ভাসতে থাকবে। সে সুখ শেষ হবার মতো নয়, ফুরিয়ে যাবার মতোও নয়।

টিকাঃ
[৭০] সুরা সাবা: ৩৭।
[৭১] ইবনু কাসির : ৩/৭১৪।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 যে আমলে জান্নাত মিলে

📄 যে আমলে জান্নাত মিলে


নেক আমল এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের মাধ্যমেই আল্লাহর জান্নাত পাওয়া যায়। পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“হে মুমিনগণ! তোমাদের কি এমন এক বাণিজ্যের সংবাদ দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দিবে? তা এই যে তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে (জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ) নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ দিয়ে জিহাদ করবে, এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝো। তিনি তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং জান্নাতে দাখিল করাবেন, যার পাদদেশে নদি প্রবাহিত এবং বসবাসের জান্নাতে উত্তম বাসগৃহে। এটা মহাসাফল্য।”

ইবনু কাসির রহ. উপরোক্ত আয়াতের ক্ষেত্রে বলেন, আমি তোমাদের যে সব বিষয়ে আদেশ করেছি, যদি তোমরা সে সব পথে হেঁটে চলতে পারো, তাহলে তুমি পেয়ে যাবে সফলতার পথ; জান্নাতের সুখের নীড়। আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন তোমার যত অন্যায়, পাপ। অর্জন হবে তোমার জন্য জান্নাতের সোনালি স্থান। আলীশান মর্যাদায় থাকবে তুমি। যা তুমি আজ অবদি দেখোনি। কল্পনাও করোনি কখনো তুমি।

টিকাঃ
[৭২] সুরা সাফ: ১০-১২।
[৭৩] তাফসিরে ইবনু কাসির: ৪/৪৬৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00